নিজস্ব সংবাদদাতা , পুরুলিয়া :
৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

গত বছরের আগস্ট – সেপ্টেম্বর মাসে উত্তরাখন্ডে তপােবন-বিষুগড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে ঠিকা শ্রমিকের কাজ করতে যান আড়ষা থানার বাগানডি গ্রামের বাসিন্দা অশ্বিনী তন্তুবায় (২৮) এবং তার খুড়তুতাে ভাই শুভঙ্কর তন্তুবায় (২০)। রবিবার উত্তরাখন্ডে ধ্বস এবং হড়পা বানের পর থেকেই নিখোঁজ দুই ভাই। এখনও খোঁজ না পেয়ে আড়ষা থানার বাগানডিতে তাদের পরিবারে নেমে এসেছে আশঙ্কা ও ভীতি। পরিজনরা ভেঙে পড়েছেন কান্নায়। জানা গিয়েছে, উত্তরাখন্ডের ওই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে গত আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাস নাগাদ ঠিকা শ্রমিকের কাজ করতে যান তাঁরা। দুজনেই পাইপ লাইনে ওয়েলডিংয়ের কাজে গিয়েছিলেন।রবিবারসকালে শেষবার তাঁদের সঙ্গে পরিবারের কথা হয়। তারপর থেকেই তাঁদের সঙ্গে আর যােগাযােগ করতে পারেননি পরিবারের সদস্যরা। শুভঙ্করবাবুর দাদা রবীন্দ্রনাথ তন্তুবায় বলেন, শুভঙ্করের সঙ্গে শনিবার শেষবার কথা হয়েছিল। ওকে আমার মােবাইলে রিচার্জ করে দিতে বলেছিলাম।কিন্তু ওর অ্যাকাউন্টে তেমন টাকা না থাকায় সেটা করতে পারেনি।

রবিবার ওর সঙ্গেই থাকা অশ্বিনীর সঙ্গে ফোনে কথা হয়। সকাল ১০টা নাগাদ কথা হয়েছিল। সে সময় ওরা পাইপ লাইনে ওয়েলডিংয়ের কাজ করছিল। আমি মােবাইলে রিচার্জ করে নিয়েছি তা শুভঙ্করকে জানিয়ে দিতে বলেছিলাম। ওখানে কাজকর্মে ওরা খুশি
ছিল। উত্তরাখন্ডের কাজকর্মের খবর নেওয়ার পরই সেদিন ফোন রেখে দিয়েছিলাম। তার
৩০ মিনিট মতাে পরেই ওরা যেখানে ছিল সেই জায়গায় ভয়াবহ ধ্বসের কথা টিভিতে দেখতে পেয়ে আঁতকে উঠি।তারপর বারবার ফোন করেও আর যােগাযােগ করতে পারিনি।
ঠিকাদার সংস্থার সঙ্গে যােগাযােগ করেও কোনও সুরাহা হয়নি। টোল ফ্রি নাম্বারও সব সময় ব্যস্ত থাকায় ফোন করেও লাভ হয়নি। কিভাবে খোঁজ পাবাে বুঝতে না পেরে আড়ষা\থানাতেও জানাই। শুভঙ্করের মা ভারতী দেবী বলেন, দুই ছেলেই বাইরে কাজ করে। শুভঙ্করের সঙ্গে তিন চারদিন আগেওর বাবার কথা হয়েছিল। আমার সঙ্গে আরও অনেকদিন আগে কথা হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে নিঁখোজদের বাড়িতে যান পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল যুব কংগ্রেস সভাপতি সুশান্ত মাহাতো । গ্রামের শিব মন্দিরে নিঁখোজদের মঙ্গল কামনায় পুজো দেন পরিজনদের সাথে ।

শেয়ার করুন

You cannot copy content of this page