নিজস্ব সংবাদদাতা, মানবাজার ও বরাবাজার, ২ ডিসেম্বর ২০২১ঃ
পুরুলিয়া জেলার ছৌ নৃত্যকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে গিয়ে এবার বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাল্মিকী প্রতিভা গীতিনাট্যকে ছৌনাচে রুপদান করলেন বরাবাজারের পলমার এক ছৌ নৃত্য গোষ্ঠী ও সদূর শান্তিনিকেতনের এক সঙ্গীত শিল্পী।অসাধারণ রুপসজ্জা ও সাথে বাদ্যযন্ত্রের করতালে মুখরিত বিশ্বাকবির এই গীতিনাট্য পুরুলিয়া জেলার বুকে এক ইতিহাস রচনা করলো।
প্রসঙ্গত বলা যায় যে,বাল্মীকি-প্রতিভা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি গীতিনাট্য। ১৮৮১ সালে প্রকাশিত এই নাটকটি রবীন্দ্রনাথ রচিত প্রথম নাট্যসাহিত্য। ১৮৮১ সালেই প্রথম মঞ্চায়িত হয় এই নাটক। বাল্মীকি-প্রতিভা –র আখ্যানবস্তু কৃত্তিবাসি রামায়ণ থেকে গৃহীত। নাটকের আঙ্গিকে ভারতীয় ও পাশ্চাত্য সঙ্গীতের সুর নিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষানিরীক্ষা করা হয়েছে। এই নাটকের হাত ধরেই বাংলায় গীতিনাট্য ঐতিহ্যের সূচনা হয়।
মানবাজার মহকুমার বরাবাজার ও মানবাজার-১ নং ব্লক প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই ছৌ নৃত্যটি সর্ব সমক্ষে পরিবেশিত হয়। এবিষয়ে রবি ঠাকুরের এই বাল্মিকী প্রতিভার থেকে ছৌ-এ রুপদানকারী বর্ণালী ঘোষ বলেন, শান্তিনিকেতনে একাধিক বার এই গীতিনাট্য পরিবেশিত হয়েছে। এবার পুরুলিয়া জেলায় এসে মনে হয়েছে ছৌ নাচ এবং বাল্মিকী প্রতিভা একে অপরের পরীপূরক। তাই চেষ্টা করা হয়েছে ছৌ-এর মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথের প্রতিভাকে ফুটিয়ে তোলা। এবিষয়ে ছৌ দলের ওস্তাদ গিয়াসউদ্দিন আনসারী বলেন, সকলেই রামায়ণের বাল্মিকী মুণির গল্প যানে। এটা কিন্তুু সম্পূর্ণ রবীন্দ্রনাথের বাল্মিকী প্রতিভার উপর ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। দলে মোট ৩২ জন শিল্পী রয়েছেন। দীর্ঘ ৪ মাস ধরে কঠোর পরিশ্রম করেছেন কলাকুশলীরা।
ছৌনাচ উপলব্ধি করে বিশিষ্ট বাংলা গবেষক ড. আশুতোষ বিশ্বাস জানান, খুবই তাৎপর্য পূর্ণ। যা পুরুলিয়া জেলার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিল। আগামী দিন গুলোতে শুধু যে এই ছৌ নৃত্য দুটি ব্লকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে তা নয়। জেলা জুড়ে এর প্রদর্শন হোক ও শ্রী বৃদ্ধি লাভ করুক।


