নিজস্ব সংবাদদাতা, পুরুলিয়া, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২২ঃ

দীর্ঘ চার বছর ধরে বার বার পুরুলিয়া পুরসভায় আবাস যোজনার বাড়ির জন্য আবেদন জানিয়ে এলেও সমস্যার সমাধান হয়নি পুরুলিয়া শহরের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের পোকা বাঁধ পাড়ার বাসিন্দা তপশিলি জাতিভুক্ত বৃদ্ধা আরতি বাউরির। পায়ের চপ্পল খুইয়ে গেলেও কেউ এই দুস্থ পরিবারকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়নি। নিরুপায় ওই বৃদ্ধা শেষমেষ চিঠি দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সেই চিঠির আবেদনের ভিত্তিতে পুরুলিয়া জেলা প্রশাসনের কাছে বৃদ্ধার আবেদনের বিষয়টি দেখার নির্দেশ আসে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর থেকে।আর এই নির্দেশ পাওয়ার পরই নড়েচড়ে বসলো পুরুলিয়া পৌরসভা। তড়িঘড়ি বুধবার সকালেই বৃদ্ধার বাড়িতে তৃণমুল পরিচালিত পৌর প্রশাসক নবেন্দু মাহালি হাজির হন পৌর আধিকারিকের নিয়ে।

অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ছেলে-বৌমা এবং কোলের নাতি-নাতনিদের নিয়ে ভাঙা কাঁচা বাড়ীতে ত্রিপলের ঘেরা দেওয়া ছোট্ট বাড়িতে বসবাস করেন আরতী দেবীর পরিবার।বর্ষা কালে খুবই অসুবিধায় পড়তে হয় তার পরিবারকে। কোনোমতে প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে ছোট্ট ঘরেই মাথা গুঁজে থাকতে হয় তার পরিবারকে। অভাবী দিন আনা দিন খাওয়া পরিবারের কাছে দুবেলা খাবার জোটানোয় দায়, নতুন বাড়ি তৈরি করা তো দূর অস্ত । বছরের পর বছর এভাবেই চলছিল।চার বছর ধরে পুরুলিয়া পৌরসভায় আবেদন জানিয়েও তার বাড়ী মেলেনি। শুধু ওই পরিবারের কাছে নয়, পুরুলিয়া পৌরসভার ১৯নম্বর ওয়ার্ডের পোকাবাঁধ পাড়ায় বেশ কয়েকটি পরিবারের সেই একই হাল। তাই নিরুপায় হয়ে ওই বৃদ্ধা ২০২১সালের ১৫ সেপ্টেম্বর মেইল মারফৎ শেষমেশ চিঠি দেন মুখ্যমন্ত্রীকে। এই চিঠির ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর থেকে বিষয়টি দেখার নির্দেশক আসতেই শুরু হয় পৌর প্রশাসনের দৌড় ঝাঁপ। অবশেষে ওই বৃদ্ধার পরিবারকে শীঘ্রই আবাস যোজনার বাড়ি দেওয়ার আশ্বাস দেন পৌর প্রশাসক নবেন্দু মাহালি।

শেয়ার করুন

You cannot copy content of this page