রিঙ্কু চট্টোপাধ্যায়
সপ্তাহভর গরমের পর বিকেল থেকে শুরু হল মেঘ গর্জন, বজ্রপাত। আকাশের সেই ভ্রুকুটি উপেক্ষা করে পুরুলিয়া বিজ্ঞান মঞ্চের সম্পাদক ডাক্তার নয়ন মুখার্জির গাড়ি এসে থামল মহুলঘুঁটার “আপনা ক্লাবে” র সামনে। ওখানে যে আজ গরীব খেটে খাওয়া মানুষগুলো ওনার অপেক্ষায় লাইন দিয়ে আছে!
তাই নিরলস স্বাস্থ্যকর্মী ডাক্তার নয়ন মুখার্জি বৃষ্টি মাথায় নিয়ে আসা রোগীদের দেখতে সঠিক সময়ে উপস্থিত হলেন।
আভা রায়, গোলাপী সিং,কোকিলা বাউরি ষষ্ঠী বাউরি, এরা সবাই কেউ দিনমজুর, কেউ মুড়ি ভাজে, কেউ লোকের বাড়ি বাসন মেজে, রান্না করে সংসার চালায়। তাই এদের রোগের চিকিৎসা করতে বিনামূল্যে এই শিবিরের আয়োজন করেছেন স্থানীয় ক্লাবের উদ্যোক্তা অভিষেক চ্যাটার্জি। লক ডাউনে কাজ হারানো শ্রমিকেরা ও তাদের মেয়ে বউরা বেশি টাকা ভিজিট দিয়ে ডাক্তারের চেম্বারে যেতে পারেনা, ওদের জন্য ভাবেন ডাক্তার নয়ন মুখার্জি। তাই রোদ -ঝড়-বৃষ্টি যাই হোক না কেন উনি ছুটে যান গ্রামে, গ্রামে অথবা শহরের বস্তি এলাকায়। ইতিহাসে লেখা না হলেও বিজ্ঞান মঞ্চের এই বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবায় উপকৃত হাজার হাজার পুরুলিয়াবাসীর মনের মনিকোঠায় লেখা থাকবে ডাক্তার নয়ন মুখার্জির নাম।
এদিনেও যথারীতি কল্যানী নন্দী ও শৌভিক মুখার্জি ডাক্তার বাবুর লেখা ওষুধগুলি রোগীদের হাতে তুলে দেবার কাজ করে গেলেন কোনরকম প্রতিদান ছাড়াই। তাই এদের অবদানও কম নয়।
এছাড়াও লাগদার মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্ন্টেটিভ শুভব্রত ব্যানার্জি এই শিবিরের জন্য বেশ কিছু ওষুধ সরবরাহ করেছেন তাঁকেও বিজ্ঞান মঞ্চের পক্ষ থেকে অকৃত্রিম কৃতজ্ঞতা। ষাট জনেরও বেশি রোগীকে বিনামূল্যে ওষুধ ও চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার পর যখন ওষুধ প্রায় নিঃশেষ তখনো জনা দশেক রুগী অপেক্ষায়। তাদের মধ্যে থাকা শিশুদের অগ্রাধিকার দিয়ে ডাক্তারবাবু সযত্নে পরীক্ষা করলেন ওষুধের বাক্স ঘেঁটে বিজ্ঞান মঞ্চের সক্রিয় সদস্য শৌভিক মুখার্জি তাদের বিনামূল্যে ওষুধও দিলেন।
এভাবেই নিরন্তর সেবায় চিকিৎসা পরিষেবা দিয়ে চলেছেন ডাক্তার নয়ন মুখার্জি তথা বিজ্ঞান মঞ্চ।


