নিজস্ব সংবাদদাতা,পুরুলিয়া: পুরুলিয়া দেবেন মাহাত গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজে রাত্রের সাথী প্রকল্পে নিয়োগের নামে বড়সড় প্রতারণা চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জেলা জুড়ে। খোদ জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের স্বাক্ষর জাল করে নিয়োগের নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এ বিষয়ে পুরুলিয়া সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন পুরুলিয়া জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক অশোক বিশ্বাস। এর আগেও আধিকারিকদের স্বাক্ষর নকল করে নিয়োগপত্র দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল মেডিক্যাল কলেজে।
প্রসঙ্গত, রাতের সাথে প্রকল্পে ১৩ জনকে নিয়োগের নির্দেশিকা দেওয়া হয়। ওই নির্দেশিকাতে সরকারি মেমো নাম্বার দিয়ে মুখ্য স্বাস্থ্য অধিকারিকের স্ট্যাম্প সহ স্বাক্ষর রয়েছে। গত ৪ মার্চ ওই নিয়োগ প্রার্থীদের মেডিক্যাল কলেজে যোগাযোগ করতে বলা হয়। ওই নির্দেশিকার বিষয়টি কলেজের এক কর্মীর মাধ্যমে জানতে পারেন মেডিকেল কলেজের এমএসভিপি সুকোমল বিষয়ী। তিনি ওই নির্দেশিকার কপি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য অধিকারীককে পাঠান। তারপরই মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জানান ওই নির্দেশিকা পুরোটাই ফেক। তাতে মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। তড়িঘড়ি বিষয়টি নিয়ে পুরুলিয়া সদর থানাতে লিখিত অভিযোগ করেন জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক অশোক বিশ্বাস। তিনি এ বিষয়ে বলেন, রাতের সাথী বলে কোন প্রকল্প জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য অধিকারীদের অধীনে নেই। যেকোনো নিয়োগের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের নির্দিষ্ট নির্দেশিকা রয়েছে। তাছাড়া লিটারহেড থেকে শুরু করে স্ট্যাম্প, স্বাক্ষর, মেমো নাম্বার সবই জাল করা হয়েছে। পুরোটাই ফেক। কলেজের এমএসবিপির কাছে বিষয়টি জানার পরই যেহেতু ওই নকল নির্দেশিকায় আমার নাম রয়েছে তাই সাথে সাথে সদর থানাতে লিখিত অভিযোগ করেছি। এ বিষয়ে মেডিক্যাল কলেজের এমএসভিপি সুকোমল বিষযয়ী বলেন, কলেজের এক কর্মীর মাধ্যমে নিয়োগের এই নির্দেশিকার কপি মোবাইলে পেয়েছিলাম। সাথে সাথে তা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে পাঠানো হয়। উনি জানিয়েছেন পুরোটাই নকল। এ বিষয় লিখিত অভিযোগও করেছেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে। ওই নকল নিয়োগ পড়তে যাদের নাম রয়েছে তাদের কেউ এখনো পর্যন্ত নিয়োগ হয়নি।
