নিজস্ব সংবাদদাতা , পুরুলিয়া
২২ সেপ্টেম্বর , ২০২০
এ যেন সেই ৮০-র দশকের হিন্দি ছায়াছবির গল্প। কৈশোরে হারিয়ে যাওয়া ভাইদের তারুণ্যের দোরগোড়ায় মিলন। দীর্ঘ সময় পরে রবিবার জেলা তৃণমূলের পুরুলিয়া জেলাজুড়ে ব্লকে ব্লকে কেন্দ্র বিরোধী মিছিলে কর্মী-সমর্থকদের জন সমাগম দেখে এরকমই মত রাজনৈতিক মহলের। রবিবার তৃণমূলের রাজ্যজুড়ে কেন্দ্রের বঞ্চনার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভার কর্মসূচির অন্তর্গত পুরুলিয়া জেলার ব্লকে ব্লকে দলের নেতা-কর্মী-সমর্থকেরা মিছিল করেন। প্রতিটি ব্লকেই বিপুল জন সমাগম হয় এদিন। যা দেখে উৎসাহিত দলের একাংশ।

তবে অন্তঃসলিলা ক্ষোভের আশঙ্কাও যে নেই এমন নয়। দলের কারো কারো মতে এ কেবল ব্লক নেতৃত্বদের প্রতি রাজ্য কমিটির কড়া নির্দেশের ফল। নির্দেশ, দলের যে কোন কর্মসূচিকে যেনতেন উপায়ে সফল করতে হবে। তাঁদের দাবি, “ভোট বাক্স পর্যন্ত রাজ্য নেতৃত্বের এই শাসনদন্ডটি কতটা শক্ত হাতে কাজ করছে, তার ওপর অনেক কিছুই নির্ভর করছে”।
তবে দলের জেলা কমিটির প্রবীণ থেকে নবীন একেবারেই মানছেন না এই দাবি। বরং নিতুড়িয়া থেকে বাঘমুন্ডি কিংবা বরাবাজার থেকে বান্দোয়ান, ব্লকে ব্লকে বিপুল জন সমাগমে উচ্ছ্বসিত তাঁরা। দলের জেলার সহ সভাপতি গোপাল দাস বলেন, “দুটি বিষয় কাজ করেছে। প্রথমত দলের সকলকে তাঁদের নিজ নিজ কার্যকারিতার নিরিখে কমিটিতে যথাযথ স্থান দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয়তঃ অধিকাংশ দলীয় কর্মীরাই অনুভব করেছেন দলীয় পাতাকার বাইরে ব্যাক্তিগত রাজনৈতিক অস্তিত্ব সংকটের সম্মুখীন হতে পারে”। গোপাল দাসের কথাকে সম্পূর্ণ সমর্থন করে সুষেন মাঝির সংযোজন, “এরই সঙ্গে রয়েছে বর্তমানে তরুণতুর্কীদের জেলা তৃণমূলের নেতৃত্বে নিয়ে আসার দলের রাজ্য নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত”। জেলাতে তরুণতুর্কীদের হাতে নেতৃত্ব আসায় উৎসাহিত বহু মুখ ঘুরিয়ে থাকা দলের কর্মোদ্যত কর্মীরা বলে বক্তব্য সুষেন মাঝির। সাম্প্রতিক কালে বিষ্ণু চরন মাহাথা ও শঙ্কর নারায়ণ সিং দেও-র তৃণমূলে যোগদানের বিষয়টির উদাহরণ টেনে সুষেন বাবুর দাবি, দলের প্রত্যেকেই এঁদের অভিজ্ঞতা থেকে বুঝতে পেরেছেন অন্য রাজনৈতিক দল কর্মী-সমর্থকদের যথাযথ মর্যাদা দেয় না।

একই সঙ্গে বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের একের পর এক জন বিরোধী নীতির ফলে মানুষ তাদের প্রতি বীতশ্রদ্ধ এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তৃণমূলই যে একমাত্র বাঁচার পথ এটাও মানুষ এখন উপলব্ধি করছেন বলে দলের এই দুই নেতাই জানিয়েছেন।
শেয়ার করুন