নমুনা চিত্র

ডাঃ শিবশঙ্কর মাহাত
২৫ আগস্ট , ২০২০

প্রশ্ন ১: ডাক্তার বাবু পুরুলিয়া তে করোনা পরিস্থিতি কেমন ?
উত্তর:- পুরুলিয়া তে করোনা পরিস্থিতি রাজ্যের অন্যান্য জেলার মতোই আস্তে আস্তে বাড়ছে আক্রান্ত এর সংখ্যা টা এখন প্রায় ৮০০ মত আক্রান্ত । কিন্তু দেখুন মৃত্যুর সংখ্যা একদম কম ,এখানে মাত্র একজন।

প্রশ্ন ২: আমাদের জেলার কারোর জ্বর হলে কি করবে ? প্রথমেই কি করোনা এর টেস্ট করতে হবে ?
না না । একবারেই না । একটা ভয় কাজ করছে মানুষের মনের মধ্যে তাই এরকম সবাই বলছে । জ্বর হলে চিকৎসক এর পরামর্শ নেওয়াটাই কাজ । গ্রাম অঞ্চলের ক্ষেত্রে আশা দিদিমণি এর পরামর্শ নিতে পারেন , না হলে নিকটবর্তী স্বাস্থ্য কেন্দ্র এ যোগাযোগ করুন সেটা , সাব সেন্টার বা প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র বা উচ্চতর কোনো চিকৎসা কেন্দ্রে। এখানে অনেকগুলি বিষয় আপনার ব্যাপারে জানা হবে, যেমন আপনি কোনো করোনা আক্রান্ত রোগীর সাথে মিশেছেন কি না বা অন্যান্য সমস্যা হচ্ছে কি না যেমন শ্বাস কষ্ট, ডায়রিয়া , ঘ্রাণ শক্তি কমে যাওয়ায় ব্যাপার গুলো । এগুলো পর্যালোচনা করে চিকিৎসক সেরকম হলে আপনার লালা রস পরীক্ষা বা অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করতে বলতে পারেন ।

প্রশ্ন ৩ : ধরুন আমার জ্বর হয়েছে, তারপর চিকিৎসক এর কাছে গিয়েছিলাম এবং পরীক্ষা করে ধরা পড়ল যে আমার শরীরে করোনা ভাইরাস ঢুকেছে , এরপর কি করব ?
উত্তর:- এরপর আরো ভয় বেড়ে গেলো তাইতো ? কিন্তু ভয় এর ব্যাপার নেই । যদি আপনার সমস্যা নিতান্ত কম থাকে যেমন এই জ্বর ,সাথে আর কোনো প্রবলেম নেই , আপনি হয়ত কোনো পজিটিভ রোগীর সাথে মিট করেছিলেন তাই আপনারও পজিটিভ এসেছে কোনো কারনে , এরকম ক্ষেত্রে এখন যা সরকারের নিয়ম তাতে আপনি বাড়িতেই থাকতে পারেন । বাড়িতে থাকা টা একা একা থাকতে পারেন আইসোলেটেড ভাবে । এক্ষেত্রে আপনার বাড়িতে থাকার কোনো সমস্যা হলে বা বাড়িতে প্রয়োজনীয় ঘর না থাকলে সেক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের নির্দিষ্ট করা সেফ হোমে থাকবেন ।

প্রশ্ন ৪ : ডাক্তারবাবু আপনি বার বার বলছেন ভয় নেই ভয় নেই , তা সত্যিই ভয় নেই নাকি সাহস যোগাচ্ছেন ?
উত্তর:- না না সত্যিই ভয় নেই , ভয় পাবার কিছু নেই ।
প্রশ্ন : কাদের ভয় আছে নাকি কারোরই ভয় নেই ?
উত্তর- হ্যাঁ, এটা ঠিক প্রশ্ন, বেশিরভাগ লােকজনের কোনাে ভয় নেই। কিন্তু যাদের বয়স বেশি, ৬০-এর ওপর, সাথে অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস অথাৎ যাঁদের সুগার লেভেল অনেক বেশি থাকে প্রায়ই, সাথে উচ্চ রক্তচাপ, কিডনির সমস্যার জন্য ডায়ালাইসিস করতে হচ্ছে, লাংসের কোনাে রােগ, এগুলাে থাকলে ওনাদের ক্ষেত্রে একটু বেশি পরিমাণে সতর্ক থাকতে হবে।

প্রশ্ন : তাহলে এই ধরনের সমস্যা থাকলে তাদেরকে কি করতে হবে?
উত্তর: এই ধরনের সমস্যা থাকলে তাহলে যদি কোনো কারনে করোনা ভাইরাস এ আক্রান্ত হয় তাহলে অল্প সমস্যা হলেও তাকে চিকিৎসকরা ক্লোজ মনিটর করেন। সাধারভাবে ভর্তি রেখেই চিকিতসা করা হয়। পুরুলিয়া তে এরকম রোগী আমাদের জেলা তে রোটারি হাসপাতাল এ রেখে চিকিৎসা করা হচ্ছে । আগে এরকম রোগী বাঁকুড়া বা দুর্গাপুর নিয়ে যেতে হচ্ছিল। এখানেই চিকিৎসা হচ্ছে এবং সুস্থ হয়ে উঠছেন , তারপর বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।

প্রশ্ন : ডাক্তারবাবু প্রাইভেট হসপিটাল তো অনেক খরচ , সরকারি নেই ?
উত্তর: না না। একবারেই ভুল ভাবনা।যেসব বেসরকারি হাসপাতাল সরকার কোভিড হাসপাতাল হিসেবে অধিগ্রহণ করেছে সেগুলি প্রাইভেট হলেও করােনা আক্রান্ত রােগীর কোনাে পয়সা খরচ হবে না। রাজ্য সরকার এই সমস্ত হাসপাতাল গুলিতে বর্তমানে করােনা আক্রান্ত রােগীর ক্ষেত্রে যাবতীয় চিকিৎসা খরচ সহ আনুসঙ্গিক খরচ রাজ্য সরকারবহন কাছে।

প্রশ্ন ৮ : আশ্বস্ত হলাম । শেষে একটু বলুন কি কি নিয়ম পালন করলে আমাদের করোনা আক্রান্ত হতে হবে না ?
উত্তর:- এটাই বর্তমান সময়ে আসল কথা , অনেক কিছুই বলার আছে করারও আছে । তবে সংক্ষেপে , প্রথমত মাস্ক পরুন ঠিক করে । ঠিক করে মানে মুখ ঢেকেছে কিন্তু নাক খোলা চলবে না বা নাক মুক ঢাকা কিন্তু বারবার খুলছেন পরছেন এটাও চলবে না , নাকমুখ ঢাকা আপনি খুলছেনও না কিন্তু বারবার হাত দিচ্ছেন , এটাও চলবে না ।
দুই দূরত্ব বাজায় রাখুন । তিন বাইরে থেকে এলে বা বাইরের কিছু জিনিসে হাত দিলে হাত ধুয়ে নিন বা সেনিটাইজার ব্যাবহার করে পরিষ্কার করে নিন। এই তিনটে খুব প্রযোজনীয় ।

ডাঃ শিবশঙ্কর মাহাতো
ডাঃ শিবশঙ্কর মাহাতো
শেয়ার করুন

You cannot copy content of this page