নিজস্ব সংবাদদাতা, ঝালদা, ৩ ডিসেম্বর ২০২১ঃ

২০১৭ সালের ৬ এপ্রিল মহকুমা হিসেবে প্রশাসনিক কাজ শুরু হয়েছে ঝালদায়। কিন্তু সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা বা চিকিৎসা পরিকাঠামো সেই তলানিতেই পড়ে রয়েছে আজও। রীতিমত ক্ষোভের সঙ্গে এরকমই অভিযোগ ঝালদা পৌর এলাকার নাগরিকদের। ঝালদার চিকিৎসা পরিকাঠামো উন্নয়নের দাবিতে এক সময় ঝালদা নাগরিক মঞ্চের ব্যানারে বহু আন্দোলন করেছেন ঝালদা পৌর এলাকার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা তথা অবসরপ্রাপ্ত রাজ্য সরকারি কর্মী হেমন্ত চট্টোপাধ্যায়, ঝালদা পৌরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর বৈদ্যনাথ কৈবর্ত্য প্রমুখরা। কিন্ত আজও গ্রামীণ ও পৌর এলাকার নাগরিকদের চিকিৎসার জন্য নির্ভর করতে হয় মুসনার বিপিএইচসি-র উপরই। হেমন্ত চট্টোপাধ্যায় বলেন, ঝালদার মুসনায় বি পি এইচ সি ছাড়া দুটি পি এইচ সি এবং ২৩ টি সাব সেন্টার। যার মধ্যে খামারের সাব সেন্টার দীর্ঘদিন বন্ধ। তিনি বলেন, সার্বিকভাবেই চিকিৎসা পরিষেবা ঝালদায় খারাপ। একমাত্র বি পি এইচ সি-তে চিকিৎসা পরিষেবা প্রায় তলানিকে বললেই চলে। তার ওপর এমনিতেই পৌর এলাকায় জনসংখ্যার চাপ বাড়ছে। সুইসা, কোটশিলা, এমনকি ইদানিং মুরির বহু রেলওয়ে কর্মী ঝালদা পৌর এলাকায় বসবাস করছেন। ফলে ঝালদা এলাকার নাগরিকদের সরকারি চিকিৎসা পরিষেবার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত দুর্ভোগের শিকার হতে হয়।

ঝালদা পৌর এলাকার বাসিন্দা, এন জি ও কর্মী মুকেশ দাস বলেন, ১২ টি ওয়ার্ডে প্রায় ২৫ হাজারের মত নাগরিক। একমাত্র সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র গ্রামীণ হাসপাতাল। সেখানেও পরিকাঠামো অত্যন্ত খারাপ। ফলে দুর্ভোগের শিকার হন নাগরিকরা। একই কথা বলছেন ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সুমন চক্রবর্তীও। তিনি বলেন, সামান্য ডেলিভারি পেশেন্ট নিয়েও রাঁচি ছুটতে হয় আমাদের। ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা, স্থানীয় ওষুধ ব্যবসায়ী অমিত মানসিংহ বলেন, আমরা ভাগ্যবান যে মাত্র ৭৫ কিমি দূরে রাঁচি। তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতাল অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পুরুলিয়া বা বাঁকুড়া রেফার করে। এখানে অপারেশনের কোন পরিকাঠামোই নেই। আরেক ওষুধ ব্যবসায়ী ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আনন্দ রুংটা বলেন, সামান্য মেটারনিটি কেসেও বাইরে রেফার করা হয় রোগীকে। পরিকাঠামো একেবারে বেহাল। ৫০ বছর ধরে এরকমই দেখছি। তিনি বলেন, মহকুমা হয়েছে। এখন উন্নত পরিকাঠামোর সরকারি হাসপাতাল একান্তই প্রয়োজন। ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা পেশায় এল আই সি এজেন্ট অসীম সিনহা বলেন, চিকিৎসা পরিষেবা প্রায় শূণ্যের কাছাকাছি বলা যায়। সবকিছুতেই রোগীকে বাইরে রেফার করা হয়। যাঁদের আর্থিক সঙ্গতি রয়েছে তাঁরা রাঁচি যান, অন্যরা পুরুলিয়া। অনেক বেশি পরিমাণে চিকিৎসক ও চিকিৎসা কর্মীর প্রয়োজন, বেড বাড়ানো প্রয়োজন। ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বিধান চন্দ্র বলেন, গ্রামীণ ও পৌর এলাকার নাগরিকদের চাপ। ওই সামান্য পরিকাঠামো নিয়ে কখনো সম্ভব? বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, চিকিৎসা কর্মীর একান্ত প্রয়োজন। তিনি বলেন, একপ্রকার অবহেলাতেই চলছে ঝালদার চিকিৎসা পরিষেবা। ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ব্যাঙ্ক কর্মী কার্তিক বাউরি বলেন, চূড়ান্ত অবহেলার মধ্যে রয়েছে ঝালদার চিকিৎসা পরিকাঠামো। মহকুমা হয়েছে, কিন্ত উন্নত পরিকাঠামো সম্বলিত সরকারি হাসপাতাল এখনো হল না। একই কথা ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আরেক বাসিন্দা ও স্থানীয় গ্রোসারি দ্রব্যের ব্যবসায়ী সুরেশ পুরিয়ারও। তিনি বলেন, এত জনসংখ্যা বাড়ছে দিনদিন। কিন্ত বি পি এইচ সি-র পরিকাঠামোর কোন পরিবর্তন হয়নি। অগত্যা ঝালদার ৮০ শতাংশ মানুষকে চিকিৎসার জন্য ছুটতে হয় রাঁচিতে। ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা তথা স্থানীয় ব্যবসায়ী উদয় পরামাণিক বলেন, ঝালদাতে চিকিৎসা পরিকাঠামো একেবারে নেই বললেই চলে। বড় সরকারি হাসপাতাল একান্ত প্রয়োজন।

ফরওয়ার্ড ব্লকের ঝালদা এরিয়া কমিটির নেতা দেবরঞ্জন মাহাত বলেন, বিগত বাম জমানায় বি পি এইচ সি তৈরি হয়। সে সময় এখানে যথেষ্ট ভালো পরিকাঠামো ছিল। দিনে দিনে চিকিৎসা পরিকাঠামো ও পরিষেবা উন্নত হওয়ার কথা। কিন্ত ঝালদায় উল্টোটাই হয়েছে। তিনি বলেন, জনসংখ্যা বেড়েছে অনেক। কিন্ত পরিকাঠামোর উন্নয়ন ঘটেনি। পরিষেবাও ভীষণ খারাপ। মহকুমা হয়েছে বহুদিন। অতি শীঘ্রই মহকুমা হাসপাতালের প্রয়োজন।

শেয়ার করুন

You cannot copy content of this page