নিজস্ব সংবাদদাতা, পুরুলিয়া:তর্পণ শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে সংস্কৃত 'তৃপ্' শব্দ থেকে। যার অর্থ হল, সন্তুষ্ট করা বা প্রীত করা। বৈদিক অনুশীলনের অঙ্গ হিসেবে সনাতন হিন্দু ধর্মে ঐশ্বরিক সত্ত্বার প্রীতির উদ্দেশ্যে কোন কিছু নিবেদনকে তর্পণ বলা হয়। নিয়মানুসারে হিন্দু ধর্মাবলম্বী পুরুষরা তাঁদের পিতৃ ও মাতৃকুলের পরলোকগত পূর্বপুরুষদের সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে জল দান করেন। মূলতঃ আশ্বিনের পিতৃপক্ষের সূচনা থেকে মহালয়ার দিন পর্যন্ত এই বৈদিক অনুশীলনটি পুকুর ঘাটে অনুষ্ঠিত হয়। কেউ কেউ ১৫ দিন আবার কেউ কেউ ৭ দিনও তর্পণ করেন। তবে অধুনা মুখ্যত মহালয়ার দিনে তর্পণের জন্য পুকুর ঘাট গুলিতে জনসমাগম সবচেয়ে বেশি। আজ ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই পুরুলিয়ার সাহেব বাঁধে দেখা গেল তর্পণের জন্য মানুষের ভিড়। বছরের এই একটা দিন পূর্বপুরুষদের স্মরণ করে এবং তাঁদের উদ্দেশ্যে বৈদিক মন্ত্র সহকারে তিল মিশ্রিত জল অর্পণ করতে দেখা গেল কাতারে কাতারে শহরের নাগরিকদের। রাঙামাটি সংবাদ পুরুলিয়া-র ক্যামেরায় সেই দৃশ্যই ফুটে উঠেছে। দু-এক দিন আগের থেকেই পুরুলিয়া পৌরসভার পক্ষ থেকে সাহেব বাঁধ সহ শহরের সব পুকুর ঘাটগুলিকে এই উদ্দেশ্যে সম্পূর্ণ সাফাই করাও হয়েছে। মহালয়ার সকালেও পৌরপ্রধান নবেন্দু মাহালি নিজে সাহেব বাঁধের ঘাটে উপস্থিত থাকলেন। তিনি জানান, যাঁরা তর্পণ করতে আসছেন বা এসেছেন তাঁদের সুবিধার জন্য পুকুর ঘাট পরিস্কার করার পাশাপাশি এদিন সকাল থেকেই পৌরসভার বিপর্যয় মোকাবিলা দল, এলাকায় ট্রাফিক পুলিশ ইত্যাদি মোতায়েন রয়েছেন।

শেয়ার করুন

You cannot copy content of this page