নিজস্ব সংবাদদাতা , পুরুলিয়া
২৯ সেপ্টেম্বর , ২০২০
করোনায় চরম সঙ্কটে পড়েছেন পুরুলিয়ার ছৌ শিল্পীরা। কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে সংক্রমণ এড়াতে সরকারি বিধির কারনে ছৌ শিল্পের সঙ্গে জড়িত শিল্পীদের প্রদর্শনীগুলি বন্ধ প্রায় সাত মাস। ফলে মূলত ছৌ-নাচই রুজির একমাত্র উপায় হওয়ায় শিল্পীদের দুর্বিসহ আর্থিক সমস্যায় পড়তে হয়েছে। অধিকাংশ দলই তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের নথিভুক্ত। তাই এই পরিস্থিতির সামাল দিতে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়ে ইতিমধ্যেই তাঁরা আবেদন করেছিলেন প্রশাসনের কাছে। কিন্ত সুরাহা হয় নি। ফলে মঙ্গলবার পুরুলিয়া শহরের চার্চের মাঠে ১৫২ টি দলের প্রতিনিধিরা তাঁদের সমিতির পক্ষ থেকে খোলা আকাশের নিচেই বৈঠক সারলেন সমস্যার সমাধান খুঁজতে।
বিগত সাত মাস বন্ধ ছৌ নৃত্য। বেসরকারি অনুষ্ঠান তো সম্ভবই নয়, এমনকি সরকারি অনুষ্ঠানের কাজও নেই করোনার কারনে। “বছরে দুটি সিজনের মধ্যে এপ্রলি থেকে শুরু হওয়া ছৌ নাচের একটি সিজন সম্পূর্ণই বিনা কাজে থেকেছি। তবে বর্তমানে চরম পারিবারিক অনটনের কারনে দুর্গা পুজোর সময় থেকেই যাতে আবার ছৌ নাচের অনুষ্ঠান করার বিষয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে সহায়তা পাওয়া যায়, সেই ব্যাপারেই আলেচনা করে সমাধানের পথ খুঁজতে আজ আমরা বৈঠকে বসেছি” বলে জানান ঝালদার খাটজুড়ি গ্রামের বীণাপানি ছৌ নৃত্য বিকাশ কেন্দ্রের প্রতিনিধি তথা শিল্পী দিলীপ কুমার মাহাত। বরাবাজারের পলমার ছৌ দলের প্রতিনিধি গিয়াস উদ্দিন আনসারি, বাঘমুন্ডির চড়িদার গম্ভীর সিং মুঢ়া আদিবাসী ছৌ নৃত্য দলের কার্ত্তিক সিং মুঢ়া বলেন, “আমাদের প্রধান জীবিকা ছৌ নৃত্য প্রদর্শনের অনুষ্ঠান। কিন্তু বিগত সাতমাস সরকারি, বেসরকারি সমস্ত অনুষ্ঠান বন্ধ। সংসারের আর্থিক পরিস্থিতি খুবই খারাপ।” পুরুলিয়া-২ নম্বর ব্লকের বালিগাড়ার রাসোয়াড়ি কিষাণ ছৌ সমিতির প্রতিনিধি বলছেন, “অধিকাংশ দলই সরকারের খাতায় নথিভুক্ত। কিন্ত যেহেতু এটা একটা গ্রুপ ড্যান্স তাই সামাজিক দূরত্ব বিধির কারনে বন্ধ রয়েছে সরকারি অনুষ্ঠানও। ফলে দুর্বিসহ আর্থিক পরিস্থিতিতে পড়েছি আমরা।”
এদিন বৈঠকে উপস্থিত পুরুলিয়া ছৌ নৃত্য সমিতির সভাপতি নিবারণ চন্দ্র মাহাত বলেন, “এবছর একটা সিজিন সম্পূর্ণ বসে গেছে সমিতির অন্তর্গত ১৫২ টি ছৌ দল। এপ্রিল থেকে বায়না ধরার কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ। সঙ্গে বন্ধ সরকারি ও বেসরকারি অনুষ্ঠান। ফলে এই চরম পারিবারিক অনটনে শিল্পীরা যদি অন্য পেশায় নিযুক্ত হয়ে যান, তবে শিল্পীর সাথে সাথে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পটিও চিরতরে হারিয়ে যাবে। তাই প্রশাসনকে দ্রুত সমস্যা সমাধানের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে হবে।” নিবারণ বাবু আরো বলেন, “ছৌ শিল্পের সঙ্গে ভীষণভাবে জড়িয়ে আছে মুখোশ শিল্পী ও পোষাক শিল্পীদের ভাগ্যও। ছৌ নাচের অনুষ্ঠান বন্ধ থাকায় তাঁদেরও চরম অনটনে পড়তে হয়েছে। ছৌ শিল্প বন্ধ হয়ে গেলে এই দুটি শিল্পের শিল্পীরাও একেবারে শেষ হয়ে যাবেন। এ কথাটাও প্রসাশনকে ভাবতে হবে”।
শেয়ার করুন