নিজস্ব সংবাদদাতা, পুরুলিয়া, ১০ নভেম্বর ২০২১ঃ
হিন্দী ভাষীদের অন্যতম সেরা উৎসব ছট পুজো। তবে বর্তমানে এই ছট পুজো শুধু হিন্দীভাষীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বাঙালিরাও এই উৎসবে প্রাণ খুলে অংশগ্রহণ করেন। রাজ্য সরকারও ছট পূজো উপলক্ষে দু’দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে। বুধবার বিকেলে পুজোর প্রথম অর্ঘ্য দিয়ে পুজোর সূচনা ও বৃহস্পতিবার সকালে দ্বিতীয় অর্ঘ্যের মধ্য দিয়ে ছট পূজার সমাপ্তি ঘটে। প্রতি বছরই অর্ঘ্য দানে বিপুল সংখ্যক পূন্যার্থীদের সমাগম হয় পুরুলিয়ার সাহেব বাঁধে। এবছরও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। বুধবার দুপুর গড়াতেই কাতারে কাতারে পূন্যার্থীরা সমবেত হয়ে পুজোর আচার পালন করলেন শহরের সাহেব বাঁধের ঘাটে। বুধবার সাহেব বাঁধের ঘাটে এসে পূন্যার্থীদের সঙ্গে উৎসবের শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে বর্তমান পরিস্থিতি সরকারি কোভিড বিধির আওতায়। তাই সাহেব বাঁধের ভিড় এড়িয়ে শহর সংলগ্ন কাসাই নদীর ঘাটেও বহু পূন্যার্থী এদিন সমবেত হন। কাসাই নদীর ঘাটে অর্ঘ্য দান করতে আসা পূন্যার্থী বিভা কর্মকার বলেন, বর্তমান কোভিড পরিস্থিতিতে ভিড় এড়িয়ে সাহেব বাঁধের পরিবর্তে কাসাইয়ের ঘাটে এসেছেন পুজো দিতে। এদিন বলরামপুরের মাইতি বাঁধের ছট পুজোর ঘাটেও দেখা গিয়েছে পূন্যার্থীদের ঢল। প্রত্যেকেই সূর্য্য দেবকে বিকেলের অর্ঘ্য সুষ্ঠ ভাবে দিতে পেরে বিশেষ খুশি।

অন্যদিকে বুধবার তুলিনের সুবর্ণরেখা নদী ঘাটে ছট পুজোর জন্য আগত পূন্যার্থীদের সঙ্গে সশরীরে উপস্থিত থেকে উৎসবের শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন বাঘমুন্ডির বিধায়ক সুশান্ত মাহাত। এদিন নদী ঘাটে পুজো দিতে আসা মানুষদের কোনরকম অসুবিধের সম্মুখীন হতে হচ্ছে কিনা, সেবিষয়েও জনে জনে খোঁজ নিয়েছেন সুশান্ত বাবু। বিধায়কের সঙ্গে এদিন সুবর্ণরেখা ঘাটে উপস্থিত ছিলেন ঝালদা-১ ব্লকের তৃণমূল সভাপতি অলক চট্টোপাধ্যায় ও দলের তুলিন অঞ্চল সভাপতি রানা বাবুও। নিতুড়িয়া ব্লকে দামোদরের ঘাটে সপরিবারে উৎসব পালন করলেন নিতুড়িয়া পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি শান্তি ভূষণ প্রসাদ যাদব। নিজের পুজো ছাড়াও আগত স্থানীয় পূন্যার্থীদের সুবিধা-অসুবিধার বিষযেও খোঁজ খবর নেন তিনি।

