নিজস্ব সংবাদদাতা, পুরুলিয়া, মঙ্গলবার, ১২ জুলাই ২০২২ঃ
পুরুলিয়া পৌরসভাকে আর্থিক সাহায্য করার উদ্দেশ্যে শহরের পথে পথে মাধুকরী করল বিজেপি। আজ, পুরুলিয়া শহরের রাস্তায় ঘুরে ঘুরে বিজেপির কর্মী সমর্থকরা প্রচার করেন, পুরুলিয়ার পৌরপ্রধানের বক্তব্য অনুযায়ী পৌরসভার “ভাড়ার শূন্য” হয়ে গিয়েছে। এমনকি পৌর কর্মীদের বেতনও দিতে পারছে না বর্তমান পৌর কর্তৃপক্ষ। এই কারণে ভাঁড় হাতে শহরের দোকানে দোকানে, পথ চলতি মানুষের কাছে মাধুকরী করে পৌরসভাকে সাহায্য করতে বেরিয়েছে বিজেপি।
প্রসঙ্গত, দুমাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে সোমবার পুরুলিয়া পৌরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের গেটে তালা ঝুলিয়ে কাজ বন্ধ করে গেটের বাইরে বসে পড়েন ওই বিভাগের কর্মীরা। জানা গিয়েছে, প্রায় ৫০ জন অস্থায়ী কর্মী রয়েছেন পৌরসভার স্বাস্থ্য বিভাগে। ঘটনার ঘন্টা তিনেক পর ধর্মঘটী কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করে সমস্যার আপাতত সমাধান করেন পৌরপ্রধান। তিনি ওইদিন আরো জানান, বর্তমানে পৌরসভায় বাইরের কোন তহবিল থেকে অর্থ আসছে না। পৌরসভার নিজস্ব তহবিল থেকেই বিভিন্ন খরচ চালাতে হচ্ছে। ফলে বেতন সহ বহু পেমেন্টই যে ধাপে ধাপে করা হচ্ছে তেমনই জানান পৌরপ্রধান নবেন্দু মাহালি। এরপরই আজ বিজেপির কর্মীরা শহরে মাধুকরী করে পৌরসভাকে আর্থিক সাহায্য করা হবে বলে শহরের রাস্তায় নামেন। এ প্রসঙ্গে দলের জেলা সভাপতি বিবেক রাঙ্গা বলেন, পুরুলিয়া পৌরসভা ভাড়ার শূন্য হয়ে গিয়েছে। কর্মীদের বেতনও দিতে পারছে না। তাই বিজেপির পক্ষে এদিন উদ্যোগ নেওয়া হয় পুরুলিয়া শহরের মানুষের কাছ থেকে মাধুকরী করে পৌরসভাকে আর্থিকভাবে সাহায্য করার। বিবেক বাবু এদিন আরো বলেন, এদিন ভাঁড় হাতে শহরের দোকানে দোকানে ও পথ চলতি মানুষের কাছে মাধুকরী করা অর্থ বিজেপির তরফে পৌরপ্রধানের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পৌর নাগরিক হিসেবে বিজেপি সদস্যদেরও পৌরসভার প্রতি দায়বদ্ধতা রয়েছে বলে দাবি দলের জেলা সভাপতির। পুরুলিয়া পৌরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রবিশঙ্কর দাস এদিন বলেন, বর্তমানে পৌরসভার এক্তিয়ারভুক্ত এলাকা বহুগুণ বেড়েছে। পৌর কর্মীর সংখ্যাও অনেক বেড়েছে। ফলে খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু বহু যুগ ধরে চলে আসা সরকারি তহবিলের পরিবর্তন হয়নি সেভাবে। তিনি আরো বলেন, পৌরসভার বর্তমান বর্ধিত খরচের হিসেব রাজ্যে জানানোর সময় হয়েছে বলে আমি মনে করি।


