নিজস্ব সংবাদদাতা, পুরুলিয়া, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১ঃ

আজ, বৃহস্পতিবার পুরুলিয়া পৌরসভার অন্তর্গত ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের রাস্তার ধারের একটি অবৈধ ও বেআইনি নির্মাণ পৌর প্রশাসনের নির্দেশে ভেঙে দিতে বাধ্য হল প্রোমোটার সংস্থা। ঘটনার সূত্রপাত আট-দশ দিন আগে। পৌর প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে পুরুলিয়া-টাটা-রাঁচি মূল সংযোগ রাস্তার উপর (শহরের কুক্সকম্পাউন্ড মোড়ে) বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে একটি বহুতল আবাসন রয়েছে। যেটিতে বহুল সংখ্যায় বাণিজ্যিক দোকানঘর ও রেসিডেন্সিয়াল ফ্ল্যাট রয়েছে। চলতি মাসের ১৫ তারিখ ওই বহুতল আবাসনের সামনে নীচের তলার ফাঁকা জায়গায় আবাসনের প্রোমোটার অবৈধ নির্মাণ করে নিয়ম বহির্ভূত ভাবে রাস্তার পাশে দখল করছেন বলে আবাসনের বাসিন্দা ও স্থানীয়রা পুরুলিয়া পৌরসভায় লিখিত অভিযোগ করেন। আবাসনের বাসিন্দাদের আরো অভিযোগ দোকান ঘর বা ফ্ল্যাট বিক্রি করার সময় প্রোমোটার মূল নক্সায় ওই স্থানটি ফাঁকা রাখা হবে, এই চুক্তিতে ক্রেতাদের আবাসনের ফ্ল্যাট ও দোকানঘর বিক্রি করেছেন। কিন্ত এখন প্রোমোটার চুক্তি ভঙ্গ করে ওই ফাঁকা স্থানে নির্মাণ কাজ করছেন। বাসিন্দাদের দাবি এই নির্মাণের জন্য প্রোমোটার পুরুলিয়া পৌরসভার কাছ থেকে কোন আইনানুগ অনুমতিও নেননি। এমনকি পৌরসভা নির্মাণের কোন অনুমতি দেবে না জেনেই নাকি প্রোমোটার অবৈধ নির্মাণ করছেন বলেও আবাসনের বাসিন্দাদের দাবি। সংশ্লিষ্ট থানাতেও ওইদিন অভিযোগ করেন বাসিন্দারা। যদিও সংশ্লিষ্ট প্রোমোটার সংস্থা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, অস্থায়ী নির্মাণের জন্য পৌরসভার কোন অনুমতির প্রয়োজন হয় না। এদিকে ১৫ তারিখ বাসিন্দারা অবৈধ নির্মাণ স্থল ঘিরে বিক্ষোভ দেখালে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন পৌর প্রশাসক নবেন্দু মাহালি সহ পৌরসভার একাধিক ইঞ্জিনিয়ার ও কর্মী। পুলিশ প্রশাসনও তড়িঘড়ি ১৪৪ ধারা জারি করে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে। ওইদিন নবেন্দু বাবু বাসিন্দাদের আশ্বাস দেন পৌরসভার বাস্তুকার ও আইন বিভাগের কর্মীরা বিষয়টি খতিয়ে দেখে দুপক্ষকেই হিয়ারিং-এ ডাকবে। সেইমতো চলতি সপ্তাহে পুরুলিয়া পৌরসভায় হিয়ারিংও হয়। হিয়ারিং-এর পর নির্মাণটি অবৈধ বলে বিবেচিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রোমোটার সংস্থাকে নির্মিত অংশ ভেঙে ফেলতে বলে পৌরসভা। এ বিষয়ে আজ পৌর প্রশাসক নবেন্দু মাহালি জানান, দিন কয়েক আগে ওই স্থানে অবৈধ নির্মাণ হওয়ার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাই। অভিযোগের ভিত্তিতে নোটিশ দিয়ে পৌরসভায় ডাকা হয় প্রোমোটার সংস্থাকে। নবেন্দু বাবু জানান, প্রোমোটার সংস্থার প্রতিনিধিরাও নির্মাণের অবৈধতা স্বীকার করে নিয়েছেন। তাই পৌর প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেটি ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট প্রোমোটার সংস্থা এদিন অবৈধ নির্মাণটি ভেঙে দেয়।

শেয়ার করুন

You cannot copy content of this page