নিজস্ব সংবাদদাতা , পুরুলিয়া :
০২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১
বিধানসভা ভোটের আগে দলীয় সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের ফাঁকফোকর মেটাতে বদ্ধ পরিকর পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল কংগ্রেস। কোথাও কোথাও মুখদেখাদেখি বন্ধ থাকা দুপক্ষকে পাশাপাশি বসিয়ে বৈঠক করে কাজের দায়িত্ব ভাগ করে দিচ্ছেন জেলা সভাপতি সহ জেলা নেতৃত্ব। কোথাও আবার নিজেকে ‘বঞ্চিত’ ভাবা তৃণমূল নেতাকেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে লড়াইয়ের ময়দানে মাঠে নামাচ্ছে তৃণমূল। রাজ্য সরকারের উন্নয়নের প্রচারের পাশাপাশি বিধানসভা ভোটের গেরুয়া শিবিরকে রুখে দিতে নিজেদের ফাঁকফোকড় মেটানো যে জরুরি সেকথা ভেবেই এবিষয়ে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে জেলা তৃণমূল।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছেল,বিভিন্ন স্তরের নেতাদের ইগোর লড়াই এবং একজোট হয়ে কাজ করতে না পারার ফল গত পঞ্চায়েত এবং লোকসভা ভোটে ভুগতে হয়েছিল তৃণমূলকে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবারের ভোটে আগে থেকেই সাবধান রয়েছে জেলা তৃণমূল। একই সঙ্গে পুরুলিয়া জেলাতে দলের নতুন জেলা সভাপতি হওয়ার পর থেকেই যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং যৌথভাবে কাজ করার প্রবণতার কয়েকগুন বেড়েছে বলে মানছেন দলের সর্বস্তরের কর্মীরা। জেলার বিভিন্ন প্রান্তে অঞ্চল এবং ব্লক স্তরের সংগঠনের ভেতরে যে সমস্যা রয়েছে তা মেটাতেও উদ্যোগী হয়েছে জেলা তৃণমূল।
এবিষয়ে দলের পুরুলিয়া জেলা সভাপতি গুরুপদ টুডু বলেন, দুয়ারে সরকার,স্বাস্থ্য সাথী সহ রাজ্য সরকারের অনান্য প্রকল্পের কথা আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার করছি। তবে শুধু প্রচার নয়। সংগঠনের ফাঁকফোকর মেটানোর ওপরেও জোর দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের ভেতরে বিভেদ থাকলে তা ভোটে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই জেলা, ব্লক এবং অঞ্চল স্তরের নেতাদেরও নিজেদের মধ্যে কোনও সমস্যা এবং অভাব অভিযোগ থাকলে তা মেটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। জেলা তৃণমূলের ঐক্যবদ্ধ রূপই এবারের ভোটে আমাদের বাড়তি উৎসাহ জোগাবে। সেই সঙ্গে যারা দাদার অনুগামী ছিলেন তাঁরাও বর্তমানে দাদাকে ছেড়ে জেলা তৃণমূলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় রয়েছেন। এবিষয়ে দলের পুরুলিয়া জেলার কো-অর্ডিনেটর সুষেণ মাঝি বলেন, যেসব নেতাকর্মীদের নিজেদের মধ্যে কোনও সমস্যা রয়েছে সেই দুপক্ষকেই সরাসরি পাশাপাশি বসানো হচ্ছে। জেলা নেতারাও ওই বৈঠকে উপস্থিত থেকেই বিবদমান নেতাদের অভাব অভিযোগ শুনে তাঁদের কাজের দায়িত্ব ভাগ করে দিচ্ছেন। যে যেভাবে দলে সক্রিয় হতে চাইছেন তাঁকে সেভাবেই কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রয়োজনের বুথস্তরের নেতাকর্মীদের সমস্যাও জেলাতে ডেকে মেটানো হচ্ছে। সর্বস্তরের নেতাকর্মীরই গুরুত্ব রয়েছে জেলা তৃণমূলে।
অন্যদিকে পুরুলিয়া জেলাতে একসময় দাদার অনুগামী হিসাবে জেলা তৃণমূলের অনেক নেতাকে দেখা গেলেও তাঁদের অধিকাংশই বর্তমানে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে যোগাযোগ ছিন্ন করেছেন। তৃণমূলের কর্মসূচিতে ওই নেতারাও সক্রিয় রয়েছেন। এবিষয়ে তৃণমূলের পুরুলিয়া জেলার সাধারণ সম্পাদক তথা বরাবাজার পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা সুদর্শন মাহাত বলেন,একসময় দাদার অনুগামী ছিলাম। কিন্তু দাদা,মমতা দিদিকে ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার দিন থেকেই তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক নেই। আমরা তখনও তৃণমূলে ছিলাম। আগামী দিনেও থাকবে। দল যা দায়িত্ব দেবে সেই কাজ করব।
এবিষয়ে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রাক্তন সভাপতি তথা জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক নিরঞ্জন মাহাত বলেন, যে দিন থেকে শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন সেই দিনই দাদার অনুগামীর অস্তিত্বই আর থাকলো না। শুভেন্দুদা একসময় জঙ্গলমহল এলাকায় দলের দায়িত্বে ছিলেন। মন্ত্রী ছিলেন। তাই তাঁর সঙ্গে ছিলাম। উনি বিজেপিতে গিয়েছেন বলে তো আর আমরা দিদিকে ছাড়তে পারব না। জেলা সভাপতি যে কাজের দায়িত্ব দেন সেটা পালন করার চেষ্টা করি।
শেয়ার করুন