নিজস্ব সংবাদদাতা, পুরুলিয়া, বৃহস্পতিবার, ৭ জুলাই ২০২২ঃ

ভুয়ো এস টি সার্টিফিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহন, সাঁওতালি ভাষা শিক্ষার বিদ্যালয়গুলিকে উচ্চতর স্তরে উন্নীতকরণ, আদিবাসীদের বনাধীকার আইন ২০০৬ লাগু, সারি ধর্মের কোড চালু, পঞ্চম তপশিল আইন লাগু সহ একগুচ্ছ দাবিতে বৃহস্পতিবার পুরুলিয়ার জেলা শাসককে দাবিসনদ পেশ করে ভারত জাকাত মাঝি পরগনা মহল। এদিন পুরুলিয়া শহরের জুবিলি ময়দান থেকে মিছিল করে সংগঠনের সদস্যরা জেলাশাসক দপ্তরে যান। সংগঠনের জেলা নেতা রতনলাল হাসদা এদিন জানান, সাঁওতালি ভাষা ২০০৩ সালে স্বীকৃতি লাভ করে। বিদ্যালয়ে সাঁওতালি ভাষা শিক্ষার অনুমোদন দেওয়া হলেও বাস্তবে কিন্তু এখনও বিভিন্ন বিদ্যালয়ে সাঁওতালি ভাষা “নন টট ল্যাঙ্গুয়েজ” হিসেবে পড়ানো হচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জুনিয়র লেভেল পর্যন্ত এই ভাষা শিক্ষার পর পরবর্তী পর্যায়ে পড়ার পরিকাঠামোই নেই। ফলে বিদ্যালয় গুলিকে উচ্চতর স্তরে উন্নীতকরণ একান্ত জরুরি। তিনি বলেন, আদিবাসী সম্প্রদায়ভুক্ত বহু মানুষ ভলান্টারিলি এই বিদ্যালয়গুলিতে সাঁওতালি ভাষা পড়াচ্ছেন। সাঁওতালি ভাষা শিক্ষার জন্য অবিলম্বে প্রকৃত পরিকাঠামো গড়ার দাবি তাঁদের রয়েছে বলে জানান তিনি। একইসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, যাঁরা এতদিন ভলান্টারি সার্ভিস দিচ্ছেন, সঠিক নিয়োগ পদ্ধতি মেনে তাদের নিয়োগ করারও দাবি তাঁদের রয়েছে। এমনকি বহু সংখ্যক বিদ্যালয়ের আদিবাসী হোস্টেল দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। সেগুলিও অবিলম্বে চালু করার দাবি তাঁরা এদিন জানান। রতন বাবুর আরো বক্তব্য, ভুয়ো এসটি সার্টিফিকেট দিয়ে বিভিন্ন পদে বহু নিয়োগ হয়েছে। যার তালিকা তাঁদের কাছে রয়েছে বলে দাবি করে রতন লাল হাসদার কথা, সরকার তথা প্রশাসনকে অবিলম্বে ভুয়ো এস টি সার্টিফিকেট ইস্যু কড়া হাতে বন্ধ করতে হবে। এছাড়াও শিল্প বা কল-কারখানার নামে দেওচা-পাঁচামি ও অযোধ্যা পাহাড় থেকে আদিবাসীদের উচ্ছেদের পরিকল্পনা অবিলম্বে বাতিল করা এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষের ধর্ম “সারি ধরম”-এর কোড অবিলম্বে চালু করা সহ একগুচ্ছ দাবি নিয়ে এদিন পুরুলিয়ার জেলা শাসকের মাধ্যমে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে দাবিসনদ পেশ করা হয় বলে সংগঠনের তরফে জানা গিয়েছে।

শেয়ার করুন

You cannot copy content of this page