পাঁচটির প্রত্যেকটিতেই জিতবো, বলছেন নেপাল মাহাত
নিজস্ব সংবাদদাতা , পুরুলিয়া :
২৯ ডিসেম্বর, ২০২০
বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে জোট হলে পুরুলিয়া জেলার ৫ টি বিধানসভা ক্ষেত্রে নিজেদের প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তাব রাখতে পারে জেলা কংগ্রেস বলে পুরুলিয়া জেলা কংগ্রেস সূত্রে জানা গিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতীয় কংগ্রেসের পুরুলিয়া জেলার দুই বর্ষীয়ান নেতা বলছেন, বামেদের সঙ্গে জোট হবে কি না, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তাই এখনই এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করা অনুচিত। তবে জোটের আলোচনায় বা জোট হলে জেলার ৫ টি বিধানসভা আসনে কংগ্রেসের প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তাব বা দাবি থাকবে বলে জেলাতে তাঁদের আভ্যন্তরীণ দলীয় আলোচনায় স্থির হয়েছে বলে জানান তাঁরা।তবে যেহেতু জোটের বিষয়টি পারস্পরিক যৌথ আলোচনা প্রসূত সিদ্ধান্ত, তাই এই বিষয়টি এখুনি বলা যুক্তিসঙ্গত হবে না বলে মত জেলা কংগ্রেসের ওই দুই নেতার।
একই কথা বলছেন পুরুলিয়া জেলা কংগ্রেসের সভাপতি তথা বাঘমুন্ডির বিধায়ক নেপাল মাহাতও। তিনি বলেন, জোটের সিদ্ধান্ত নেবেন উভয় পক্ষের হাইকমান্ডরা। তবে জোট হলে পুরুলিয়া, বাঘমুন্ডি, পাড়া, বলরামপুর এবং গড় জয়পুর, এই পাঁচটি বিধানসভা আসনে তাঁরা নিজেদের দলীয় প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তাব বা দাবি কংগ্রেসের পক্ষে থাকবে বলে জানান নেপাল মাহাত। কেন? প্রশ্নের আগেই উত্তরও অবশ্য তিনি নিজেই দিয়েছেন। নেপাল বাবু বলেন, বিগত লোকসভা নির্বাচনে বামপন্থীদের থেকে জেলাতে কংগ্রেস যতটা ভোট বেশি পেয়েছে, তাতে পাঁচটি বিধানসভা আসনে কংগ্রেস প্রার্থী দিতে পারবে। তাছাড়া এইসব বিধানসভা ক্ষেত্রগুলিতে বামপন্থীদের চেয়ে কংগ্রেসের ফল অনেক বেশি ভালো হয়েছে। তিনি আরো বলেন, বিগত ২০১৮-র পঞ্চায়েত নির্বাচনেও এই সমস্ত বিধানসভা এলাকার অধিকাংশ পঞ্চায়েতেও কংগ্রেস বামেদের চেয়ে ভালো ফল করেছে। জয়পুরের উদাহরণ দিয়ে নেপাল বাবুর বক্তব্য, জয়পুরে বামেরা পেয়েছিল ১০ হাজার ভোট, যেখানে কংগ্রেস পেয়েছিল ২৮ হাজার। তাছাড়া পঞ্চায়েত নির্বাচনেও কংগ্রেস জিতেছিল। এখানে বামেদের যাঁরা জিতেছিলেন, তাঁরা এখন তৃণমূল করছেন, জেলা পরিষদেও জিতেছে কংগ্রেস, ফলে পাঁচটি আসনে প্রার্থী দেওয়ার দাবি থাকতেই পারে আমাদের, বলছেন নেপাল মাহাত।
