নিজস্ব সংবাদদাতা , পুরুলিয়া
১০ আগস্ট , ২০২০

প্রায় ৫০ বছর ধরে আরএসএস এর সক্রিয় সদস্য। সভাধিপতি সৃষ্টিধর মাহাতকে হারিয়েছেন।ব্যবধান প্রায় ১০ হাজারের।স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ।এলাকায় জনভিত্তিতে তাঁর জুড়ি মেলা ভার।এসবের পরেও “রহস্যজনক” ভাবে নিজের দল বিজেপিতে কার্যত ব্রাত্য গোপীনাথ গোস্বামী।
সৃষ্টিধর মাহাতকে বিপুল ভোটে হারিয়ে জেলা পরিষদে আসা গোপীনাথবাবু এলাকার সাধারণ বিজেপি কর্মীদের মনে বিশেষ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন খুব দ্রুত। গোপীনাথবাবুর ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা এলাকার নেতারা অনেকে ভালো ভাবে মেনে নিতে পারেননি।তাঁর পরিণতিতে ক্রমশ দলের ভেতরেই গোপীনাথবাবুকে কোনঠাসা করার কাজ শুরু হয় বলে অভিযোগ তাঁর অনুগামীদের।

গোপীনাথবাবু বলেন, বিজেপির জেলা কার্যালয়ে ২০১৮ সালে সেপ্টেম্বর মাসের ১১ তারিখ একটি রেজ্যুলেশন হয়।তাতে অজিত বাউরি সভাপতিত্ব করেন।আজিতবাবু দলনেতা হিসেবে আমার নাম প্রস্তাব করেন।বিষ্ণুপ্রিয়া মাহাত সহ অন্যান্যরা তা সামর্থন করেন।জেলা পরিষদে বিজেপির নির্বাচিত ৭ জন সদস্য তাতে স্বাক্ষর করেন। সেসময় জেলা সভাপতি সহ জেলার নেতারা উপস্থিত ছিলেন।তারপর শপথ নেওয়ার অনেকদিন পর আমি জানতে পারি,বিরোধী দলনেতা করা হয়েছে আজিতবাবুকে।ওই সিদ্ধান্ত নিয়ে আমার কিছু বলার নেই।তবে জেলা পরিষদের একজন সাধারণ সদস্য হিসেবে আজও জানিনা ওই সিদ্ধান্ত কবে হয়েছিল।আমার স্বাক্ষর তাতে কেন নেওয়া হয়নি।একই সঙ্গে জানিনা আমাকে কেন বাদ দেওয়া হয়েছিল?
দলীয় সূত্রে আরও জানাগিয়েছে, সম্প্রতি বিজেপির দীর্ঘ জেলা কমিটির তালিকাতেও কোথাও জায়গা হয়নি গোপীনাথবাবুর।একজন সাধারণ কর্মী রয়েছেন তিনি।গেরুয়া শিবিরের ভেতরে কান পাতলেই এবিষয়ে নানা জল্পনা শোনা যায়।কারও মতে শিক্ষিত স্পষ্টবাদী গোপীনাথবাবুর জনপ্রিয়তা অনেকে মেনে নিতে পারেননি। তবে জেলা বিজেপির একটা অংশ মনে করছে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের পরিপ্রেক্ষিতে পুরুলিয়া জেলায় গোপীনাথ বাবুদের মতন স্বচ্ছ ভাবমূর্তির দলীয় নেতাকর্মীদের সামনের সারিতে না নিয়ে আসাটা দলের জেলা নেতৃত্বের একটা সাংগঠনিক ভুল,যার খেসারত দিতে হতে পারে দলকে । তবে বিজেপি শিবিরে আরও শোনা যায় বর্তমান জেলা পরিষদের সভাধিপতির সঙ্গে গোপীনাথ বাবুর বন্ধুত্ব নিয়ে একসময় অনেক জল ঘোলা হয়েছে যদিও দুজনেই এই বিষয়টিকে কেবলমাত্র বন্ধুত্বের সম্পর্ক বলে আর অন্য কোনো আলোচনায় আমল দেননি । তবে বিজেপির একাংশের মতে সভাধিপতির সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়তো অনেকেই মেনে নিচ্ছেন না জেলা বিজেপিতে ।

যদিও গোপীনাথবাবু বলেন,১৯৬৯ সাল থেকে আমি আরএসএস করি।তখন ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়তাম । গোটা কর্মজীবনে একদিন আরএসএস থেকে সরে আসিনি । অসুস্থতার কোন বিষয় নেই । আমি এখনো নিজের “মোপেট” চালিয়ে পুরুলিয়া যাই, চারচাকা গাড়িতে নয়।
তিনি জানান,বিদ্যাসাগরবাবু,বানেশ্বরবাবুরা আমাকে যোগ্য মনে করেননি,তাই কোনও দায়িত্ব দেননি।আমার কারও প্রতি রাগ বা অভিমান নেই।সংগঠনের প্রতিও ক্ষোভ নেই।বিজেপি আমার আদর্শ।সারাজীবন এই দল করব।তবে দল করি বলে কারও বন্ধুত্ব অস্বীকার করতে হবে কেন?

এ বিষয়ে বিজেপির পুরুলিয়া জেলা সম্পাদক বানেশ্বর মাহাত বলেন,কোনও বিরোধ নেই।উনি অসুস্থ।সত্তর বছরের বেশি বয়স।বাড়ি থেকে তেমন বের হননা।জেলার সহ সভাপতি শ্রীপতি মাহাত বলেন,গোপীনাথবাবু স্বচ্ছ এবং জনপ্রিয়।তাঁর মত মানুষকে দলে আমরা কাজে লাগাতে পারলে দল লাভবান হবে। বিজেপির পুরুলিয়া জেলা সভাপতি বিদ্যাসাগর চক্রবর্তী বলেন,গোপীনাথবাবুকে বিরোধী দল নেতা কখনও করা হয়নি।এরকম কোনও রেজ্যুলেশনও হয়নি।জেলা পরিষদের সদস্যরা পদাধিকার বলেই জেলা কমিটির সদস্য। অন্য কোনও বিষয় নেই।

শেয়ার করুন

You cannot copy content of this page