নিজস্ব সংবাদদাতা , পুরুলিয়া
৬ অক্টোবর , ২০২০

১ থেকে ৪ অক্টোবর জেলা জুড়ে হয়ে গেল সিপিআইএম-এর গণসংগ্রহের কর্মসূচী। বছরে
সাধারণত চারবার দলের কর্মী-সমর্থক-সদস্যরা এই গণসংগ্রহ করেন। সিপিআইএম-এর পুরুলিয়া শহর উত্তর এরিয়া কমিটির সম্পাদক নিলয় মুখার্জীর দাবি, “আমাদের দল কপোরেটদের বা চিটফান্ডের টাকায় চলে না। গণসংগ্রহের মাধ্যমেই চলে”। সিপিআইএম-এর পুরুলিয়া জেলা সম্পাদক প্রদীপ রায় বলেন, “জেলাজুড়ে চারদিনের গণসংগ্রহে দু-এক জায়গায় মাত্র ১০, ২০, ৫০ ও একশাে টাকার কূপনের মাধ্যমে সংগ্রহ ছাড়া বাকি সমস্ত জায়গায় কৌটো ও দলীয় পতাকার (ঝােলার মতাে করে) মাধ্যমেই সংগ্রহ হয়েছে। তিনি আরাে বলেন, শুধু টাকা পয়সাই নয়, যে যা নিজের সামর্থ অনুযায়ী দেন তাই আমরা
গ্রহণ করি।


তবে বহুদিন বাদে জেলাতে গণসংগ্রহে মানুষের মধ্যে নাকি দেখা গেছে সিপিআইএম-এর প্রতি মানুষের বাড়তি উৎসাহ। মানুষ আগবাড়িয়ে এসে অনেক বেশি টাকা দিয়ে গিয়েছেন কৌটো বা ঝােলায়। বিগত ২০১১ সালের পর এবার বহুদিন বাদে এ রকম সাড়া পেয়ে জেলার বিভিন্ন প্রান্তের কর্মীরা ২০২১-এ কিছুটা উত্তরণের আশায় বুক বাঁধছেন। যদিও দলের জেলা সম্পাদক প্রদীপ রায় বলছেন, ‘সিপিআইএম-এর প্রতি মানুষের, বিশেষত ওয়ার্কিং ক্লাসের ভালােবাসা চিরন্তন। গণসংগ্রহে সবসময়ই মানুষ খােলা হাতে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন”।

তবে দলের বিভিন্ন প্রান্তের কর্মীদের মত অন্যরকম। নিলয়মুখার্জী বলেন, উত্তর এরিয়া কমিটির ১৩টি শাখাতেই এবার ভীষণ সাড়া পাওয়া গেছে মানুষের। বহুদিন পরে যে এভাবে মানুষের উৎসাহ, তা জানিয়ে নিলয় মুখার্জীর বক্তব্য, ঝােলাতে এবং কৌটোতে পাঁচশাে টাকা দিয়েছেন, এ রকমও এবার ঘটনা আছে। তিনি আরাে বলেন, টিকাপাড়া, মহুলঘুটার বস্তির দিন মজুরদের বর্তমানে চরম আর্থিক কষ্ট। দীর্ঘদিন কাজ নেই সেভাবে। তবু তাঁরাও উৎসাহের সঙ্গে এবার যে যেমন পেরেছেন দিয়েছেন। একইকথা দলের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য রথু সিং-এর।তিনি বলেন, বান্দোয়ান, মানবাজার-২,এসব অঞ্চলে
মানুষের মধ্যে অসম্ভব সাড়া পাওয়া গিয়েছে এবার।সারগা, চুরকু এলাকায় এখন সাওয়াই ঘাস কাটার কাজ চলছে মূলত আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের। অধিকাংশ দিনমজুরী করেন। হাতেন গত অর্থ এখন নেই। কিন্তু তবু তাঁরা এগিয়ে এসেছেন উৎসাহের সঙ্গে। কেউ কেউ চালও দিয়েছেন নগদ অর্থের অভাবে।কাশীপুর পূর্বএরিয়া কমিটির সদস্য সােমনাথ দুবে কিংবা পুরুলিয়া-২ নম্বর ব্লকের দলের সদস্য নীলকমল মালাকার বলছেন, “লকডাউনে চরম অর্থনৈতিক বিপত্তি সত্ত্বেও ২০১১ সালের পর দীর্ঘদিন বাদে মানুষ এতটা উৎসাহ নিয়ে সিপিআইএম-এর গণসংগ্রহে এভাবে সাড়া দিয়েছেন। তাঁদের আরাে দাবি,বহু মানুষ নাকি এগিয়ে এসে বলছেন এই দুর্দিনে সিপিআইএম-ই নাকি বড় ভরসা।

জেলা সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য দীননাথ লােধা বলেন, রাজ্য ও কেন্দ্র উভয় সরকারেরই জনবিরােধী কার্যকলাপ মানুষের মনে সিপিআইএম-এর গুরুত্ব উপলব্ধিতে সাহায্য করেছে। তাছাড়া বিষয়টিতে জেলাতে দলের বহু কর্মী-সমর্থকেরাই ২১-এর নির্বাচনে উত্তরণের যে একটা আশা দেখছেন,তাও স্বীকার করেছেন প্রবীণ এই বামপন্থী নেতা। তবে ভােট ব্যাঙ্কের বিচারে বামপন্থী রাজনীতির মূল্যায়ণ করতে একেবারেই রাজি নন সিপিআইএম-এর পুরুলিয়া জেলা সম্পাদক প্রদীপ রায়। তিনি পরিস্কার বলেন, পার্টি কর্মী রেজিমেন্টেড হতে পারেন কিন্তু মানুষ বলুন বা ভােটার কখনও রেজিমেন্টেড হতে পারেন না। তবে তাঁর বক্তব্য, চারদিনের গণসংগ্রহে দলের কর্মীরা জেলা জুড়ে যেভাবে ঝাঁপিয়েছেন, তা গতমাসের ৩০ তারিখে ২০টিব্লকে জমায়েতের সাফল্য। ফলে মানুষও সাড়া দিয়েছেন।

শেয়ার করুন

You cannot copy content of this page