নিজস্ব সংবাদদাতা , ঝালদা
৬ অক্টোবর , ২০২০

ঝালদাতে সিভিক ভলান্টিয়ারের মৃত্যু সুনিশ্চিত করতে প্রায় দুমাস ধরে বাজারের ব্যাগের মধ্যেই কুডুল নিয়েই বেরােত ধৃত নাবালক। যে কোনও সময় নাবালক সুযােগের সন্ধানে ছিল বলে দাবি পুলিশের। একই সঙ্গে ইউটিউবে একের পর এক ভিডিও দেখে নিখুঁত পরিকল্পনা করেছিল ঘটনায় ধৃত নাবালক। দশম শ্রেণীর ওই ছাত্র খুনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে গত প্রায় দুমাস ধরে ইন্টারনেটে রীতিমতাে পড়াশুনাও করেছে বলে জেরাতে ধৃত নাবালক জানিয়েছে বলে দাবি ঝালদা থানার পুলিসের। নাবালক ওই ছাত্রের পরিকল্পনার কথা শুনে কার্যত তাজ্জব হয়ে যান পুলিশ কতারা। পারিবারিক বিবাদের জেরেই খুন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে পুলিশ।

পুরুলিয়ার পুলিস সুপার এস সেলভা মুরগান বলেন, ঘটনার তদন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ইতিমধ্যে একজন গ্রেপ্তার হয়েছে। প্রসঙ্গত গত বুধবার তুলিন হাটে প্রকাশ্যে খুন হন স্থানীয় কেন্দুয়াডি গ্রামের বাসিন্দা পেশায় সিভিক ভলান্টিয়ার অঙ্গদ মাহাত। পরে ঝাড়খন্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার তদন্তে নেমে শনিবার বিকালে ঝালদা থানার পুলিশ ওই গ্রামেরই ১৫ বছরের এক নাবালককে গ্রেপ্তার করে। ধৃতের নাম দেবরাজ ওরফে ঝন্টু মাহাত। সে তুলিন তপােবন হাইস্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র। ধৃতের কাছ থেকে ঘটনায় ব্যবহৃত কুড়ুলটিও উদ্ধার করেছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত নাবালকের বাড়ি মৃতের একবারে পাশেই। ধৃতকে জেরা করে পুলিশ জানতে পেরেছে, দীর্ঘদিন ধরেই দুই পরিবারের পারিবারিক বিবাদ ছিল। ঝালদা থানার পুলিশের দাবি, ধৃত নাবালক জেরাতে জানিয়েছে, ওই সিভিক ভলান্টিয়ার মাঝে মাঝেই তাঁদের পরিবারের সদস্যদের উত্যক্ত করত। গত প্রায় দুমাস আগে থেকেই ওই নাবালক সিভিক ভলান্টিয়ারকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা শুরু করে। ইউটিউবে একের পর এক খুনের ভিডিও দেখে পরিকল্পনা শুরু করে। কিভাবে মারলে মৃত্যু সুনিশ্চিত করা যাবে সে বিষয়ে ইন্টারনেটে পড়াশুনাও করে ওই নাবালক। এমনকি বয়সে বড় এবং তুলনামূলক বলবান ওই সিভিককে মারলে সে পাল্টা প্রতিরােধের সুযােগ পাবে না সে বিষয়ে ইন্টারনেটেই তথ্য পেয়েছিল ওই ছাত্র। একা কোনাে জায়গাতে আক্রমণ করলে প্রতিরােধের আশঙ্কা থেকেই ভিড়ের মধ্যে মারার পরিকল্পনা করে ওই নাবালক।

ওই ছাত্র পুলিশের জেরাতে আরও জানিয়েছে, ইউটিউব দেখেই জেনেছিল ভিড়ে অসতর্ক থাকে মানুষ। তাই সেই সুযােগকে কাজে লাগিয়ে ওই সিভিক ভলান্টিয়ার আলু কেনার সময় তাঁর মাথায় আঘাত করে ওই নাবালক। সেখানেই লুটিয়ে পড়েন ওই সিভিক তারপরেই ভিড়ের মধ্যে মাস্ক পরে মিশে গিয়েছিল ওই নাবালক। যদিও সে বেশিদিন নিজেকে লুকিয়ে রাখতে না পেরে ঝালদা থানার পুলিশের জালে ধরা পড়ে।

অন্যদিকে পরে মৃত সিভিকের বাড়িতে গিয়ে তাঁর পরিবারকে দলের পক্ষ থেকে আর্থিক সাহায্য তুলে দেন তৃণমূল যুব কংগ্রেসের জেলা সভাপতি সুশান্ত মাহাত সহ ব্লকের অন্যান্য নেতারা পরিবারের একজনের চাকরির দাবিতে সরব হয়েছেন মৃতের স্ত্রী। অন্যদিকে সােমবার বিকালে ওই পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানান জেলা পুলিশের কর্তারা।


শেয়ার করুন

You cannot copy content of this page