নিজস্ব সংবাদদাতা , পুরুলিয়া
২৫ আগস্ট , ২০২০
পুরুলিয়া জেলায় ব্লক স্তরে বড় রকমের শুদ্ধিকরণের দিকে যেতে পারে তৃণমূল কংগ্রেস। তাই তড়িঘড়ি ব্লক সভাপতিদের নাম বা ব্লক কমিটির সিদ্ধান্ত নাও হতে পারে, একটু সময় নিয়েই হবে হয়ত, জেলা তৃণমূলের এক ঘনিষ্ঠ সূত্রে এরকমই জানা গেছে। গত দু-সপ্তাহ আগে জেলা তৃণমূলের নব নির্বাচিত ৫ জনের কমিটি ও দলীয় বিধায়কদের বৈঠকে পুরুলিয়া জেলার ২০টি ব্লকেরই আগামী দিনের ব্লক সভাপতিদের দীর্ঘ নামের তালিকা পাঠানো হয়েছে দলের রাজ্য নেতৃত্বের কাছে। প্রতিটি ব্লক থেকেই সভাপতি পদের দাবিদার হিসেবে একাধিক নাম গেছে। জেলা তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছিল এমাসেই ব্লক সভাপতিদের নাম ঘোষণা হয়ে যাবে। কিন্তু এমাসেই যে সভাপতিদের নাম ঘোষণা নাও হতে পারে, একটু দেরি হতে পারে এখন দলীয় সূত্রে এমনই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
জেলাতে দলের এক ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে জেলা থেকে পাঠানো নামের তালিকা ধরে ধরে হবে দাবিদারদের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত। জানা গেছে তৃণমূলের বর্তমান রাজনৈতিক পরামর্শদাতা পি কে-র সংস্থা ইতিমধ্যেই এই তদন্তের কাজে নেমেও পড়েছেন। জেলাতে দলের এক শুভচিন্তক বলছেন, “বিগতদিনে জেলার দলীয় নেতা-নেত্রী-কর্মীরা যেভাবে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ লড়াইয়ের ভাবমূর্তি কলুষিত করেছেন, তাতে এবার পদের দাবিদারদের বিষয়ে তদন্ত হওয়াটাই তো স্বাভাবিক। তা না হলে ভবিষ্যতেও বিগত পঞ্চায়েত ও লোকসভা নির্বাচনের ছাপ দেখা যাবে যে”। পুরুলিয়া জেলা তৃণমূলের দলীয় পদাধীকারী বা কমিটি গঠন সংক্রান্ত ক্ষেত্রগুলিতে যে হেলায় আর কাউকে রেয়াত করা হবে না, দলীয় মহলে তার ইঙ্গিত স্পষ্ট।
অন্যদিকে জেলাজুড়ে রাজনৈতিক এবং অরাজনৈতিক পরিসরে একটু সতর্ক হয়ে কান পাতলেই টিম পি কে-র তদন্তের বিষয়টির সত্যতাও পাওয়া যায়। জেলার সর্বত্রই টোটো চালক বা অরাজনৈতিক সাধারণ ব্যাক্তিদের কাছেও ফোন আসছে টিম পি কে-র। খোঁজ নেওয়া হচ্ছে তাদের এলাকার বর্তমান দলীয় নেতা-কর্মী এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তাবিত পদাধীকারীদের বিষয়ে। টিম পি কে-র ফোন আসছে দলের সামনের সারির নেতাদের নিজস্ব বুথের সাধারণ দলীয় কর্মী এবং সংশ্লিষ্ট বুথ এলাকার সাধারণ মানুষের কাছেও। প্রশ্ন-জাল না কি এমন, যার মাধ্যমে উত্তরদাতার কাছ থেকে জনমানসে সংশ্লিষ্ট নেতা-কর্মীদের গ্রহনযোগ্যতার বিষয়টিও পরিস্কার হয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে যাদের কাছে ফোন আসছে তারা যেমন তাজ্জব, তেমনি দলের ভেতরেও চাপা গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। দলেরই এক ঘনিষ্ঠের দাবি, সমাজের কোন স্তরের মানুষের কাছে কি ধরনের প্রশ্ন প্রযোজ্য, সেইমত পৃথক পৃথক একাধিক প্রশ্ন তালিকাও রেডি পি কে-র সদস্যদের কাছে।
কেন এত আঁটোসাটো পদ্ধতি? জেলা তৃণমূলের অন্দরের খবর, লোকসভা নির্বাচনের পরে পি কে-র টিম বিগত দিনে জেলাজুড়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত করে রিপোর্ট নিয়ে গেছেন। দু সপ্তাহ আগে রাজ্য নেতৃত্বের কাছে জেলা থেকে পাঠানো তালিকায় এমন কিছু নামও না কি গেছে যারা না কি টিম পি কে-র বাতিল তালিকায় আগের থেকেই লিপিবদ্ধ। আর সে কারনেই খুব সম্ভবত পি কে-র পরামর্শেই রাজ্য নেতৃত্বও হাতে একটু সময় নিয়েই সভাপতির নাম ঘোষণার কাজটি করতে চান, জেলা তৃণমূলের অন্দরের ওই সূত্রে এমনই দাবি।
এক প্রবীন, পোড় খাওয়া দলীয় নেতা বলছেন, “নতুন সভাপতিদের নামের ঘোষণা কখন হবে তা কেবল রাজ্য নেতৃত্বই বলতে পারবেন। তবে তালিকায় যাদের নাম গেছে তাদের মধ্যে এখন নিজেদের এলাকায় জনসমর্থনের বহর দেখাতে বিস্তর কম্পিটিশন। কিছুদিন আগেও জেলার দলীয় কর্মসূচিগুলিতে যাদের আগ্রহে ভাটা দেখা গেছিল, ইদানিং দলের যে কোন কর্মসূচিতেই তারা নিজেদের ট্যাঁকের কড়ি খরচ করে নিজস্ব এলাকা থেকে গাড়ি ভরে ভরে লোক পাঠাচ্ছেন। তাদের উদ্দেশ্য একটাই, “ব্লকের পদটা যেন আমিই পাই”, বলছেন ওই প্রবীণ নেতা।
জেলা তৃণমূলের নবনির্বাচিত সভাপতি গুরুপদ টুডু
অবশ্য জানিয়েছেন , ‘ বিভিন্ন দিক থেকে বিভিন্ন ধরণের রিপোর্ট নেওয়ার কাজ চলেছে । সভাপতিদের নামও যত শীঘ্র সম্ভব ঘোষণা করা হবে ’।
