নিজস্ব সংবাদদাতা , পুরুলিয়া
১৫ সেপ্টেম্বর , ২০২০

“এ বছর পুরাে আশ্বিন মাসটা মলমাস। তাই এবার একটানা ৪৫ দিন ধরে মন্দিরে প্রদীপ জ্বলবে, বােধন ঘটের পুজো হবে এবং একটানা চন্ডীপাঠ হবে ৪৫ দিন ধরে”, বাগালবাবা আশ্রমের তাঁদের নিজস্ব ৭২ বছরের দুর্গাপুজোর বিষয়ে জানালেন পরিবারের বর্তমান সদস্য শিবদাস বন্দ্যোপাধ্যায়।

প্রসঙ্গত বাংলা ১৩৫৫ সালে পুরুলিয়া শহরের ১৬ ওয়ার্ডের অন্তর্গত বাগালবাবা আশ্রমের এই দুর্গা পুজোর সূচনা করেছিলেন শিবদাসবাবুর ঠাকুরদা স্বর্গতঃ তারাপদ বন্দ্যোপাধ্যায়। এ বছর পুজোর ৭৩তম বর্ষ।মূলত আশ্রমের সেবায়িত হিসেবে শিবদাসবাবুরাই বংশ পরম্পরায় এই পুজোটি করে আসছেন। শিবদাসবাবুর নিজের বর্তমান বয়স ৪৯।বিগত ৩৭ বছর ধরে তিনি নিজে পুজোর সঙ্গে জড়িত। তবে এবারের মত অভিজ্ঞতা যে আগে তাঁর কখনই হয়নি জানালেন তিনিই।

জানা গিয়েছে, শাস্ত্রীয় মতে যদি কোন মাসে দুটি অমাবস্যা পড়ে, তবে ঠিক তার পরের মাসটিকে মলমাস হিসেবে ধরা হয়। মলমাসে পুজো-আচা সহ যে কোনাে শুভ।অনুষ্ঠানে নিষেধ রয়েছে শাস্ত্রে। এ বছর ভাদ্র মাসে দুটি অমাবস্যা পড়েছে। তাই পুরাে আশ্বিন মাসটাই শাস্ত্রীয় মতে মলমাস।

বাগালবাবা আশ্রমের পুজোর সাধারণ রীতি হল জিতা অষ্টমীর পরের দিন বােধন। ঘট নিয়ে আসা হয়। যেদিন থেকে বােধন ঘট আনা হয়, সেদিন থেকে দেবীর বিসর্জন পর্যন্ত টানা অখণ্ড প্রদীপ জ্বলতে থাকে এবং মন্দিরে চন্ডী পাঠ করা হয়। এ বছরও নিয়ম পালন করেই শুক্রবারই নিয়ে আসা হয়েছে বােধন ঘট। শিবদাস বন্দ্যোপাধ্যায় জানাচ্ছেন, “অন্যবার এই সময়টা পনেরাে দিন বা এক পক্ষ। তবে এবার আশ্বিনে মলমাস হওয়ায় এটাই টানা ৪৫ দিন পড়ছে”। সাধারণত বােধন ঘট নিয়ে আসার ঠিক এক সপ্তাহ পর দেবী পক্ষের সূচনা হয় মহালয়ার দিন থেকে। আর তার এক সপ্তাহ পরই হয় পুজোর সূচনা।

তবে এ বছর আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর থেকেই মলমাস পড়ে যাওয়ায় মহালয়ার একমাস পর হবে দুর্গা পুজো, বললেন শিবদাসবাবু। কিন্তু পুজো প্রতিষ্ঠার দিন থেকে চলে আসা জিতা
অষ্টমীর পরের দিন বােধন ঘট নিয়ে আসার প্রথা মানতেই হবে। আর তাই এ বছরের তাঁর পুজোর অভিজ্ঞতা যে সম্পূর্ণ ভিন্ন, জানাচ্ছেন তিনি নিজেই।

শেয়ার করুন

You cannot copy content of this page