নিজস্ব সংবাদদাতা , পুরুলিয়া
২২ সেপ্টেম্বর , ২০২০
২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের আবহ তৈরি হয়ে গেছে।এরই মধ্যে নিজেদের দলে আভ্যন্তরীণ অনুসন্ধানের ইঙ্গিত দিলেন সিপিআইএম-এর জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য দীননাথ লােধা। সম্প্রতি পত্রিকার লাইভ অনুষ্ঠানে মুখােমুখি হয়েছিলেন তিনি। প্রশ্ন ছিল বিগত পঞ্চায়েত ও লােকসভা নির্বাচনের আগে জেলাজুড়ে বাম মিছিলে ভিড় থাকলেও ভােট বাক্সে তার প্রতিফলন হল না কেন? তাঁদের দীর্ঘদিনের বড় অংশের ভােটব্যাঙ্ক যে বিজেপি মুখী হয়েছে বিগত দুটি নির্বাচনে, তা স্বীকার করে প্রবীন বামপন্থী নেতার জবাব, দল এ বিষয়ে গভীর অনুসন্ধান শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এমনকি কেন এমন ঘটছে, তার যে গভীরভাবে অনুসন্ধানের প্রয়ােজন তাও জোর দিয়ে বলেন দীননাথবাবু।তবে নতুন প্রজন্মের কাছে বামপন্থীদের গ্রহণযােগ্যতার অভাবের কথা মানছেন না বলে জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁর দাবি বাম, বিশেষত সিপিআইএম ছাত্র-যুব সংগঠনের অগুনতি বড় বড়কর্মসূচী নেওয়া হয়েছে এবং হচ্ছে, যা সংবাদমাধ্যমই কেবল দেখতে পায় না।
শুধু দলীয় পরিসরে অনুসন্ধানই নয়, বরং জেলাতে বিশেষ ক্ষেত্রে সরকারের ব্যর্থতায় যে বামপন্থীদের আরাে তীব্র আন্দোলনে যাওয়া উচিত ছিল, তা স্বীকার করে আত্মসমালােচনারও ইঙ্গিত দিয়েছেন। প্রবীণ নেতা। জেলাতে সিপিআইএম-এর স্বপ্নের প্রকল্প রঘুনাথপুর শিল্পতালুক বর্তমান রাজ্য সরকার ১০ বছরেও করতে পারেনি। একথার পাশাপাশি রঘুনাথপুর শিল্পতালুক গড়ে তােলার দাবিতে সিপিআইএম-এর আন্দোলন যে আরাে তীব্রতর হওয়া উচিত ছিল, অথচ যা হয়নি, স্বীকার করে নিজেদের আত্মসমালােচনার প্রয়ােজনীয়তা উল্লেখ করেন দীননাথবাবু।
কোভিড মােকাবিলায় কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় সরকারই যে চরম ব্যর্থ, তা দাবি করে দীননাথবাবুর বক্তব্য, সরকারে না থেকেও পরিস্থিতির মােকাবিলায় সিপিআইএম সরকারের চেয়ে অনেক বেশি সদর্থক ভূমিকা পালন করেছে। যা সর্বস্তরের মানুষও অকপটে স্বীকার করছেন বলে দাবি তাঁর।
আগামী বিধানসভা নির্বাচনে জেলার রাজনৈতিক মহলে ভােট ভাগাভাগির অঙ্ক কষছিলেন যাঁরা, তাঁদের অঙ্কের খাতায় অবশ্য শূন্য পড়েছে দীননাথবাবুর কথায়। বামপন্থী দলগুলি ছাড়াও কংগ্রেস সহসমস্ত গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলি জোট করেই যে লড়বে তা সরাসরি বলেই দিয়েছেন তিনি। তবে তৃণমূলের সঙ্গে জোট নৈব নৈব চ। কেননা সাম্প্রদায়িকতার রাজনীতিতে বিজেপি-তৃণমূল সমান বলে সিপিআইএম-এর জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর প্রবীণ এই সদস্যের দাবি।
শেয়ার করুন