নিজস্ব সংবাদদাতা, পুরুলিয়া, বুধবার, ৩১ আগষ্ট ২০২২ঃ

সুজয় বাবুর সভাধিপতি নির্বাচিত হওয়াটাই বিতর্কিত বিষয়। তাই জেলা পরিষদ অভিযান বললেও এদিন বিতর্কিত সভাধিপতির কাছে কোন ডেপুটেশন দেব না আমরা। ৫৯ সালের খাদ্য আন্দোলনের শহীদদের প্রতি এদিন ১ মিনিটের শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রথম বক্তা হিসেবে সিপিআইএম-এর পুরুলিয়া জেলা সম্পাদক প্রদীপ রায় সর্বপ্রথম এই কথা দিয়েই নিজের বক্তব্য শুরু করেন। প্রসঙ্গত, খাদ্য, কাজ, রেশনের চাল-গম সরবরাহের পরিমাণ বৃদ্ধির দাবিতে, জেলার শিক্ষা ব্যবস্থার হাল ফেরানোর দাবিতে, মূল্য বৃদ্ধি ও “পাহাড় প্রমাণ” দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানুষকে আন্দোলন গড়ে তোলার ডাক দিয়ে এদিন জেলা পরিষদ অভিযান কর্মসূচি গ্রহণ করে সিপিআইএম-এর পুরুলিয়া জেলা কমিটি। পুরুলিয়া স্টেশন থেকে দলের একটি মিছিল এদিন পুরুলিয়া শহরের মেন রোড ধরে উপস্থিত হয় জেলা পরিষদ দপ্তরের সামনে। জেলা পরিষদের বাইরে রাস্তার ধারে মঞ্চ বেঁধে পথসভা করা হয়। দলের জেলা সম্পাদক ছাড়াও এদিন সভা মঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখেন রাজ্য কমিটির শতরূপ ঘোষ, দেবলীনা হেমব্রম ও সুদীপ সেনগুপ্ত।

সভার প্রথম বক্তা হিসেবে প্রদীপ রায় এদিন উপস্থিত জনসাধারণের উদ্দেশ্যে এই কথা বলেই নিজের বক্তব্য শুরু করেন এদিন। তিনি বলেন, ১০০ দিনের কাজ সহ পঞ্চায়েতের সমস্ত স্তরে পাহাড় প্রমাণ চুরি হচ্ছে। সভাধিপতি ও তাঁর মুখ্যমন্ত্রী গ্রাম সংসদের সভা ডাকতে ভুলে গেছেন। উপস্থিত জনসাধারণের উদ্দেশ্যে প্রদীপবাবুর এদিন আহ্বান, ১৭০ টি পঞ্চায়েত ও ২০ টি পঞ্চায়েত সমিতিতে আপনারা বলে পড়ুন। হিসেব না পেলে উঠবেন না। সম্পূর্ণ দুর্নীতি মুক্ত পঞ্চায়েত গড়তে হবে এবার। এদিন মানুষকে আন্দোলন গজ়ে তোলার ডাক দিয়ে প্রদীপবাবুর আরো আহ্বান, পঞ্চায়েতের চুরি ধরতে প্রয়োজনে সিবিআই ডাকার ব্যবস্থাও করতে হবে। তাঁর দাবি, একারনেই এদিনের সভার শীর্ষক দেওয়া হয়েছে “চোর ধরো জেল ভরো / দুর্নীতি মুক্ত পঞ্চায়েত গড়ে তোল” ।বিজেপি এবং শুভেন্দু অধিকারীর তীব্র সমালোচনা করে প্রদীপবাবুর এদিন পরিষ্কার বক্তব্য, তৃণমূল এবং বিজেপি-কে বিজেমূল বললে ওদের খুব রাগ হয়। কিন্তু পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর ওই দুটি দল জেলাতে কিভাবে দলবদল করে পঞ্চায়েত গুলি দখল করে চালাচ্ছে তা তো জনগণই দেখতে পাচ্ছেন।

এদিন তৃণমূল ও বিজেপির তীব্র সমালোচনা করেন সিপিআইএম-এর রাজ্য কমিটির সদস্য শতরূপ ঘোষও। বক্তব্যের শুরুতেই শতরূপ ঘোষের দাবি, তৃণমূলের চুরি নিয়ে কথা বলতে তাঁর আর বিন্দু মাত্র ইচ্ছে করে না। কারন রাজ্যের তৃণমূলীদের শরীর কেটে রক্ত পরীক্ষা করলেও নাকি লজ্জা বলে কিছুই পাওয়া যাবে না। রাজ্যের শাসক দলের সমালোচনা করে তাঁর দাবি, ঠিকমত খোঁজ করলে রাজ্য জুড়ে পাড়ায় পাড়ায় তৃণমূলীদের মধ্যে পার্থ-অনুব্রতদের দেখা পাওয়া যাবে। এদিন বিজেপির সমালোচনায় সরব তীব্র কটাক্ষের সুরে শতরূপ ঘোষের বক্তব্য, বিধানসভা নির্বাচনের আগে যে বিজেপির নেতারা পশ্চিমবঙ্গবাসীকে নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলেছিলেন, নির্বাচনের পরে বিজেপির সেইসব নেতাদেরই তৃণমূলের নাগরিকত্ব নিতে হয়েছে। এদিন সিপিআইএম-এর প্রসঙ্গ টেনে শতরূপ ঘোষের দাবি, একমাত্র এই লাল ঝান্ডাই মানুষের পাশে রয়েছে। তাই এই লাল ঝান্ডার নীচে মানুষকে একজোট হয়ে “মহল্লায় মহল্লায়” পৌঁছে দুর্নীতির বিরুদ্ধে, চুরির বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তোলার ডাক দেন তিনি। বলেন, পুলিশ মিথ্যে কেস দিলে ভয় পাবেন না। সিপিআইএম আপনাদের সঙ্গে আছে। ভোটের মাধ্যমে পঞ্চায়েত দখল হলেই সমস্ত মিথ্যে কেসের নথি থানা থেকে নিয়ে জলে ছুঁড়ে ফেলে দেব আমরা।

শেয়ার করুন

You cannot copy content of this page