নিজস্ব সংবাদদাতা, পুরুলিয়া, সোমবার, ২৭ মে ২০২৪ঃ

রোহিন উত্সবের মাধ্যমে পুরুলিয়া জেলা জুড়ে শুরু হল আনুষ্ঠানিক ভাবে বীজ বপন। পুরুলিয়া জেলা সহ সারা জঙ্গলমহল জুড়েই এই দিনটি কৃষক পরিবরগুলির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দিনটিকে জেলায় রহনী বা রোহিণীও বলা হয়ে থাকে। ঝালদা থানার ইচাগ গ্রামের কৃষক গৌউর মাহাতো ও গুলান মাহাতোর  মতে
বাংলা মাসের ১৩ জৈষ্ঠ পালিত হয় রোহিন।
এই দিনটিকে বীজ পুণ্যাহও বলা হয়। পুরুলিয়া জেলায় কৃষি সম্পূর্ণ ভাবে বর্ষার উপর নির্ভর শীল। কৃষি নির্ভর এই জেলায়  বর্ষাকে হিসেবে রেখেই করতে হয় আমন ধানের চাষ। রোহিন দিনে জেলার কৃষিজীবী পরিবারগুলি সকাল থেকেই ব্যস্ত হয়ে যান বিভিন্ন আচার আচরণ পালন করতে। এই দিন শুদ্ধ কাপড় পরিধান করে ক্ষেত থেকে নিয়ে আসা হয় রোহিন মাটি। যা সারাবছর ধরে পুজো পার্বনে ব্যাবহার করা হয়। একই সাথে নারী পুরুষ নির্বিশেষে এদিন নিজেদের শস্য ক্ষেত্রে প্রথাগত পুজো সেরে বীজ বপন করেন। এটি অবশ্য লেগাচার। এদিনই পরিবারের মহিলারা গোবর জল দিয়ে ছড়া দেন নিজেডের বাড়ির চৌহদ্দিতে।  একই সাথে এই দিনটিতে আষাড়ি ফল নামে একটি একটি বুনো ফলও দাঁতে কাটেন কৃষক পরিবারের সদস্যরা। বিশ্বাস রয়েছে এই দিনেই বিষধর সাপ নিজেদের গর্ত ছেড়ে বার হয়ে আসে। বর্ষার সময় তারা ঘুরে বেড়িয়ে আবার আবার আশ্বিন মাসের সংক্রান্তির দিন স্থানীয় ভাবে জিহুড়ের দিন গর্তে ঢুকে যায়। আষাড়ি ফল এবং রোহিনের দিন নিজেডের বাসস্থানে গোবর ছড়া দিলে বিষধর সাপ কোন ক্ষতি করতে পারবে না বলে বিশ্বাস করেন কৃষক পরিবারগুলি।
আরও কথিত রয়েছে এদিন সামান্য বৃষ্টি হলেও সাপের বিষের উগ্রতা কমে যায়।  এই রোহিন দিনেই গ্রাম বাংলায় আমন চাষের সূচনা ও আজ থেকেই মনসা পুজোর সূচনা হয়ে আসছে আদিকাল থেকে। সেই প্রথা আজও রয়ে গিয়েছে কৃষকদের মনে। এই দিন পৃথিবী ঋতুমতী থাকেন বলে বিশ্বাস। কৃষকরা আরও জানান যখন রেমাল ঘূর্ণি ঝড় চোখ রাঙাচ্ছে কলকাতা দিঘা সহ পার্শবর্তী কয়েকটি জেলায় তখন আমরা জেলা বাসি বৃষ্টির অপেক্ষায় রয়েছি কারণ আজকের দিন বৃষ্টি হলে ভালো|

শেয়ার করুন

You cannot copy content of this page