নিজস্ব সংবাদদাতা, পুরুলিয়া, শুক্রবার, ১ জুলাই ২০২২ঃ
করোনা পরিস্থিতিতে সরকারি বিধি নিষেধে দু’ বছর বন্ধ ছিল রথের মেলা। এবছর আবার সেই অনুমতি পাওয়া গিয়েছে। দু’বছর পর তাই আজ রথে চড়ে ঘুরতে বেরলেন পুরুলিয়া শহরের চকবাজারের রাধা-গোবিন্দ জিউ। শতাধিক বর্ষ প্রাচীন এই রথের মেলা দেখতে তাই এবছর মানুষের উৎসাহও ছিল দ্বিগুণ।
প্রসঙ্গত, পুরুলিয়া শহরের চকবাজারের রাধা-গোবিন্দ জিউ-র মন্দিরটি ১৮৯৮ সালে নির্মাণ করিয়েছিলেন মুন্নি বাঈ। তিনি বৈষ্ণব মতে দিক্ষিত হয়ে মনমোহিনী বৈষ্ণবী নামেই পরিচিতি লাভ করেন। ১৯১২ সালে চকবাজারের রাধা-গোবিন্দ জিউ-র মন্দিরের পরিচালনায় পুরুলিয়া শহরে রথ বেরন শুরু হয়। শুরুতে এই রথের উচ্চতা প্রায় ১২ ফুটের চেয়েও অধিক ছিল। দৈর্ঘ্য আর প্রস্থেও ছিল বিশালাকায়। চকবাজারের রাধা-গোবিন্দ মন্দির ও পুরুলিয়ার এই শতাধিক বর্ষ প্রাচীন রথের মেলাটি পরিচালনা করে একটি ট্রাস্টি বোর্ড। বোর্ডের দায়িত্ব রয়েছেন শচীদুলাল দত্ত। তাঁর কাছে জানা গিয়েছে, সময়ের সাথে সাথে রথটি শহরের রাস্তায় চালানোর সুবিধার্থে রথের কাঠামোটি সবদিক দিয়েই সংকীর্ণ করা হয়। ২০০০ সাল নাগাদ রথের কাঠামোর নকশারও অনেকটাই পরিবর্তন হয়। তিনি আরো জানান, প্রথম দিকে দুপুর নাগাদ রথটি বেরত। হরিনাম সংকীর্তন ও খোল-করতালের সমাগমে রথটি দিনে দিনেই শহর পরিক্রমা শেষ করত। কারণ, আলোর ব্যবস্থা ছিল না। পরে ৬০-এর দশকে পুরুলিয়ায় গ্যাস বাতির প্রচলন হলে রথে গ্যাস লাইটের ব্যবস্থা করা হয়। আরো পরে বৈদ্যুতিক বাতির ব্যবহার শুরু হয়। বর্তমানে আধুনিক এল ই ডি-র ঝাঁচকচকে নানান ধরনের বাতিতে সাজানো হয় রথটি। পুরুলিয়া চকবাজারের এই রথের বৈশিষ্ট্য হল এই রথে চড়ে রাধা-গোবিন্দ জিউ শহর ভ্রমণ করেন এই দিনটিতে।
দুটি বছর বন্ধ থাকার পর এবছর আবার রথ বেরলো শহরের রাস্তায়। তাই পুরুলিয়াবাসীরও মনে খুশির জোয়ার। এদিন দুপুরে এক প্রস্থ মুষল ধারায় বৃষ্টি হয়ে গিয়েছে। বিকেলের দিকেও ক্রমাগত টিপটিপ করে পড়ছে বৃষ্টি। তা মাথায় নিয়েই ভিড়ে ঠাসা পরিস্থিতির মধ্যেও রথের দড়ি একবার ছুঁয়ে নিতে মানুষের উৎসাহও চোখে পড়ার মত ছিল এদিন সন্ধ্যায়। এবছরটাতে যেন মনোষ্কামনা পূর্ণ করেন হরি, সেই উদ্দেশ্যে। সঙ্গে সঙ্গেই “খটাস” শব্দে মাথায় তাঁর বাতাসা রূপী আশীর্বাদও পাওয়া গেল। “জয় জগন্নাথ” বলে জয় ধ্বনি তুললেন পুরুলিয়াবাসী।




