নিজস্ব সংবাদদাতা, পুরুলিয়া, ১২ মে ২০২২:
মাত্র ২৩ সেকেন্ডে উল্টো দিক থেকে ইংরেজী বর্ণমালা বলে রেকর্ড করল পুরুলিয়ার আত্রেয়ী। মাত্র ৫ বছর বয়সেই ইন্ডিয়া বুক রেকর্ডস এ নিজের নাম নথিভুক্ত করাতে পেরেছে সে। তাঁর সাফল্যে খুশী পরিবারের সদস্য থেকে শুরু করে এলাকার বাসিন্দারাও। ভবিষ্যতে আরও বড় রেকর্ড করার জন্য মেয়েকে প্রস্তুত করতে চাইছে ঘোষ দম্পতি।
পুরুলিয়া শহরের সিন্দারপট্টি এলাকার বাসিন্দা আয়েত্রী ঘোষ। পশ্চিম মেদিনীপুরের গোয়ালতোড় থানা এলাকায় আদি বাড়ি। বাবা অনিরুদ্ধ ঘোষ পুলিস কর্মী। কর্মসূত্রে পুরুলিয়া শহরের বাসিন্দা। মা সমাপ্তি ঘোষ গৃহবধু। আত্রেয়ীর বাবা অনিরুদ্ধ ঘোষ বলেন, বাড়িতেই চার বছর বয়স থেকেই ইংরেজী বর্ণমালা শেখা শুরু করে আত্রেয়ী। সম্প্রতি পুরুলিয়া শহরের একটি বেসরকারি ইংরেজী মাধ্যম স্কুলে ভর্তি হয়েছে আত্রেয়ী। বাড়িতে ওর মা ১ থেকে ১০০ সংখ্যা লেখার পাশাপাশি উল্টো দিক থেকেও ওই সংখ্যা লেখা শেখানো শুরু করে। তবে মেয়ে মাকে বারবার জানায়, সংখ্যার পরিবর্তে সে ইংরেজী বর্ণমালা উল্টোদিক থেকে লিখতে চায়। তারপর ঝটপট লিখে ফেলে। সেই থেকেই শুরু। অনিরুদ্ধবাবু এবং সমাপ্তিদেবী বলেন, নিজে লিখতে লিখতেই ঝটপট বলতেও পারে আত্রেয়ী। আমরা বড়রাও অতটা তাড়াতাড়ি বলতে পারতাম না। তারপর ২১ মার্চ ইন্ডিয়া বুক রেকর্ডসের জন্য অনলাইন আবেদন করা হল। আত্রেয়ী ২৩ সেকেন্ডে ইংরেজি বর্ণমালা উল্টোদিক থেকে অর্থাৎ জেড থেকে এ পর্যন্ত গড়গড় করে বলে ফেলে। সেই ভিডিও আপলোডও করা হয়। তারপর ২৯ মার্চ স্বীকৃতি আসে। গত শনিবার বাড়িতে মেডেল এসে পৌছায়।
অনিরুদ্ধবাবু আরও বলেন, পুলিসকর্মীর মধ্যবৃত্ত পরিবার। এসব রেকর্ড বা বড় কোনও বিষয় ভাবতেই পারিনি প্রথমে। এখনও ঠিক বিশ্বাস করে উঠতে পারছি না। তবে মেয়ের এই প্রতিভা যাতে আরও প্রকাশ পাই সেই চেষ্টা করবো। আগামী দিনে আরও বড় রেকর্ডের জন্য তাকে প্রস্তুত করব। বুধবার আত্রেয়ীদের বাড়িতে পৌছালে বাবা মাকে সঙ্গে নিয়ে সে আরও কম সময়েই ‘জেড’ থেকে ‘এ’ পর্যন্ত বলে শেষ করে। এবার সময় লাগে মাত্র ১৮ সেকেন্ড।


