নিজস্ব সংবাদদাতা , পুরুলিয়া
৮ অক্টোবর , ২০২০

বৃহস্পতিবার পুরুলিয়া বিধানসভা তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীসভা আয়োজন করা হয় হুটমুড়াতে। কর্মীসভায় এদিন উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের বর্তমান দুই কো-অর্ডিনেটর সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুষেন চন্দ্র মাঝি, দলের জেলা মুখপাত্র নবেন্দু মাহালি, জেলা যুব সভাপতি সুশান্ত মাহাত, তৃণমূলের ২০১৬ বিধানসভার প্রার্থী তথা জেলা কমিটির সদস্য দিব্যজ্যেতি প্রসাদ সিং দেও প্রমুখ। এই কর্মীসভায় নিজের বক্তব্য রাখতে গিয়ে সুজয় বাবু দিব্যজ্যোতিকে স্নেহাস্পদ ভাইপো বলে উল্লেখ করে বলেন, “দিব্যজ্যেতিকে জিততে গেলে বিধানসভা এলাকার সমস্ত স্তরের কর্মীদের একসঙ্গে নিয়ে চলতে হবে’। যদি সে সেটা না পারে তাহলে সুজয়বাবু দিব্যজ্যোতিকে স্নেহাস্পদ ভাইপো হিসেবে ধমক দেবেন।

এই কথায় জেলাতে দলের মধ্যেই শুরু হয়েছে জল্পনা, ‘তাহলে দিব্যজ্যোতিই কি নির্বাচনে পুরুলিয়া বিধানসভার প্রার্থী হতে চলেছেন’! দলের একটা বড়ো অংশের মত, দিব্যজ্যেতির ভাবমূর্তি জনমানসে যথেষ্ট উজ্জ্বল। তাঁর প্রয়াত পিতা তথা পুরুলিয়া বিধানসভার প্রাক্তন বিধায়ক কে পি সিং দেও-র প্রতিও রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক ক্ষেত্রে উভয় বিপুল জনপ্রিয়তা ছিল।

তৃণমূলের এক সূত্রে জানা গিয়েছে, বিগত দিনে দলের পক্ষে বিপুল জনসমর্থন থাকা সত্ত্বেও কর্মীদের মধ্যে কেবলমাত্র কো-অর্ডিনেশনের অভাবে নির্বাচনে ফল খারাপ হয়েছে। এতে বিরোধীদের কোন কৃতিত্ব নেই। কেননা তৃণমূল তার সম্পূর্ণ ভোট ধরে রাখতে সমর্থ হয়েছে বিগত দুটি নির্বাচনে। বর্তমানে সারা রাজ্যের সঙ্গে জেলা তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামোরও খোল-নোলচে আমূল পরিবর্তন করা হয়েছে। দলের শীর্ষে চেয়ারম্যান সহ তিনজন কো-অর্ডিনেটরও বসানো হয়েছে। অঞ্চল থেকে ব্লক, ব্লক থেকে জেলা দলের সর্বস্তরের কর্মীদের বাদ-বিবাদ, রাগ-অভিমান শুনছেন তাঁরা। এমনকি সমস্যার দ্রুত সমাধানও করা হচ্ছে বলে দলের ওই ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি।

এদিন মঞ্চে উপস্থিত তৃণমূলের জেলা যুব সভাপতি সুশান্ত মাহাত বলেন, অতি সত্ত্বর দলের সর্বস্তরে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কাজ সমাপ্ত হয়ে যাবে। রাজ্য নেতৃত্বের তত্ত্বাবধানে জেলাতে সাংগঠনিক পরিকাঠামো উন্নততর করার যে প্রক্রিয়া চলছে, তাতে সর্বস্তরের কর্মীদের সদর্থক ভূমিকা নিতে হবে। সুশান্ত বাবু আরো বলেন, তৃণমূলের দলীয় কমিটি ছাড়াও প্রত্যেক বিধানসভায় নির্বাচনী কমিটি গঠনের কাজটিও অতি দ্রুত করে নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন

You cannot copy content of this page