নিজস্ব সংবাদদাতা, পুরুলিয়া, ১৬ ডিসেম্বর ২০২১ঃ

পুরুলিয়া শহরে করোনা ভ্যাকসিনর দ্বিতীয় নেওয়ার আগেই শংসাপত্র চলে আসায় বিপাকে শহরবাসি। কাপড় দোকানে কাপড় বিক্রিতে ব্যস্ত শহরের ব্যবসায়ী বিবেক সারাওগী। তাঁর মোবাইলে দুপুরে আচমকা ম্যাসেজ আসে বান্দোয়ানে তাঁর করোনা ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ সাফল্যের সঙ্গে নেওয়া হয়ে গিয়েছে। শংসাপত্রে দেখা যায় তাঁকে ভ্যাকসিন দিয়েছেন টুম্পা গড়াই নামে এক স্বাস্থ্য কর্মী। পুরুলিয়া শহরের একটি নামকরা হোটেলের কর্মী কোমল শুক্লা। ব্যক্তিগত কাজে শহরের বাইরে রয়েছেন। তাঁর করোনা ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নেওয়া হয়েছে বেশকিছু আগেই। নির্দিষ্ট সময়ে দ্বিতীয় ডোজ নিতে আসতে না পারলেও ৩০ নভেম্বর তাঁর মোবাইলে ম্যাসেজ যায় যে,কুস্তাউর ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে তাঁর দ্বিতীয় ডোজ সাফল্যের সঙ্গে দেওয়া হয়েগিয়েছে। টিকা দিয়েছেন চিত্রা মাহাত নামে স্বাস্থ্য কর্মী। পুরুলিয়া শহরের শাসকদলের দাপুটে নেতা। বাড়িতে দুজন প্রাক্তন কাউন্সিলার। প্রাক্তন ওই কাউন্সিলারের বৃদ্ধা স্ত্রী অসুস্থ। হাত ভেঙে কার্যত গৃহবন্দি। ডিসেম্বর মাসের ৪ তারিখ পরিবারের এক সদস্যের মোবাইলে ম্যাসেজ আসে যে তাঁর মায়ের করোনার দ্বিতীয় ডোজ নেওয়া হয়ে গিয়েছে। বান্দোয়ান বিডিও অফিসে ওই বৃদ্ধা করোনার দ্বিতীয় ডোজ সাফল্যের সঙ্গে নেওয়া হয়েগিয়েছে। ম্যাসেজ দেখে হতবাক গোটা পরিবার। পুরুলিয়া শহরের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তাঁর দুটি মোবাইল নাম্বারে তাঁর নিজের নামেই দুটি টিকা সাফল্যের সঙ্গে নেওয়ার ম্যাসেজ এসে গিয়েছে। পুরুলিয়া শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের বহু মানুষ করনো ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার আগে কমবেশি এরকম সমস্যায় পড়েছেন। টিকা নেওয়ার আগেই তাঁদের টিকা নেওয়ার শংসাপত্র তৈরী হয়ে যাওয়ায় তাঁরা কিভাবে টিকা পাবেন তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। এবিষয়ে বিবেক সারাওগী বলেন, দোকানে কাপড় বিক্রিতে ব্যস্ত ছিলাম ১১ ডিসেম্বর। আমি পুরুলিয়া শহরে নিজের দোকানে থাকাকালীন আমার নাম এবং মোবাইল নাম্বার দিয়ে বান্দোয়ানে কিভাবে করোনার দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার শংসাপত্র তৈরী হয়েগেল বুঝে উঠতে পারছি না। প্রথম ডোজ একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে ছিলাম। এবার দ্বিতীয় ডোজ না নিয়েই শংসাপত্র তৈরী হয়ে যাওয়ায় বাস্তবে কিভাবে দ্বিতীয় ডোজ পাবো জানি না। ওই শংসাপত্র নিয়ে হয়তো ট্রেনে বাসে উঠতে পারবো কিন্তু করোনা থেকে বাঁচবো কি করে। শহরের দাপুটে রাজনৈতিক পরিবারের এক সদস্য জানান, মা অসুস্থ। তাছাড়া টিকা নিতে হলে পুরুলিয়া শহর ছেড়ে ৮০ কিলোমিটার দূরে বান্দোয়ানে কেন যাবো? কিভাবে এরকম শংসাপত্র তৈরী হল জানিনা। কোমল শুক্লা বলেন, পুরুলিয়া শহরের বাইরে রয়েছি। অথচ ৩০ নভেম্বর নাকি আমি টিকা নিয়েছি বলে ম্যাসেজ পেয়েছি। কুস্তাউরে নাকি টিকা দেওয়া হয়েছে। কিভাবে এটা সম্ভব হল বুঝে উঠতে পারছি না। স্থানীয় সূত্রে জানাগিয়েছে, পুরুলিয়া শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাসিন্দারা এরকম সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। কাউকে স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মীরা মৌখিক ভাবে টিকা দিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন,আবার কাউকে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে বলে মুখ খুলতে নিষেধ করেছেন বলে অভিযোগ। দ্বিতীয় ডোজ তাঁরা কিভাবে পাবেন তা ভেবে কুল কিনারা পাচ্ছেন না বাসিন্দারা। এবিষয়ে পুরুলিয়ার জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের ডিএমসিএইচও বুদ্ধদেব মন্ডল বলেন, এধরনের কোনও ঘটনা হওয়া অন্যায় এবং অনৈতিক। কিভাবে হল খতিয়ে দেখতে হবে। তবে যারা ভ্যাকসিন পাননি তাঁদের শংসাপত্র চলে এলেও তাঁরা বঞ্চিত হবেন না। তাঁরা স্বাস্থ্য দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করলে অবশ্যই ভ্যাকসিন দেওয়া হবে।

শেয়ার করুন

You cannot copy content of this page