ডাঃ শিবশঙ্কর মাহাতো
১৩ আগস্ট , ২০২০

এই মুহূর্তে একটি অতি প্রয়োজনীয় বিষয় হলো ভিটামিন-সি । করোনা রোগের চিকিৎসার জন্য সবাই বলছে একটা করে কমলালেবু খান , একটা করে পাতিলেবু খান, একটা করে লঙ্কা খান অর্থাৎ সবাই বলতে চাইছে ভিটামিন সি খেলে করনা রোগ হবে না। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে এরকম কোন দাবি এখনো পর্যন্ত কোন দেশের কোন পরীক্ষার মাধ্যমে পরীক্ষিত সত্য নয় । চীন ভিটামিন-সি ইনজেকশন ব্যাবহার করেছে করোনা আক্রান্ত রোগীর শরীরে, কিন্তু তাৎপর্য পূর্ণ ফল পাইনি । আমেরিকা, ফ্রান্স , ভারত সবাই ভিটামিন-সি প্রয়োগ করছে কিন্তু তাৎপর্য পূর্ণ ফল তুলে ধরতে পারেনি । হয়তো আগামীদিনে কিছু নির্দিষ্ট ফল আসবে তখন কিছু নির্দিষ্ট বলা যাবে ।
বিষয়টা এমন পর্যায়ে চলে গিয়েছে যে বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণ কমলালেবু পাওয়া যাচ্ছে না, কমলালেবু এখন কালোবাজারিদের হাতে চলে গেছে। কমলা লেবুর দাম এখন আকাশছোঁয়া তিনগুণ দাম হয়েছে, কমলা লেবুর ভিটামিন সি ও অন্যান্য ফল যেগুলো মূলত বাজার থেকে পাওয়া যায় যেমন পাতিলেবু আমলকি কাঁচালঙ্কা এগুলো বেশি পরিমাণে বিক্রি হচ্ছে সবজি বাজার থেকে ফলের দোকান থেকে সবার লক্ষ্য এক অজানা রোগ থেকে কিভাবে নিজেকে সুরক্ষিত রাখা যায় ।

করোনা রোগে ভিটামিন সির কি ভূমিকা
বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে বিভিন্ন ভিটামিন যেমন ভিটামিন-সি , ভিটামিন-এ , ভিটামিন-ডি , জিংক এগুলো পরীক্ষামূলক ভাবে ব্যবহার করছে করোনা রোগের প্রতিরোধের জন্য।
বিভিন্ন জার্নাল বা বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন চিকিৎসক নানান সময় বলেছেন যে ভিটামিন সি ব্যবহার করলে করোনা রোগ প্রতিরোধ হতে পারে বা করোনা রোগ হলো তার বেশি ভয়াবহতা শরীরে দেখা যাবে না বা ভেন্টিলেশন এর প্রয়োজন হবে না অর্থাৎ এক কথায় অপরিহার্য একটি ওষুধ। কিন্তু বিভিন্ন দেশের তথ্য অনুযায়ী বিজ্ঞানসম্মত কোন পরীক্ষায় সেরকমভাবে
দেখাতে পারেননি যে ভিটামিন-সি খেলে করোনা প্রতিরোধ হবে বা করোনা রোগের প্রাদুর্ভাব কমবে ।

এবারে আসি ভিটামিন-সি সম্বন্ধে কিছু কথা । ভিটামিন-সি এর বিজ্ঞানসম্মত নাম এসকরবিক এসিড।এটি জলে দ্রবীভূত ভিটামিন , মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট ।
দৈনন্দিন জীবনে
একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ মানুষের – 90mg/day,

একজন প্রাপ্তবয়স্ক মহিলার- 75mg/day ,         গর্ভবতী মায়েদের বা ছোটো সন্তান আছে এমন মহিলাদের আরেকটু বেশি পরিমাণে ভিটামিন-সি দরকার ।

এই প্রয়োজনীয় ভিটামিন-সি আমাদের দৈনন্দিন যে খাদ্য তালিকা তা থেকে আমরা সহজেই পেয়ে থাকি তাই আলাদা করে কোন ট্যাবলেট ভিটামিন-সি খাবার প্রয়োজন হয় না ।
সাধারণত একটি কমলালেবু বা একটি পাতিলেবু বা একটি কাঁচা লঙ্কা বা একটি পেয়ারা প্রয়োজনীয় ভিটামিন-সি যোগান দেয়।এই ভিটামিন-সি মানব শরীরে আমাদের যে সমস্ত কোষ আছে তাদের রিপিয়ার এবং বিভিন্ন প্রকার শারীরবৃত্ত ক্রিয়ার উৎসেচকের নিয়ন্ত্রণ করে । এটি একটি এন্টি অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং আমাদের মানব শরীরের ইমিউনিটি বৃদ্ধি করে অর্থাৎ ভিটামিন-সি এর অভাবে মানব শরীরে ইমিউনিটি হ্রাস পায়। তাই ভিটামিন-সি খেলে আমাদের মানব শরীরে ইমিউনিটি বজায় থাকে । এবং এই করোনা রোগটি তাদের বেশি করে দেখা যাচ্ছে যাদের ইমিউনিটি কম আছে। তাই সবাই ভিটামিন-সি নিজের থেকেই খেতে শুরু করছে । এতে হয়তো লাভ নাও হতে পারে কিন্তু ক্ষতি খুব একটা কারণ নেই ,ফল খেলে শরীর ভালোই থাকে। শুধু ভিটামিন-সি নয়, ফলের মধ্যে আরও অনেক মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট থাকে যেগুলি মানব শরীরকে সতেজ ও তরতাজা রাখতে সহায়তা করে ।কিন্তু ট্যাবলেট ভিটামিন-সি খাবার প্রয়োজন নেই।
অনেকেই কাউকে না জানিয়েই দিনে দু-তিনটি করে খাচ্ছেন যাতে করোনা না হয়। ভিটামিন সি ট্যাবলেট
যদি কেউ খায় তাহলে তার খুব ক্ষতি হবে না কিন্তু জিনিসটি অপ্রয়োজনীয় ।কিছু ক্ষেত্রে যাদের ইনটেস্টিনাল কিছু রোগ থাকে সেক্ষেত্রে প্রয়োজনের বেশি ভিটামিন সি গ্রহণ করলে কিডনীতে অক্সালেট স্টোন তৈরি হতে পারে। যেটি একটি বিপদ ।
এই ভিটামিন সি-ট্যাবলেট গুলি বর্তমান দোকানে যার প্রয়োজন সে চাইলো কিনতে পারছে না কারণ কিছু মানুষ অপ্রয়োজনীয়ভাবে ভিটামিন-সি গুলোকে গ্রহণ করেছে এবং কিছু ক্ষেত্রে ভিটামিন-সি কালোবাজারি চলছে । তাই আমি একজন চিকিৎসক হিসেবে বলতে পারি ভিটামিন-সি ট্যাবলেট গ্রহণ করার প্রয়োজন নেই । কিন্তু দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় একটি কমলালেবু বা একটি পাতিলেবু বা একটি কাঁচা লঙ্কা বা অন্যান্য ফলমূল রাখুন যাতে শরীর তরতাজা থাকে।

ডাঃ শিবশঙ্কর মাহাতো
ডাঃ শিবশঙ্কর মাহাতো
শেয়ার করুন

You cannot copy content of this page