নিজস্ব সংবাদদাতা , পুরুলিয়া
৪ আগস্ট , ২০২০

জরুরি তলব কালীঘাটের। সেকারণে,রাখি বন্ধন কর্মসূচি শেষ হতে না হতেই নাওয়া-খাওয়া ভুলে কলকাতার রাস্তা ধরেছিলেন শাসক দলের বাছাই নেতারা। সেই  বৈঠকে পুরুলিয়ার লালমাটি পুনরুদ্ধারের নকসা তৈরি করে দিলেন রাজ্য নেতৃত্ব। শুধু তাই নয়,  রাজ্যের দেওয়া রোড-ম্যাপ নিয়ে ঘরে বসে থাকলে দল যে বরদাস্ত করবেনা সেই বার্তাও এদিন স্পষ্ট করে দেয় তৃণমূলের হাইকমান্ড। দায়িত্বপ্রাপ্তদের মুখের কথাকে ধ্রুব সত্য হিসেবে দেখা হবেনা তাও ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। জেলা থেকে ব্লক স্তরের কোন নেতা  কি কর্মসূচি করছেন, কারা কতটা দায়িত্ব নিয়ে ভেঙেপড়া সংগঠন পুনরুদ্ধারের কাজ করছেন, সংগঠনের সর্বনাশ করে কারা উপদলীয় রাজনীতিতে মাতছেন, এমন সব হিসেব দল যে রাখছে এদিন তাও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়।     

তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার বিকেল চারটার কালীঘাটে পুরুলিয়ার জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে বসেন রাজ্য নেতারা। ওই বৈঠকে পুরুলিয়া জেলা তৃণমূলের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান শান্তিরাম মাহাত, সভাপতি গুরুপদর টুডু, যুব সভাপতি সুশান্ত মাহাত, কো-অর্ডিনেটরদের সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়, সুষেণ মাঝি ও মিনু বাউরি উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে মূলত ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে রণকৌশল ছাড়াও  জেলা ও ব্লক কমিটি গঠনের বিষযয়ে দীর্ঘ সময় আলোচনা হয়। একুশের কঠিন লড়াইয়ের আগে দলে দ্বন্দ্ব মেটানোর জন্য সকলকে সতর্ক করা হয়। ১৯৯৮ সাল থেকে দলের ঝান্ডা বওয়া তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের রাগ,কষ্ট ও অভিমান দূর করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে, জেলার কোন ব্লকে কি সমস্যা রয়েছে, তা জেলা নেতাদের সামনে জানতে চাওয়ার পাশাপাশি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই জেলার বিভিন্ন ব্লকে শাসক দলের গোষ্ঠী কোন্দল প্রকট হয়ে ওঠে। যার ফল দেখা গেছে বিগত পঞ্চায়েত ও লোকসভা নির্বাচনে। তোষণ রাজনীতির কারণে এখনও অনেক ব্লকে  একাধিক গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে। রীতিমতো অফিস খুলে উপদলীয় রাজনীতি চালানো হচ্ছে। দলেরই অন্দরে প্রাক্তন সভাপতির বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ ওঠে। অনেক নেতার অভিযোগ, তিনি প্রতিটি সমস্যা ‘দেখছি দেখব করে এড়িয়ে গিয়েছেন’।  ফলে সংকট কাটার পরীবর্তে তা আরও বেশি করে ঘনীভূত হয়েছে। লোকসভা ভোটের ভরাডুবির পর তাঁর দপ্তর কেড়ে নিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব কড়া বার্তাও দিতে চেয়েছিল । তারপরও জেলার গোষ্ঠী দ্বন্দ্বের কাঁটা তুলতে তিনি তেমন সক্রিয় হননি। যদিও দলের একাংশ বলছেন, ‘পূর্ণ স্বাধীনতা নিয়ে জেলায় কাজ করতে দিলে, শান্তিরামের মতো বিকল্প কেউ নেই। কে পি সিংদেও মারা যাওয়ার পর তাঁর মতো অভিজ্ঞতা সম্পন্ন নেতা দলে কেউ নেই’। 

কিন্তু ২১ সালের কঠিন যুদ্ধের আগে শুধু অভিজ্ঞতায় ভরসা করে চুপ করে বসে থাকতে চায়নি রাজ্য নেতৃত্ব। সেকারণে টিম পিকে-র সুপারিশ ক্রমেই শান্তিরাম মাহাতোকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। নতুন সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আদিবাসী মুখ গুরুপদ টুডুকে। এখন গুরুপদবাবুর কাছে কার্যত অগ্নিপরীক্ষা। সদ্য প্রাক্তন জেলা সভাপতির গোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণে রেখে হারানো ভোটব্যাঙ্ক পুনরুদ্ধার করা তাঁর কাছে কঠিন চ্যালেঞ্জ। তবে এই আদিবাসী নেতাকে দলের মুখ করার বিষয়ে অনেকে ভোট রাজনীতির প্রসঙ্গ আনলেও গুরুপদবাবুর ভাবমূর্তি নিয়ে জেলায় তেমন বড় কোনও প্রশ্ন নেই। এমনকি দলেও তাঁর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি বারবার সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলার বার্তা দিয়েছেন। ইতিমধ্যে তিনি দলের বহু বর্ষীয়ান নেতার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ শুরু করেছেন। যারা অভিমানের কারণে দলের থেকে মুখ সরিয়ে নিয়েছিলেন। অনেকে টেলিফোনে গুরুপদ বাবুর সাথে যোগাযোগ করার পাশাপাশি দেখাও করছেন। এদিন কলকাতার বৈঠকের প্রসঙ্গে সুষেণ মাঝি জানিয়েছেন, জনভিত্তি রয়েছে ও কর্মদক্ষদের নিয়ে জেলা ও ব্লক কমিটি গঠন করা হবে। এখানে নতুন-পুরানোর কোনও ভেদাভেদ থাকবে না। যোগ্যতাকে মাপকাঠি হিসেবে দেখার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য নেতৃত্ব। এছাড়া দলের পুরাতন নেতা কর্মীদের সম্মান দিয়ে সামনের সারিতে আনতে হবে। জেলা তৃণমূলের এক সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন কমিটি গঠন ছাড়া একুশের ভোট পর্যন্ত দলীয় কর্মসূচি, দল পরিচালনা সহ বেশ কিছু বিষয়ে শীর্ষ নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে।

শেয়ার করুন

You cannot copy content of this page