ডাঃ শিবশঙ্কর মাহাতো
৪ আগস্ট , ২০২০
পালস অক্সিমিটার এখন যেনো অতি পরিচিত একটি নাম । সবাই কিনছেন কাছের দোকান থেকে । দাম ছিল হাজার থেকে দেড় হাজার।তা হয়ে গেলো প্রায় তিন হাজার । ভালো ব্র্যান্ড কিনলে দাম আরেকটু বেশি পড়বে । সকাল বিকাল ফোন আসছে এই ব্র্যান্ড টা কিনবো , এটা ভালো?কিছু কোম্পানি সদ্য প্রোডাক্ট নিয়ে এসেছে , এগুলোর দাম কম । পুরানো আমাদের চেনা বিশ্বাসযোগ্য কোম্পানির কিনতে গেলে ওদের দাম বেশি। আমাদের রিসার্চের পরিসংখ্যান অনুযায়ী,পালস অক্সিমিটার এর রেজাল্ট রক্তের Oxygen লেভেল হয় ২ বেশি বা ২ কম দিতে পারে। বেশির ভাগেরই ক্ষেত্রে পালস অক্সিমিটার এর রেজাল্ট সঠিক আসে।
এই যন্ত্র টি বহু পুরনো , ইতিহাস ঘাটলে ১৯৯৫ সালের আবিস্কৃত যন্ত্র। ক্রমে উন্নত হতে হতে আজ ডিজিটাল হয়ে একবারে আঙ্গুলের ডগায়।
এই পালস অক্সিমিটার যন্ত্র দিয়ে আমরা দুটি জিনিস সহজেই জানতে পারি , একটি হল আমাদের মানব শরীরে রক্তে অক্সিজেন এর মাত্রা শতাংশ অনুযায়ী এবং দ্বিতীয় যেটা জানতে পারি সেটা হলো আমাদের শরীরে এর হার্ট রেট অর্থাৎ এক মিনিটে কতবার শরীরের হৃৎপিণ্ড টি পাম্প করছে.
এবারে জানি নর্মাল অবস্থায় মাত্রা কত :
১. অক্সিজেন সেচুরেসান :- স্বাভাবিক মাত্রা ৯৫-১০০
২. হার্ট রেট : – ৬০-১০০/মিনিট
কোন আঙ্গুলে লাগাতে হয়:-
যেকোনো আঙ্গুলে যন্ত্র টি লাগানো যায় , ফলাফল প্রায় একই, তবে বিজ্ঞানীদের মতে হাতের মধ্যমা আঙ্গুল টি সবচেয়ে ভালো রেজাল্ট দেয়।
কোন হাত এ যন্ত্র টি লাগাতে হয়:
ডানহাতি মানুষের অর্থাৎ যারা বেশির কাজ ডান হাত দিয়ে করেন তাদের ডান হাত এর মধ্যম আঙ্গুল এ লাগানো উচিত । বাঁহাতি দের ক্ষেত্রে বা হাতে বসালে ভালো রেজাল্ট বা সঠিক রেজাল্ট পাওয়া যায় ।
ফলাফল এর বিশ্লেষণ : এক্ষেত্রে আমাদের এই করোনা সংক্রমণ এর সময়ে মূলত অক্সিজেন মাত্রা নিয়েই আলোচনা করব , কারণ এটার উপর করোনা আক্রান্ত রোগী দের বা স্বাভাবিক ব্যাক্তির সচেতনতা এর ব্যাপার জড়িত।
যদি যন্ত্রে spo ২ এর মাত্রা ৯৫-১০০ এর মধ্যে আসে তাহলে তো ব্যাক্তি টি সম্পূর্ণ ভাবে অক্সিজেন এর মাত্রা শরীরে আছে , ফুসফুস স্বাভাবিক ভাবে শ্বাসপ্রশ্বাস হচ্ছে এবং কার্বন ডাই অক্সাইড এর বদলে শরীরে অক্সিজেন প্রবেশ করছে জা নর্মাল শরীরে হয়ে থাকে । কিন্তু ৯৫এর থেকে নিচে নেমে গেলে আমাদের ভাবতে হবে কিছু সমস্যা হলেও হতে পারে।
৯০-৯৪ এর মধ্যে রেজাল্ট আসলে ভাবতে আমার শরীরে অক্সিজেন এর মাত্রা শতাংশ অনুযায়ী কম আসছে এবং আমাকে চিকিৎসক এর কাছে যাওয়া উচিত ।আর যদি কোনো কারণে রেজাল্ট ৯০এর নিচে নেমে আসে তাহলে আমার ভাবতে হবে শরীরে বড় কিছু সমস্যা হচ্ছে । এক্ষুনি চিকিৎসা শুরু না করলে সমস্যা আরও বাড়বে এবং দ্রুত হসপিটালে নিয়ে গিয়ে সম্পূর্ণ চিকিৎসা প্রয়োজন ।
করোনা রোগে আক্রান্ত ব্যাক্তির ক্ষেত্রে বেশিরভগটাই (৯০%) কোনো সমস্যা ছাড়াই সহজে সুস্থ হয়ে যাচ্ছেন। বাকি রোগী দের জটিলতা হচ্ছে এবং ফুসফুস এর কার্য সম্পন্ন করতে পারে না এবং সেক্ষেত্রে আস্তে আস্তে শরীরে অক্সিজেন এর মাত্রা শতাংশ অনুযায়ী কম হতে থাকে , তাই আমরা এই যন্ত্র দিয়ে একটু অনুমান করতে পারি রোগী কখন স্বাভাবিক আছে কখন চিকিৎসকের সাথে আলোচনা করা উচিত বা কখন রোগী কে হাসপাতালে ভর্তি করা উচিত।
কিন্তু মনে রাখতে হবে এটাই একমাত্র পরীক্ষা নয় , এটা একটা সহজ পরীক্ষা এবং যেকোনো নন মেডিকেল পার্সন ও সহজেই যন্ত্র টি ব্যাবহার করতে পারবে , তাই এর বিক্রি ও বেশি হচ্ছে ।
কি কি কারণে ভুল রেজাল্ট হতে পারে: অনেক কারণ আছে , সাধারণ কয়েকটি বলে রাখি হাতের আঙ্গুল এ কোনো চর্ম রোগ বা ঘা বা কারোর ক্ষেত্রে অত্যধিক কাজের হলে আঙ্গুল শক্ত হয়ে যায়।
আরেকটি কথা অনেকের ক্ষেত্রে শরীরের কোনো রোগের জন্য (যেমন দীর্ঘদিনের ফুসফুসের রোগ ) অক্সিজেন মাত্রা বরাবর কম থাকে , ৯০-৯২ , তাহলে এটাই তার ক্ষেত্রে স্বাভাবিক , উনার ক্ষেত্রে এই ফলাফল নতুন কিছু না ।
নতুন পত্রিকা রাঙামাটি সংবাদের এর যাত্রা শুভ হোক ।সবাই সুস্থ থাকুন।
