নিজস্ব সংবাদদাতা, পুরুলিয়া, শনিবার, ১৩ আগষ্ট ২০২২ঃ
চলে গেলেন ১৯৫৯ সালের খাদ্য আন্দোলনের সেনানী তথা পুরুলিয়া শহরের গাড়িখানা চাটানি পাড়ার বাসিন্দা মধুসূদন বাউরি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। রেখে গেলেন বিধবা স্ত্রী বিমলা বাউরি, দুই মেয়ে, এক ছেলে ও নাতি-নাতনির সংসার। ১৯৫৯ সাল। রাজ্যে তখন খাদ্য সংকট চরমে। চাল-ডাল সহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য আকাশ ছোঁয়া এবং সরবরাহেও ঘাটতি। মূলত বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলির নেতৃত্বে খাদ্যসামগ্রীর সরবরাহ স্বাভাবিক করতে রাজ্যজুড়ে চলছে আন্দোলন। চাহিদা অনুযায়ী রেশনের মাধ্যমে খাদ্য সামগ্রীর যোগান স্বাভাবিক করার দাবিতে এই আন্দোলনে যাঁরা সেসময় সামিল হয়েছিলেন, তাঁদের দাবি পূরণের পরিবর্তে তৎকালীন রাজ্য সরকার আন্দোলনকারীদের জেলে ভরেছিলেন। পুরুলিয়া শহরের মধুসূদন বাউরিও সেই ঐতিহাসিক খাদ্য আন্দোলনের তেমনই একজন সেনানী। আজীবন বামপন্থী ভাবধারায় অনুপ্রাণিত মধুসূদন বাউরি সেই আন্দোলনে সামিল হয়ে তিনমাস জেল খেটেছিলেন পুরুলিয়ায়। এদিন গাড়িখানার এক চিলতে চালা ঘরে বসে জানালেন তাঁর বিধবা স্ত্রী বিমলা বাউরি। তিনি আরো বলেন, মহাদেব মুখার্জি, বুদ্ধেশ্বর দত্ত, অমূল্য মাহাত, প্রফুল্ল কর্মকারদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে খাদ্য আন্দোলন করেছেন মধুসূদন বাবু। ছোট মেয়ে আলপনা বাউরি ও ছেলে হারু বাউরি বলেন, তাঁদের বাবা জীবনে কোনদিন নীতি ও আদর্শ থেকে বিচ্চ্যুত হয়ে আপোস করেন নি। এমনকি সবসময়ই বলতেন, “মরে গেলেও লাল ঝান্ডা ছাড়বো না”, বলছেন আলপনা দেবী। আজও তাঁদের সেই এক চিলতে চালা ঘর। তবে গত কয়েক বছর ধরে তিনি নাকি সরকারি বৃদ্ধ ভাতাটা পাচ্ছিলেন। এদিন গাড়িখানার বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল শোকাহত পরিবারের সকলে বসে রয়েছেন। জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই বয়ঃজনিত কারনে অসুস্থ ছিলেন। কয়েক দিন আগে মাথা ঘুরে পড়েও যান। পুরুলিয়া সদর হাসপাতালে কিছুদিন চিকিৎসার পর বাড়িও ফিরে এসেছিলেন। আজ, শনিবার সকাল ১১ টা নাগাদ বাড়িতেই মারা যান বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।

