নিজস্ব সংবাদদাতা, হুড়া, সোমবার, ৪ জুলাই ২০২২ঃ
শিল্পের নামে তিলাবনী পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে গ্ৰামবাসীদের প্রতিবাদ বিক্ষোভ আবার সংগঠিত হলো। সোমবার পাহাড় বাঁচাও কমিটির উদ্যোগে এলাকার বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষজনেরা সমবেত হয়ে হুড়া সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের কাছে পুরুলিয়ার অন্যতম প্রকৃতি সৃষ্ট তিলাবনি পাহাড় বাঁচাতে স্মারকলিপি প্রদান করলেন।
প্রসঙ্গত, পুরুলিয়া জেলার হুড়া ব্লকের অন্তর্গত কলাবনী পঞ্চায়েত এলাকার তিলাবনী, লেদাবনা, পড়শিবনা এবং মাধবপুর গ্ৰামের মাঝে অবস্থিত তিলাবনী পাহাড়। এই পাহাড়টি স্থানীয় মানুষদের ধর্ম-কর্ম, আচার-আচরণ ও জীবন-জীবিকার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে এবং তাদের আরাধ্য। এছাড়াও এই পাহাড়টি ধীরে ধীরে রাজ্যের পর্যটন মানচিত্রে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। প্রতি বছর প্রকৃতি প্রেমী, পাহাড় প্রেমী সংগঠন এখানে ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের শৈলারোহণ ও প্রকৃতি পাঠের শিবিরের আয়োজন করে থাকে। প্রত্যন্ত এলাকার এই পাহাড়ে জাতীয় স্তরের ‘বোল্ডার ক্লাইম্বিং উৎসবও অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০২১ সালে।
একটি সংস্থা সেই পাহাড়টিকে কেটে ধ্বংস করার চক্রান্ত করছে বলে অভিযোগ ছিল। আর তাদের বিরুদ্ধেই এই প্রতিবাদ শুরু হয় এলাকা জুড়ে। গ্রামে গ্রামে মিছিল, গণস্বাক্ষর সংগ্রহ, প্রশাসনিক অধিকারিকদের দপ্তরে ডেপুটেশন কোনটিও বাদ দেননি স্থানীয় বাসিন্দারা। এরই মধ্যে গত ৩ রা জুন অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ও জেসিবি মেশিন দিয়ে পাহাড় কাটার কাজ শুরু করে দেয় ওই সংস্থা। সেদিন এলাকাবাসীদের প্রতিরোধে পাহাড় কাটার কাজ বন্ধ করে পিছু হটতে বাধ্য হয় সংস্থা। তবে পাহাড় বাঁচাতে গ্রামবাসীদের একাধিক আবেদন নিবেদনে প্রশাসনিক কর্তারা যে কোন ভাবেই সাড়া দেয়নি তা প্রমাণ হয়েছে সেদিনের ঘটনায়। তাই এলাকাবাসীর গ্রাম্য দেবতা, অতি প্রাচীন প্রকৃতি সৃষ্ট এই তিলাবনী পাহাড়কে বাঁচাতে এলাকার বেশ কয়েকটি গ্রামের নারী পুরুষ সমবেত হয়ে এবার সেই আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করলো। হুড়া নিমতলা মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল করে ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিককে তাদের দাবি-দাওয়া সম্বলিত স্মারকলিপিটি প্রদান করেন তারা।
কিন্তু কেনই বা প্রকৃতি সৃষ্ট পাহাড় বাঁচাতে বারবার এলাকাবাসীদের আন্দোলনে সামিল হতে হচ্ছে? কেনই বা প্রশাসন তাদের আবেদন নিবেদনে সাড়া দিচ্ছে না? প্রশ্নগুলির উত্তর কিন্তু কিন্তু ধোঁয়াশাযই থেকে গিয়েছে।
