নিজস্ব সংবাদদাতা , ঝালদাঃ
২০ অক্টোবর , ২০২০
গ্রামের মধ্যে দিয়ে যাতায়াত করে সংলগ্ন শ্যামনগর নদীঘাট থেকে বালি উত্তোলনকারী ট্রাক্টর, লরি। গ্রামের রাস্তার অবস্থা ভীষণ সঙ্গীন। গ্রামবাসীরা বিষয়টি নিয়ে আগে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন কয়েকবার। তাঁদের দাবি যে কোন সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কার কথা জানিয়ে প্রশাসনকে রাস্তা মেরামতির বিষয়ে আবেদন করা হয়েছে। তবে তা হয়নি বলে দাবি গ্রামবাসীদের। শুক্রবার গ্রামবাসীদের আশঙ্কাকেই সত্যি করে বালি বােঝাই ট্রাক্টরের ধাক্কায় গ্রামের দুই আনুমানিক ১৭ বছরের কিশাের আহত হয়ে পড়লে ধুন্ধুমার কান্ড বাঁধে গ্রামে। গ্রাম ষােলােআনার পক্ষ থেকে গ্রামবাসীরা বালি বােঝাই ট্রাক্টর আটক করে চাকার হাওয়া খুলে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। ফোনে খবর দেন পুলিশ ও প্রশাসনকে। তবে কেউ আসেন নি বলে অভিযােগ গ্রামবাসীদের। অবশেষে বালি গাড়ির মালিকরা রাস্তায় মােরাম ফেলার ব্যবস্থা করলে গ্রামবাসীরা গাড়ি ছাড়েন।
ঘটনা ঝালদা থানার পুস্তি গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত চোককেরােয়াড়ি গ্রামের। গােটা ঘটনায় ঝালদা সিপিআইএম এরিয়া কমিটির সম্পাদক উজ্জল চট্টরাজ স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের দিকে অভিযােগের আঙুল তুলেছেন। তাঁর দাবি এলাকার এই অবৈধ বালি উত্তোলন বিষয়ে পুলিশ সবই জানেন, কিন্ত কোন ব্যবস্থা নেননা। চোককেরােয়াড়ি গ্রাম যােলােআনার পক্ষে সুকদেব মাহাত জানান, পুস্তি পঞ্চায়েতের চোককেরােয়াড়ি গ্রামের সংলগ্ন শ্যামনগর নদীঘাট থেকে দৈনিক ২৫ থেকে ৩০ গাড়ি বালি উত্তোলন করে ট্রাক্টর বা ছােট লরির মাধ্যমে বালিকারবারিরা গ্রামের মধ্যে দিয়েই এই বালি পরিবহন করেন। গ্রামের
রাস্তার পরিস্থিতি চরম বেহাল। এ অবস্থায় যে কোন সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে গ্রামবাসীরা রাস্তা মেরামতির বিষয়ে আবেদনও করেছেন প্রশাসনের কাছে বলে দাবি সুকদেব মাহাতর। কিন্ত ফল হয় নি।
তিনি বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৬.৩০ টা নাগাদ বালি বােঝাই একটি ট্রাক্টরের ধাক্কায় গ্রামের দুই আনুমানিক ১৭ বছরের কিশাের দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়। এরপরই গ্রামবাসীরা ক্ষোভে বালি গাড়ি আটক করে গাড়ির চাকার হাওয়া খুলে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। এরই মাঝে পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে ফোনে বিষয়টি জানানাে সত্ত্বেও কেউ আসেননি বলে দাবি সুকদেব মাহাতর। তিনি বলেন, আহত দুই কিশাের সুদেশ মাহাত ও দক্ষেশ্বর মাহাতকে প্রথমে ঝালদা হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও সেখান থেকে রেফার করা হয় পুরুলিয়া হাসপাতালে। কিন্তু গ্রামবাসীরা সন্নিকটস্থ মুরির হাসপাতালে তাদের চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন বলে জানিয়েছেন সুকদেব মাহাত। ঘটনার দুদিন আগেও বালি বােঝাই গাড়ি আটক করে গ্রামবাসীরা রাস্তাটি মেরামতির বিষয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন বলে দাবি সুকদেব মাহাতর। শুক্রবার দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভে আটক থাকার পর বালি পরিবহনকারী গাড়ি মালিকরা রাস্তায় মােরাম বিছিয়ে দিলে গ্রামবাসীরা গাড়ি ছেড়ে দেন বলে গ্রামবাসীদের পক্ষে জানা গিয়েছে।
গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, তাঁরা নিজেদের মধ্যে চাঁদা করে মােরাম ঢালার পর জেসিবি দিয়ে রাস্তাটি সংস্কার করার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গােটা ঘটনায় ঝালদা সিপিআইএম এরিয়া কমিটির সম্পাদক উজ্জ্বল চট্টরাজ স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের দিকে অভিযােগের আঙ্গুল তুলেছেন। উজ্জ্বল বাবু বলেন, এই এলাকায় সমস্ত বালি উত্তোলনের কাজই বেআইনিভাবে চলছে। যা স্থানীয় পুলিশেরও জানা। তাই তাঁরা বিক্ষোভের খবর পেয়েও আসেন না। এ ঘটনা এলাকায় নতুন নয় বলেও দাবি তাঁর। উজ্জ্বল চট্টরাজ আরাে বলেন, বর্তমানে বর্ষা ও তার পরবর্তী সময়ে মাস চারেক তাে এমনিতেই ঘাট থেকে বালি উত্তোলন আইনত বন্ধ। উজ্জ্বল বাবুর দাবি, তবু নগদের বিনিময়ে বালি উত্তোলনের জন্য পারমিটের ব্যবস্থা কি করে করছে পুলিশ?
