নিজস্ব সংবাদদাতা , পুরুলিয়া
৩০ সেপ্টেম্বর , ২০২০
‘৪২-এর ভারত ছাড়ো আন্দোলনের মানভূম পুরুলিয়ার দুই বীর শহীদ গোবিন্দ মাহাত এবং চুনারাম মাহাতর মুর্তি প্রতিষ্ঠার দিনই “শহীদের অবয়ব বিকৃত করা হয়েছে” বলে অভিযোগ তুললেন লোকসেবক সংঘের পুরুলিয়া জেলা সম্পাদক সুশীল মাহাত। সংগঠনের পক্ষে কেউ কেউ এও প্রশ্ন তুলছেন, “গোবিন্দ মাহাত এবং চুনারাম মাহাতর ‘৪২-এর আন্দোলন অহিংস আন্দোলন ছিল। কিন্ত বুধবার তাঁদের স্মৃতিতে যে মুর্তির আবরণ উন্মোচন হয় সেই মুর্তিতে হাতে অস্ত্র ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে”। প্রসঙ্গত ১৯৪২ সালের ভারত ছাড়ো আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী দুই বিপ্লবী গোবিন্দ মাহাত এবং চুনারাম মাহাত ব্রিটিশ পুলিশের গুলিতে মারা যান। এই দুই বীর শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মানবাজার থানার গেটের সামনে এঁদের পূর্ণাঙ্গ মুর্তি প্রতিষ্ঠা ও আবরণ উন্মোচন করা হয় বুধবার। মুর্তির আবরণ উন্মোচন করেন মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাত। উপস্থিত ছিলেন জেলার আরেক মন্ত্রী সন্ধ্যারাণী টুডু, জেলা পরিষদের সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়, শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ গুরুপদ টুডু, কুড়মি ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের চেয়ারম্যান সুনীল মাহাত, আদিবাসী কুড়মি সমাজের মূল মানতা অজিত প্রসাদ মাহাত, মানভূম গবেষক তথা ইতিহাসবিদ দিলীপ কুমার গোস্বামী প্রমুখ।
তবে শহীদদের মুর্তিতে অস্ত্র ধরানোর প্রসঙ্গে শুধু নয়, আরো একধাপ এগিয়ে লোকসেবক সংঘের সুশীল মাহাত বলেন, অস্ত্রর কথা বাদ দিলেও আগাগোড়াই এই দুইটি অবয়ব বিকৃত করা হয়েছে। সুশীল বাবুর দাবি বর্তমানে যাঁরা বেঁচে রয়েছেন তাঁরা গোবিন্দ মাহাত এবং চুনারাম মাহাতকে কেউই দেখেন নি। তাছাড়া তাঁর আরো দাবি পরিবারের লোকজন স্বীকৃতি দিলেই কি হবে? যেহেতু দুজন ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের শহীদ, ফলে সরকারি নথিতে তাঁদের ছবি থাকবেই। সুশীল মাহাতর প্রশ্ন সরকার বা প্রশাসন কি দুই শহীদের ছবিতে স্বীকৃতি দিয়েছে? এই প্রশ্ন নিয়ে জেলা প্রশাসনকেও তিনি চিঠি দিয়েছিলেন। কিন্ত উত্তর পাননি বলে দাবি সুশীল মাহাতর। শুধু তাই নয়, সুশীল মাহাতর দাবি, মানবাজার থানার সেই অকুস্থলে, যেখানে ব্রিটিশ পুলিশের গুলি লাগার পর শহীদদের মৃত্যু হয়, সেখানে ৪৭ সাল থেকেই মাটির শহীদ বেদি ওই দুজনের স্মৃতিতে। যেখানে পুরুলিয়া লোকসেবক সংঘের পক্ষ থেকে ১৯৪৭ সাল থেকে প্রতি বছর পুষ্পার্ঘ্য দেওয়া হয়। এবারও তাঁদের ৮৯ তম শহীদ দিবসে লোকসেবক সংঘের পক্ষ থেকে পুষ্পার্ঘ্য দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
সুশীল বাবু বলেন, কিন্ত বহু আবেদনেও পাকা করা হয়নি মাটির বেদি। তিনি বলেন, ২০০৬ সালে মাটির শহীদ বেদি পাকা করতে অনুরোধ জানিয়ে পুরুলিয়ার জেলা শাসককেও চিঠি দিয়ে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। নিরাপত্তার কারনে মানবাজার থানার ওই স্থানে পাকা শহীদ বেদি নির্মাণ সম্ভব নয় বলে জানিয়েছিলেন তৎকালীন জেলা শাসক। সুশীল মাহাতর প্রশ্ন, “বান্দোয়ান থানায় ২০০৩ সালে মাও হামলায় নিহত স্বর্গত নীলমাধব দাসের শহীদ স্মারক থাকতে পারলে ভারত মায়ের নামে উৎসর্গীকৃত প্রাণ শহীদদের স্মৃতিতে পাকা বেদি থাকতে আপত্তি কোথায়?” তাছাড়া লোকসেবক সংঘের দীর্ঘদিনের দাবি থানার যে ঘর থেকে ব্রিটিশ পুলিশ গুলি চালিয়েছিল ‘৪২-এর ৩০ সেপ্টেম্বর, সেই ঘরটিকে শহীদদের উদ্দেশ্যে স্মারক হিসেবে চিহ্নিত করা হোক। কিন্ত সেই ঘরটি আজও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে বলে দাবি লোকসেবক সংঘের পুরুলিয়া জেলা সম্পাদক।
শেয়ার করুন