নমুনা চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা , জয়পুর
৪ আগস্ট , ২০২০

শ্রাদ্ধের ভোজে গ্রামবাসীদের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে খাবার পরিবেশন করেছেন অতিথীদের। একসঙ্গে বসে সকলের সঙ্গে জমিয়ে গল্পও করেছেন। আবার পরিবার ও আত্মীয়দের সঙ্গে বসে পাত পেড়ে খেয়েছেনও। কিন্তু শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের রেশ কাটতে না কাটতে জয়পুরের গ্রামের বাসিন্দাদের কার্যত মাথায় বাজ ভেঙে পড়েছে। কারণ, ভোজ বাড়ির দু’দিনের মাথায় খাবার পরিবেশনের কাজ করা সিভিক ভলান্টিয়ারের করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এই খবর কানে আসতে তীব্র বিড়ম্বনায় পড়েছে প্রশাসনও। কিভাবে আনলক পিরিয়ডে নিয়ম ভেঙে একইসঙ্গে বহু আমন্ত্রিত নিয়ে ভোজ বাড়ি হল তানিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ওই ভোজে অংশ নেওয়া সকল আমন্ত্রিতের খোঁজ চলছে। প্রত্যেকেরই লালারসের নমুনা পরীক্ষা করা হবে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৭ জুলাই জয়পুর হাসপাতালে ২০ জনের লালারসের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে জয়পুর থানার পুলিশ কর্মীদের পাশাপাশি ওই সিভিক ভলান্টিয়ারও ছিলেন। করোনা আতঙ্কের কারণে ওই সিভিক ভলান্টিয়ার লালারস পরীক্ষা করালেও তিনি নিজে গৃহবন্দি হয়ে থাকেননি। তিনি  ২৯ তারিখ স্থানীয় এক শ্রাদ্ধ বাড়িতে যান। এমনকি সকলের সঙ্গে অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথীদের খাবারও পরিবেশন করেছেন। গত ৩১ তারিখ লালারস পরীক্ষার ফলাফল আসার পর এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কারণ, ওইদিন লালারস দেওয়া জয়পুর থানার দুই সিভিক ভলান্টিয়ার সহ ১০ জন পুলিস কর্মী করোনা পজেটিভ। স্বাস্থ্য দপ্তরের ব্লক কর্তারাও চরম অস্বস্তিতে পড়েছেন। কারণ, ওই শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে আশাপাশের গ্রাম ও পাশের ব্লক থেকেও মৃতের আত্মীয়রা এসেছিলেন। ফলে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা প্রবল।  এই পরিস্থিতিতে, করোনা সংক্রামিতদের স্থানীয় কিষাণ মাণ্ডির সেফ হোমে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। আক্রান্তদের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কে আসা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে হোম আইসোলেশনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন

You cannot copy content of this page