নিজস্ব সংবাদদাতা, বলরামপুর: বিদ্যালয়ে পড়ুয়ার সংখ্যা ১৬২ জন। আর শিক্ষক সংখ্যা মাত্র একজন। আর এই একজন শিক্ষক দিয়েই চলছে একটা গোটা বিদ্যালয়। বরবাজার ব্লকের ডিগারডি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমনই চিত্র দেখা গিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানাগিয়েছে, ডিগারডি নিম্ন বুনিয়াদি বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে সমস্যায় রয়েছে। বিদ্যালয়ের একাধিক শ্রেণীর ছাত্র ছাত্রীদের একসাথে বসানো হয়। কখনো এক রুমে পড়িয়ে, অন্য রুমে গিয়েও পড়াতে হয়। আবার কখনো করতে হয় মিড ডে মিল তদারকি। সমস্ত কিছু একাই সামলাচ্ছেন বিদ্যালয়ের একমাত্র শিক্ষক। পুরুলিয়া জেলার বরাবাজার ব্লকের বরাবাজার তিন নম্বর চক্রের বেড়াদা এলাকায় রয়েছে দিগারডি নিম্ন বুনিয়াদি বিদ্যালয়। জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালে শিক্ষক বামাপদ বাউরী ওই বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। সেই সময় আর একজন শিক্ষক ছিলেন। দুজন শিক্ষক নিয়ে টেনেটুনে বিদ্যালয়ের পঠন পাঠন চলছিল। কিন্তু, গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে ওই একজন শিক্ষকের বদলি হয়ে যায়। ফলে বিদ্যালয়ের একমাত্র শিক্ষক সমস্যায় পড়েছেন।

বামাপদ বাউরি বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থা ভালো নেই। এতো গুলো ছাত্রছাত্রী নিয়ে একা স্কুল সামলাতে হচ্ছে। অনেক সময় খুদে পড়ুয়ারা নিজেদের মধ্যে মারামারি করে। মাথা ফেটে যাওয়ার মত ঘটনাও ঘটেছে। আমি একা কতটা সামলাবো? খুব অসুবিধার মধ্যে আছি। কিন্তু কিছু করার নেই। কাকে কী বলবো। গ্রামবাসীরা বলেন, দুজন শিক্ষক নিয়ে তবুও ঠিকঠাক চলছিল। কিন্তু একা কেউ কী করে চালাবে। তাছাড়া এইভাবে পড়াশুনা চলবে কী করে। ওই শিক্ষক তো অফিসের মিটিং বা কোথাও গেলে আরও সমস্যা। কবে স্কুলে আরও শিক্ষক আসবে কেউ জানেনা। এবিষয়ে পুরুলিয়া জেলা শিক্ষা দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় ইতিমধ্যে সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হয়েছে। গোটা জেলাতে এক শিক্ষক বিশিষ্ট স্কুলগুলিকে চিহ্নিত করে ওই স্কুলগুলিতে অন্য বিদ্যালয় থেকে সারপ্লাস শিক্ষকদের পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে তালিকাও তৈরি হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ওই তালিকা নিয়ে বেশ কিছু আপত্তির কথা জানিয়েছে একাধিক সংগঠন। কিছু ভুল থাকলে তা সংশোধন করে নতুন তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

You cannot copy content of this page