নিজস্ব সংবাদদাতা , পুরুলিয়া
১০ আগস্ট , ২০২০
সোমবার সকালে গুরুপদ টুডু টেলিফোনে পত্রিকার প্রতিনিধিকে জানান, ‘একটু অপেক্ষা করুন দেখবেন জেলার কোথাও কোনো দ্বন্দ্ব থাকবে না’। সোমবার বিকেল ৩টেতেই থেকে তার প্রতিফলন দেখা গেল জেলা তৃণমূলে । রঘুনাথপুরে জনপ্রিয় নেতা বিষ্ণুচরন মেহেতা এক বছর দু মাস বিজেপি-তে থাকার পর পুনরায় নিজের দল তৃণমূলের ফিরে এলেন । যোগ দিয়েই তিনি জেলা তৃণমূলের প্রাক্তন নেতৃত্বের বিরুদ্ধে আঙ্গুল তুলে জানিয়েছেন, ‘ দলের নেতৃত্বে আমলাতান্ত্রিকতার প্রভাবের কারণেই বিজেপি-তে গিয়েছিলেন তিনি।যেখানে সে সময় নেতৃত্বের অযোগ্যতার কারণে সাধারণ মানুষের সঙ্গে তৃণমূলের দূরত্ব তৈরি হয়েছিল ‘। এ দিন তৃণমূলে যোগ দিয়েই বিজেপির বিলগ্নীকরণ নীতি, দেশের বেকারত্বের সংখ্যা বৃদ্ধি ,মানুষের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ভার্চুয়ালিজমের দিকে বিজেপি-র ঝোঁক ইত্যাদি বিষয়ে বিষোদগার করেন বিষ্ণু মেহেতা। গুরুপদ বাবুকে ‘বেটার ক্যান্ডিডেট ফর দা পার্টি’ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন ‘এক সময় পুলিশ নির্ভরতা বেড়ে গিয়েছিল তৃণমূলে ,গুরুত্ব ছিলনা কর্মীদের । আশা করি এবার আর তেমনটা হবে না।’ বিগত পঞ্চায়েত ও লোকসভা ভোটে রঘুনাথপুর মহাকুমায় বিজেপির কাছে মুখ থুবড়ে পড়েছে তৃণমূল । ফলাফল দেখে রাজনৈতিক মহলে ব্যাখ্যা ছিল ‘ফারাকটা বিষ্ণুচরন মেহতা’ । তৃণমূলের ভোট চ্যালেঞ্জ দিয়ে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন শ্রী মেহতা ।বিষ্ণু দিয়ে কি পথ চলা শুরু করলেন গুরুপদ টুডু ? কেননা বৃহস্পতি ও শুক্রবারের বৈঠকে মোটামুটিভাবে ব্লক সভাপতিদের যে নামের তালিকা গেছে তার মধ্যে বেশকিছু ব্লকে একেবারে কোণঠাসা হয়ে থাকা প্রকৃত তৃণমূল নেতাদের নাম সভাপতি পদের জন্য প্রস্তাবিত হয়েছে বলে জানা গেছে । রঘুনাথপুর ১ ও ২ , মানবাজার ১ও ২ , পুরুলিয়া ২, হুড়া ইত্যাদি বেশ কয়েকটি ব্লকের মুখ ফিরিয়ে থাকা নেতাদের সামনের সারিতে আনার জন্য বদ্ধপরিকর তিনি । একই সঙ্গে একেবারে আনকোরা নতুন মুখদেরও তুলে আনার বিষয়ে যথেষ্ট তৎপর গুরুপদ টুডু । অন্যদিকে যোগদান প্রসঙ্গে বিজেপির জেলা সভাপতি বিদ্যাসাগর চক্রবর্তী বলেন, ‘মাঠে-ময়দানে নয় , বিষ্ণুবাবু কেবল খাতায়-কলমে দলে ছিলেন’।
শেয়ার করুন