শুধু তাই নয়, জয়পুর বিধানসভায় সাম্প্রতিক অধীর রঞ্জন চৌধুরীর জনসভায় কেবলমাত্র একটি বিধানসভা এলাকা থেকেই যেভাবে বিপুল জনসমাগম হয়েছে, তাতে জেলা কংগ্রেস নিজেদের জমি পুনরুদ্ধার করছেই বলে মনে করছেন জেলার কংগ্রেস দলের অভিজ্ঞরা। একই সঙ্গে পাড়া এবং বলরামপুরে বিগত পঞ্চায়েত ও লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল যেভাবে পর্যুদস্ত হয়েছে, তাতে এই দুটি ক্ষেত্রে তাদের সাংগঠনিক ক্ষমতাও একেবারে ভেঙ্গে পড়েছে বলে মনে করছেন জেলা কংগ্রেসের অভিজ্ঞরা। ফলে এই দুটি আসনে কংগ্রেসই যে বিজেপিকে রুখতে একমাত্র বিকল্প, মনে করছেন দলের কর্মী সমর্থকরাও।
তবে শুধু পাঁচটি বিধানসভায় প্রার্থী দেওয়াই নয়, প্রত্যেকটিতেই যে কংগ্রেসের জয়ও সুনিশ্চিত, তেমনই দাবি নেপাল মাহাতর। তিনি বলেন, পাঁচটিতেই জিতবো আমরা। কারন জেলা কংগ্রেস এবার সম্পূর্ণ জেলা ভিত্তিক ইস্যু নিয়ে লড়াই করবে, বক্তব্য দলের জেলা সভাপতির। নেপাল বাবু বলেন, কৃষক-বিরোধী কৃষি আইন বাতিল যেমন ইস্যু থাকবে কংগ্রেসের, তেমনি থাকবে জেলাতে সেচ ব্যবস্থার কোন উন্নয়ন না করার ইস্যু। নেপাল বাবুর দাবি কংগ্রেসের আমলেই জেলাতে যা সেচের কাজ হয়েছে। পরে যা হয়েছে, সবই ব্যর্থতার নামান্তর। তিনি বলেন, কেন্দ্রের বিজেপি সরকার এবং রাজ্যের তৃণমূল সরকার গোটা দেশে এবং রাজ্যে বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চরম ব্যর্থ। একই সঙ্গে পুরুলিয়া জেলার সরকারি দপ্তরগুলির বেশ কিছু পদে যাতে জেলারই স্থানীয় যোগ্য চাকরি প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, তাকেই ইস্যু করে কংগ্রেস এবার সোচ্চার হবে।
নেপাল মাহাতর দাবি, জেলাজুড়ে খাদ্য বন্টন প্রক্রিয়ায় ব্যপক অনিয়ম রয়েছে। যা নিয়ে সবসময়ই কংগ্রেস সোচ্চার হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনেও জেলায় আরো অনেক বেশি রেশন ডিলার নিয়োগ করে খাদ্য বন্টনকে সহজতর করার বিষয়টি নিয়ে ইস্যু করে তাঁরা লড়বেন বলে জানান নেপাল মাহাত। বলেন, বিজেপি আজ পর্যন্ত কোন স্থানীয় সমস্যা নিয়ে সোচ্চার হল না। শহরের সাহেব বাঁধকে জাতীয় সরোবর ঘোষনা হোক বা জেলাতে শিল্প তালুক গড়ার ক্ষেত্রে এয়ারপোর্টের বাস্তবায়নের বিষয়টিও আমারই লড়াইয়ের ফল বলে দাবি নেপাল বাবুর। কিন্ত অর্ধেক পরিকাঠামো থাকা সত্ত্বেও বিগত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির সাংসদ নির্বাচিত হয়েও জেলায় এয়ারপোর্ট চালু করার বিষয়টি নিয়ে তিনি এখনও কোন উদ্যোগই নেননি বলে অভিযোগ নেপাল মাহাতর। তিনি আরো দাবি করেন, ফলে তৃণমূলের ভাঁওতাবাজী যেমন সকলেই বুঝে গেছেন, অন্যদিকে বিজেপির হাত ধরে জেলার যে বিন্দুমাত্র উন্নয়ন ঘটবে না, সেটাও মানুষ এখন টের পেয়ে গিয়েছেন।
শেয়ার করুন