নিজস্ব সংবাদদাতা, বলরামপুর, ৭ মার্চ ২০২২ঃ
জীবনের বড় পরীক্ষা তবু ভয় পাননি বলরামপুর থানা এলাকার বাসিন্দা ও বলরামপুর চন্ডীতলা হাইস্কুলের ছাত্রী ভারতী মাহাতো। তবে সাংসারিক জীবন যাপনের পাশাপাশি পড়াশোনাতে একটুও ঘাটতি রাখতে চাননি তিনি। স্বাভাবিক ভাবেই শ্বশুরবাড়ির সহযোগিতায় বাপের বাড়ি বলরামপুর থানার সুপুরডি থেকে পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। করোনা আবহের মধ্যেও অনলাইনে পড়াশোনা ও স্কুলের অন্যান্য কাজকর্মে নিজের শিশুকে পেটে রেখেই স্কুলে পৌঁছেছেন আর পাঁচটা ছাত্র-ছাত্রীদের মতই। স্বাভাবিকভাবেই আজকেও পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। পরীক্ষা দিতে আসার কথা ছিল বলরামপুর লালিমতী গার্লস হাই স্কুলে। তবে জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষার বেশ কয়েক ঘণ্টা আগে হঠাৎ প্রসব বেদনা। আরেকটা বড় পরীক্ষা দিতে হল তাকে। আজ সোমবার সকালে এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন বলরামপুর বাঁশগড় হাসপাতালে। ঘটনার কথা জানাজানি হতেই বলরামপুর ব্লক প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের তৎপরতায় ওই স্কুলছাত্রী নবজাতকের মাকে করে দেওয়া হয় পরীক্ষার ব্যবস্থা। হাসপাতালের বিছানাতেই নিজের সন্তানের উপর নজর রেখেই শেষ হলো আজকের মত বাংলা পরীক্ষা। আর এতেই খুশি পরিবারের লোকজনসহ প্রশাসনিক কর্তারাও। পরবর্তী পরীক্ষা গুলি শিশুকে পাশে রেখেই দিতে চাইছে ভারতী।সব শেষে বাঁশগড় হাঁস পাতালের সাস্থ্য আধিকারিক সৌমেন মণ্ডল ও কর্তব্যরত নার্সরা এদিন পরীক্ষা শেষে ভারতী মাহাতোকে ফুলের স্তবক ও কলম দিয়ে সংবর্ধনা জানালেন।
শেয়ার করুন