নিজস্ব সংবাদদাতা , পুরুলিয়া
১৮ আগস্ট , ২০২০

জেলা তৃণমূলের নেতা-নেত্রীদের ঘুড়ির সুতো কি টিম পি কে-র লাটাইয়ে বাঁধা ? পুরুলিয়া জেলাতে শাসক দলের অন্দরমহলে কান পাতলে এরকমই ইঙ্গিত পাওয়া যায়। বিগত লোকসভা নির্বাচনের পরে পি.কে-র টিম লাগাতার জেলাজুড়ে ছুটে-দৌড়ে তৃণমূলের জমি পুনরুদ্ধারের জন্য তথ্য সংগ্রহ করেছে।


তাদের ক্লায়েন্ট দলের বিজেপির কাছে পর্যুদস্ত হওয়ার মূল কারন হিসেবে তাদের তথ্যে উঠে এসেছে জেলার কয়েকজন নেতা-নেত্রী এবং বিশেষভাবে প্রভাবশালীদের ব্যাপক হারে দুর্নীতির পরিসংখ্যান বলে খবর। একই সঙ্গে জেলাজুড়ে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতা-কর্মীদের কোনঠাসা হওয়ার কথা। যার মধ্যে কেউ কেউ তৃণমূল থেকে মুখ ফিরিয়ে চুপচাপ হয়ে গেছেন, তো কেউ কেউ নাম লিখিয়েছেন অন্য দলে। শুধুমাত্র পরিসংখ্যানেই ক্ষান্ত হননি টিম পি.কে। গোপনে দলের অন্দরেই রেখে গেছেন নিজেদের “ইনফরমার”। অন্তত তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরেই এই আলোচনা। তাদের সাফ কথা,জমি পুনরুদ্ধার করতে হলে বেনোজল সরাতেই হবে, সঙ্গে সৎ ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির লোককে (যাঁরা সরে আছেন বা অন্য দলে নাম লিখিয়েছেন) ফিরিয়ে আনতে হবে দলের রাজনৈতিক কার্যকলাপের সামনের সারিতে, এমনকি প্রয়োজনে তাদের পদও দিতে হবে দলে। দলের এক ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, দল করার নামে “করে খাওয়া” আর “রাতারাতি গাড়ি-বাড়ি হাঁকানোদের” যে নামের তালিকা পি.কে-র রিপোর্টে উঠে এসেছে, তা দেখে নাকি রাজ্য নেতৃত্বেরও চোখ ছানাবড়া। তাঁদের ধারনা নাকি “এতদিন আস্তিনে সাপ পুষেছিলেন”।

এমতাবস্থায় বেশ কিছু স্বচ্ছ ভাবমূর্তির পুরনো, মুখ ফিরিয়ে থাকা কর্মীদের ব্যাক্তিগত ফোনে সরাসরি পি.কে টিমের সদস্যদের ফোন আসছে বলে জানিয়েছেন কেউ কেউ। প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন করার। প্রয়োজনে দলে দেওয়া হবে বিশেষ পদ, এরকমও নাকি বলছেন তারা। বিষয়টি যে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদেরও অজানা, এমন নয়। আর তাই প্রকাশ্যে না হলেও দলের অন্দরমহলে চাপা গুঞ্জন, আগামী দিনে জেলাতে তৃণমূল কংগ্রেসের বিভিন্ন কমিটির পদাধীকারী কারা ? একই সঙ্গে দলের মধ্যে প্রভাবশালী বলে পরিচিতদের মধ্যেও চাপা উত্তেজনা, কার মাথায় কোপ পড়বে অদূর ভবিষ্যতে, সে শুধু জানেন আর হাসেন ‘অন্তর্যামি’ পি.কে।

তবে, দলের একটা বড় অংশ, যারা লোকসভা নির্বাচনের পরে এ জেলাতে অনেকটাই ঝিমিয়ে পড়েছিলেন, তারা যেন আবার উৎসাহিত। বলছেন দলেরই কয়েকজন শুভচিন্তক। বৃহস্পতিবার দলের নতুন জেলা কার্যালয়ের উদ্বোধনে তাই জন্যই নাকি ভিড় সামলাতে হিমসিম খেতে হয়েছে স্বয়ং নেতৃত্ব স্থানীয়দেরও। এমনকি পুরনো জেলা কমিটি ভেঙে দলের নতুন জেলা সভাপতি নির্বাচনের রাজ্য কমিটির সিদ্ধান্তের পর বিভাজনের যে তত্ব নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছিল দলের অন্দরেই এবং দলের জেলা কার্যালয় আচমকা বন্ধ হওয়ায় যে আলোচনার আগুনে ঘি পড়েছিল, সে সমস্তই আপাতত দূরে সরিয়ে প্রত্যেকেই উপস্থিত হয়েছিলেন কার্যালয় উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে, বলছেন দলের এক সিনিয়র নেতা। তিনি তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্বকে ধন্যবাদ দিয়ে বলেই ফেললেন, “সবাই এখন আসবে। বুক দুরু দুরু। কখন পি .কে-র ইনফরমারের মারফত দিদির কাছে কি খবর যায় বলা যায় না। তাহলেই ঘটি-বাটি সব যাবে। তাই রাগ দ্বেষ যাই থাক, তা বুকের ভেতর চাপা থাকলেও প্রকাশ্যে দলের কাজ করতেই হবে।” শুধু কি তাই? জেলা তৃণমূলের আরেক প্রবীণ সংগঠকের বক্তব্য “বিধানসভা নির্বাচন আসছে। টিকিট পাওয়ার কম্পিটিশন থেকে কেই বা নিজে নিজেই সরতে চাইবে”!

শেয়ার করুন

You cannot copy content of this page