নিজস্ব সংবাদদাতা , পুরুলিয়া
২২ সেপ্টেম্বর , ২০২০

জেলার প্রত্যন্ত এলাকার অনেকেরই নিজস্ব মোবাইল নেই, প্রত্যন্ত এলাকাগুলিতে রয়েছে নেটওয়ার্কের সমস্যা, আর তাই গত ২৩ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া বিজেপির সদস্য সংগ্রহ অভিযানে নেমে অনেক ক্ষেত্রেই বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে এই কর্মসূচি রূপায়নে। গত একমাসে এরকমই অভিজ্ঞতা পুরুলিয়ার ৯ টি বিধানসভার দলের এই কর্মসূচির দায়িত্বে থাকা কারো কারো। তবে বিষয়টিতে কিছুটা সহমত পোষন করেও সম্পূর্ণ মানছেন না সকলে। তাঁদের দাবি, “এখন একটা মোবাইল নেই, এমন পরিবার খুঁজেই পাওয়া যাবে না”। অবশ্য জেলার বান্দোয়ান, বরাবাজার, বাঘমুন্ডি, বলরামপুরের বেশ কিছু প্রত্যন্ত এলাকায় এরকম সমস্যা যে দেখা যাচ্ছে, সেকথা স্বীকার করে নিয়েছেন বিজেপির জেলা সহ সভাপতি তথা দলের সদস্য সংগ্রহ অভিযান কর্মসূচির জেলার প্রমুখ রবীন সিং দেও। সমস্যার দ্রুত সমাধানে কর্মসূচির তৃতীয় পর্যায়ের কাজও দু-চার দিনেই শুরু হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

প্রসঙ্গত গত ২৩ আগস্ট থেকে বিজেপি জেলাজুড়ে সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচিতে নেমেছে। ৯ টি বিধানসভার জন্য পৃথক পৃথক ৯ জন দলীয় কর্মী রয়েছেন কর্মসূচির প্রমুখ। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে বিগত পঞ্চায়েত ও লোকসভা নির্বাচনে কোন বিধানসভায় দলের কেমন ফল হয়েছিল, তার ভিত্তিতে বিধানসভা ভিত্তিক গড়ে এক লক্ষ থেকে এক লক্ষ কুড়ি হাজার সদস্যের টার্গেট স্থির করেছে রাজ্য কমিটি। জেলাকে এবার মোট সদস্য সংগ্রহের টার্গেট দেওয়া হয়েছে প্রায় দশ লক্ষ, বলে জানান শ্রী সিং দেও। এখন প্রথম দুটি পর্যায়ে কর্মসূচির কাজ চলছে। সদস্য হিসেবে নথিভুক্ত করাতে ইচ্ছুক জেলার ভোটাররা (নিয়ম ১৮ বছরের কমে সদস্য হওয়া যাবে না) নিজস্ব মোবাইল থেকে মিস কল দিলে একটি ও টি পি নম্বর আসবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে সেই ও টি পি নম্বরের ভিত্তিতে অনলাইনে সদস্য ফর্ম পূরণ করে জমা দেওয়া। আর এখানেই জেলাতে বেশ কিছু ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়েছেন কর্মসূচিতে নিযুক্ত দলীয় কর্মীরা। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে তাই তাঁরা এখন কর্মসূচির তৃতীয় পর্যায়ের অপেক্ষায়। এই পর্যায়ে রাজ্য কমিটি মুদ্রিত ফর্ম পাঠাবে জেলাতে। সেই ফর্মে ইচ্ছুকদের বিবরণ লিপিবদ্ধ করে পাঠাতে হবে। তারপর তাঁদের নামে সদস্য পরিচয় পত্র পাওয়া যাবে। ফলে তৃতীয় পর্যায়ের কাজ যত তাড়াতাড়ি সম্পন্ন হবে তত বেশি গতি আসবে এই কর্মসূচিতে বলে মনে করছেন বিধানসভা ভিত্তিক কর্মসূচির দায়িত্ব থাকা অনেকেই।

বিধানসভা ভিত্তিক কর্মসূচির দায়িত্ব থাকা বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলা হয়েছিল। তাঁরা কমবেশি সকলেই সমস্যার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। তাঁরা জানান অনলাইনে যেখানে সমস্যা সেখানে নিজেদের খাতায় নথিভুক্ত থাকছে ইচ্ছুকদের বিবরণ। মুদ্রিত ফর্ম এলেই সেগুলি তাঁদের মাধ্যমে পূরণ করে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। অবশ্য প্রত্যেকেরই দাবি মানুষের মধ্যে যা আগ্রহ টার্গেট ছাড়িয়ে যাবে সদস্য সংগ্রহে এ জেলাতে। কেউ কেউ আবার বলছেন, মোবাইল নেই, এমন পরিবারই নেই এখন। প্রশ্ন করা হয়েছিল এলাকা ভিত্তিক প্রথম দু পর্যায়ে সদস্য সংগ্রহ বেশি না তৃতীয় পর্যায়ে সদস্য হতে ইচ্ছুকদের তালিকা বড়। জেলার বিভিন্নপ্রান্তে দুরকমই যে সংখ্যার হিসেব রয়েছে তা স্বীকার করছেন অনেকেই।

একই প্রশ্ন করা হয়েছিল রবীন সিং দেওকেও। প্রশ্নের সরাসরি কোন উত্তর পাওয়া না গেলেও জেলার পাহাড়-জঙ্গল ঘেরা প্রত্যন্ত এলাকার বেশ কিছু ক্ষেত্রে এই সমস্যার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন তিনিও। একই সঙ্গে অবশ্য তাঁর দাবি এখনও পর্যন্ত জেলার মানুষের মধ্যে বিজেপির সদস্য হওয়ার যে উন্মাদনা দেখা গেছে, তাতে সংখ্যার হিসেবে গতবারের মত এবারও টার্গেট ছাড়িয়ে যাবে জেলাতে। তিনি আরো বলেন, মুদ্রিত ফর্ম রাজ্য কমিটি ইতিমধ্যে পাঠিয়ে দিয়েছে। দু-চার দিনের মধ্যেই জেলার সর্বত্রই এই ফর্মের মাধ্যমে দলীয় সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচির তৃতীয় পর্যায়ের কাজ দ্রুত গতিতে শুরু হয়ে যাবে বলেও জানিয়েছেন রবীন সিং দেও। সেই সঙ্গে বিধানসভা ভিত্তিক কর্মসূচিতে নিযুক্তদের ধন্যবাদ দিয়ে তাঁর দাবি, বাস্তব প্রতিকূলতা এবং প্রতিদিনের আরো অন্য দলীয় কর্মসূচির সঙ্গে সঙ্গে সদস্য সংগ্রহের কাজ যে গতিতে এগিয়ে নিয়ে গেছেন কর্মীরা তাতে খুব শীঘ্রই জেলাতে টার্গেটকে ছুঁয়ে ফেলা সম্ভব।

শেয়ার করুন

You cannot copy content of this page