নিজস্ব সংবাদদাতা, বরাবাজার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ঃ

দেহ উদ্ধারের ২৪ ঘন্টা পরেও ম়ৃত চিকিৎসকের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ওঠা সম্ভব হয়নি বলে শনিবার বরাবাজার পুলিশের দাবি। অন্যদিকে মৃত মহিলা চিকিৎসকের স্বামী এবং সন্তানের কোন হদিস পাওয়া না যাওয়ায় রহস্য আরো বেড়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে বরাবাজারের হাসপাতালে আবাসন থেকে মহিলা চিকিৎসকের পচা-গলা মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে বরাবাজার থানার পুলিস। জেলা পুলিসের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ঘটনার তদন্তে শনিবার বরাবাজারে আসেন। এদিনই মৃতদেহের ময়নাতদন্ত হয় পুরুলিয়া মেডিক্যাল কলেজে। অন্যদিকে এদিন সন্ধ্যায় প্রিয় চিকিৎসকের মৃত্যুতে বরাবাজার বাজার এলাকায় শোক মিছিল করেন এলাকার বাসিন্দারা।

প্রসঙ্গত শুক্রবার বরাবাজার ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিসক সুচিত্রা সিং সর্দারের প্লাসটিকে মোড়া পচা-গলা মৃতদেহটি ওনারই কোয়ার্টার থেকে তালা ভেঙ্গে উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিকভাবে অনুমান বেশ কয়েকদিন আগেই মৃত্যু হয়েছে ওই চিকিৎসকের। হাসপাতাল সূত্রে আরো জানা গিয়েছে, মেদিনীপুর শহরের বাসিন্দা সুচিত্রা দেবী দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে বরাবাজার হাসপাতালে কর্তব্যরত রয়েছেন। হাসপাতালে আবাসনে নিজের চার বছরের শিশু সন্তানের সঙ্গে থাকতেন ওই চিকিৎসক। স্বামী বাইরে থাকলেও মাঝে মাঝে হাসপাতালের আবাসনে আসতেন। বাড়িতে পরচারিকারা দেখাশোনা করতেন শিশুর। বরাবাজার ব্লকের বিএমওএইচ রবীন সোরেন বলেন, গত সোমবার ওই চিকিৎসক পরীক্ষা দিতে দুর্গাপুরে গিয়েছিলেন। ওইদিনই বিকালে ফিরে আসেন। বিকালে স্বামীর সঙ্গেই তাঁকে শেষবার দেখা গিয়েছিল। আমার সঙ্গে শেষবার কথা হয়েছিল প্রায় দশ দিন আগে। গোটা ঘটনায় আমরা মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছি। বরাবাজার থানার পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এদিন সকালে হাসপাতালের ওই চিকিৎসকের আবাসনে যান বরাবাজার থানার আইসি সহ তদন্তকারী অফিসারেরা। আবাসনের সামনের ফাঁকা জায়গা, ঢাকা দেওয়া নর্দমা সহ বিভিন্ন দিকে তল্লাশি চালান তারা। পরে আবাসনের ভেতরে ঢুকে প্রতিটি রুমই পুনরায় দেখার পাশাপাশি রুমের ভেতরে থাকা বিছানার চাদর থেকে শুরু করে বেশ কিছু সামগ্রী তদন্তের স্বার্থে থানায় নিয়ে আসেন পুলিস আধিকারীকেরা। বরাবাজার থানার পুলিসের দাবি, মৃত চিকিৎসকের স্বামী এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের খোঁজ মেলেনি। চিকিৎসকের শিশুসন্তানেরও খোঁজ পাওয়া যায়নি। হাসপাতাল সূত্রে আরো জানা গিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যায় হাসপাতালেরই অন্য এক চিকিৎসককে সুচিত্রাদেবীর স্বামী জানিয়েছিলেন যে সুচিত্রাদেবী অসুস্থ রয়েছেন। এমনকি পরে হাসপাতালে ফোন করে মৃত চিকিৎসকের স্বামী জানিয়েছিলেন যে, অসুস্থতার কারণে সুচিত্রাদেবীকে মেদিনীপুরের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মৃত চিকিৎসকের স্বামী হাসপাতালে একাধিক জনকে ভিন্ন ভিন্ন কথা বলায় রহস্য আরো বেড়েছে। অন্যদিকে বরাবাজার পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি প্রতুল মাহাত বলেন, বরাবাজারের বাসিন্দা হিসেবে একজন জনপ্রিয় চিকিৎসককে হারালাম। দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার এবং উপযুক্ত শাস্তি দাবি করছি।

শনিবার সন্ধ্যায় মৃত প্রিয় চিকিসকের স্মরণে বরাবাজারের নামোপাড়া থেকে একটি শোক মিছিলে অংশগ্রহন করেন স্থানীয় অগণিত সাধারণ মানুষ।

শেয়ার করুন

You cannot copy content of this page