সম্পাদকীয়
২৫ আগস্ট , ২০২০
জেলার ব্লকে ব্লকে প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্রগুলির পরিকাঠামো ও পরিষেবাগত উন্নয়ন যে একান্ত জরুরি, কোভিড পরিস্থিতি সেটা হয়ত বুঝিয়ে দিয়েছে। ২০১১ সালে রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর তৃণমূল সরকার প্রত্যন্ত জেলাগুলিতেও সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল গড়ে তোলার যে পদক্ষেপ নিয়েছে, নিঃসন্দেহে তা সাধু উদ্যোগ। এইসব হাসপাতালের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে উন্নততর চিকিৎসা পরিষেবা প্রদানের রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের এই সদিচ্ছার প্রয়াস নিশ্চিতভাবেই প্রশংসনীয় পদক্ষেপ। সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালগুলির উপর জেলার মানুষের নির্ভরতা বাড়লে সাধারণ মানুষ বেসরকারি চিকিৎসা পরিষেবার খরচ থেকেও মুক্তি পাবেন, এটাও সত্যি। তবু জঙ্গলমহলের ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলির পরিকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়টির প্রয়োজনীয়তা থেকেই যায়।
জেলার অধিকাংশ ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রই যথেষ্ঠ বড় স্থানজুড়ে রয়েছে। নির্মাণ পরিকাঠামোর দিক থেকেও অনেকগুলি স্বাস্থ্য কেন্দ্রই যথেষ্ঠ স্থিতিশীল। অধিকাংশের সমস্যা পরিষেবাগত পরিকাঠামোর ত্রুটি। এই ত্রুটি মেরামতি ও পরিমার্জনের প্রয়োজনীয়তা জেলাবাসী বিশেষভাবে অনুভব করেন। বহু প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র জেলায় রয়েছে, যেখানে ইনডোর পরিষেবার পরিকাঠামো পূর্ণ রূপে থাকা সত্ত্বেও রছরের পর বছর ধরে তা বন্ধ হয়ে পড়ে আছে। কোথাও চিকিৎসা পরিষেবা পেতে ফার্মাসিস্ট বা নার্সদের উপর নির্ভরশীল মানুষ, দিনের পর দিন চিকিৎসকের দেখা মেলে না। জেলা স্বাস্থ্য দফতর বহুবারই অবশ্য স্বীকার করেছে চিকিৎসা কর্মী সংকটের বিষয়টি।
সমস্যা হল, প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্রগুলির পরিষেবাগত ত্রুটি জেলা সদরের হাসপাতালে মাত্রাতিরিক্ত চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। অত্যন্ত সাধারণ রোগী থেকে জীবন সংশয়ের রোগী, সকলেই নির্ভরশীল সদরের উপর। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই সদরে পরিকাঠামো থাকলেও বেশ কিছু অতি রোগের রোগীদের স্থানাভাবে ছুটতে হচ্ছে ভিন রাজ্যেও। তাই প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির উপর প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের চিকিৎসা সংক্রান্ত হারিয়ে যাওয়া নির্ভরশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তা আশাকরি সরকারও অনুভব করেন। তাছাড়া পাহাড়-জঙ্গল-খালবিল ঘেরা এই জেলার অধিকাংশ দুর্গম স্থান থেকে রোগীদের সদর পৌঁছনোর অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি দিতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির পরিকাঠামো ও পরিষেবাগত উন্নয়ন একান্তই জরুরি।
শেয়ার করুন