নিজস্ব সংবাদদাতা , পুরুলিয়া
১৫ সেপ্টেম্বর , ২০২০

বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা দলীয় কার্যালয়ে তৃণমূল কংগ্রেস ব্লক সভাপতি সহ জেলা কমিটি ঘোষনা করেছে। আর তারপর থেকেই একদিকে যেমন বিস্তর আলোচনা, অন্যদিকে তেমনি কটাক্ষও শুরু হয়েছে দলেরই অন্দরে। সদ্য প্রকাশিত দলের কমিটির তালিকা দেখে একাংশের কটাক্ষ, “দলীয় কর্মসূচিতে মঞ্চ ভেঙে পড়বে না তো! কেননা পুরুলিয়ায় আমাদের মাননীয়া নেত্রীর কর্মসূচিতেও তাঁর নিরাপত্তার প্রটোকল ভেঙে যেভাবে দলে দলে মঞ্চে উঠে পড়েন নেতা-নেত্রীরা” তাতে এই আশঙ্কা যে একেবারেই অমূলক নয়, তাদের দাবি এরকমই। কেউ কেউ আবার একধাপ এগিয়ে কটাক্ষ করেছেন, ” কমিটির বাইরে তাহলে আর কজন রইলেন দলের?” বিগত চার-পাঁচ দিন ধরে নিজেদের মধ্যে সাক্ষাতে বা ফোনাফুনিতে দলেরই একাংশের মধ্যে রীতিমত চলছে এই কটাক্ষের আলোচনা।

প্রসঙ্গত ১৮৬ জনের পুরুলিয়া জেলা কমিটিতে ১৮ জন সহ সভাপতি , ৩৩ জন সাধারণ সম্পাদক , ৪৯ জন সম্পাদক , ৭৯ জন সদস্য সহ অন্যান্য পদাধিকরীর নাম রয়েছে।

দলের ঘনিষ্ঠদের কথায়, কমিটি ঘোষণার আগেই জেলাজুড়ে দলের ক্ষোভ সামনে চলে আসতে যেভাবে সবাইকেই কোন না কোন পদ দেওয়ার দিকে এগোতে হয়েছে জেলা নেতৃত্বকে, তাতে নামের তালিকা ক্রমশঃ দীর্ঘতর হয়েছে। তবে জেলাতে দলের সংগঠনকে যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে চেনেন তাঁরা কিন্তু কটাক্ষের দিকে যাচ্ছেন না। তবে তাঁরা তাঁদের পূর্ব অভিজ্ঞতায় ভর করে আগামীদিনে জেলাতে দলের সাংগঠনিক অস্তিত্বের বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। মধ্যে কেউ কেউ বলছেন, “যদিও বিগত জেলা সভাপতির সময় থেকেই দীর্ঘ কমিটির প্রচলন, তবে এবার তা তাকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে”। তাঁদের জোর প্রশ্ন, “একি কেবল কাগুজে কমিটি হল, না কী কাজের? এত মেম্বার নিয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত হবে কি করে? তাছাড়া শুদ্ধিকরণের নামে যাঁদের ব্লক স্তরে বাদ দেওয়া হয়েছে, সংঘাত ঠেকাতে তাঁদেরই আবার জেলাতে পদ দেওয়া হল। তাহলে দুর্নীতি মুক্ত সংগঠন হল কোথায়? ” পূর্ব অভিজ্ঞতায় ভর দিয়ে কিছু বর্ষীয়ান নেতাদের সরাসরি বক্তব্য, “বিগত দিনে দেখেছি দীর্ঘতর কমিটির জন্য বিরাট অংশের কমিটি সদস্যদের কোন কর্মসূচিতেই যুক্ত করা যায় নি। এবারে তো পরিস্থিতি আরো জটিল। সবাইকে কাজের দায়িত্ব না দিতে পারলে অনেকেই আবার দূরে সরে থাকবেন। তাহলে এত বড় কমিটির আর গুরুত্বটা থাকলো কোথায়?”

শেয়ার করুন

You cannot copy content of this page