নিজস্ব সংবাদদাতা , পুরুলিয়া
২২ সেপ্টেম্বর , ২০২০
১। ডাক্তারবাবু আপনি করােনা থেকে সুস্থ হয়ে ফিরে এসেছেন, আপনার কেমন লাগছে?
উঃ- অবশ্যই ভালাে লাগছে। তবে সংক্রমণের পর্যায়েও আলাদা করে খারাপ লাগা ছিল না।
২। আপনার ঠিক কি ধরনের অসুস্থতা ছিল?
উঃ- আমার সেরকম কোন উপসর্গ ছিল না, শুধুমাত্র অল্প গা-হাত ব্যাথা ছাড়া।
৩। তাহলে আপনি কেন টেস্ট করিয়েছিলেন?
উঃ- যেহেতু আমরা সবসময় হাইরিস্ক জোন-এ থাকি তাই রুটিন টেস্ট করিয়েছিলাম।
৪।তাহলে কি আমাদের সকলের রুটিন টেস্ট করানাে উচিত?
উঃ- সেটা নির্ভর করছে আপনার কাজের ধরন, শারীরিক অবস্থার ওপর। আপনি যদি নিয়মিতভাবে বাইরে কাজ করেন, ভীড়ের মধ্যে নিয়মিত থাকেন, সেক্ষেত্রে যদি আপনার
করােনার কোনাে উপসর্গ দেখা যায় তাহলে আপনি চিকিত্সকের পরামর্শ মেনে টেস্ট করাতে পারেন।
৫। করােনার উপসর্গগুলাে ঠিক কি?
উঃ- জ্বর, গা-হাত-পা ব্যাথা, পাতলা পায়খানা, শ্বাসকষ্ট, সর্দিকাশি, স্বাদ বা গন্ধ বুঝতে না পারা।
৬। সকলের কি উপসর্গ দেখা যাবে?
উঃ- শতকরা ৭০ ভাগ উপসর্গহীন থেকে যাচ্ছে। বাকি ৩০ শতাংশের উপসর্গ দেখা যাচ্ছে।
৭।আপনি ঠিক কিভাবে সংক্রমিত হয়েছিলেন বলে মনে হয়?
উঃ- যেহেতু বর্তমানে কমিউনিটি স্প্রেড হচ্ছে এবং আমরা হেলথ কেয়ার ওয়াকার তাই কমিউনিটি থেকে হওয়ার সম্ভাবনা বেশী।তবে একেবারে সঠিকভাবে বলা সম্ভব নয়।
৮। আপনি ঠিক কিভাবে সুস্থ হলেন যদি বলেন?
উঃ- প্রথমেই বললাম যে যেহেতু আমার উপসর্গ ছিল না, তাই বাড়িতেই ছিলাম এবং নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাড়িতেই সুস্থ হয়ে উঠেছি।
৯। স্বাস্থ্যবিধিগুলি যদি বলেন ?
উঃ- ক) পরিমাণ মতাে জল পান করুন।
খ) পুষ্টিকর খাবার খান।
গ) পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকুন।
ঘ) বাড়ির বাকিদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন।
ঙ) শ্বাসনালী এবং গলার যত্ন নেওয়ার জন্য গার্গল করতে পারেন বা ভেপার নিতে পারেন এবং অবশ্যই আপনার কোনরূপ শারীরিক সমস্যা হলে নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যােগাযােগ করুন বা রাজ্য। কেন্দ্র হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করুন।
১০। ঠিক কারা বাড়িতে থাকতে পারেন যদি একটু বুঝিয়ে বলেন?
উঃ- যে সমস্ত ব্যক্তির মৃদু উপসর্গ বা উপসর্গহীন তারা বাড়িতে থাকতে পারেন। তৰে ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তি বা যাদের পূর্বের কোনাে অসুস্থতা আছে যেমন
ক) হার্টের অসুখ।
খ) মধুমেহ।
গ) দীর্ঘদিন ধরে কিডনির সমস্যা।
ঘ) দীর্ঘদিন ধরে লিভারের সমস্যা তারা ডাক্তারবাবুর পরামর্শ মেনে হাসপাতালে তাদের ক্লোজ মনিটরিং-এ থাকতে পারেন।
১১। বাড়ীতে থাকার ক্ষেত্রে আলাদা কোনাে মেডিসিন বা সতর্কতা নেওয়া যেতে পারে কি?
উঃ- মেডিসিনের ব্যাপারে অবশ্যই আপনার নিকটবর্তী ডাক্তারবাবু পরামর্শ দেবেন, আর বাড়ীতে আপনি পালস অক্সিমিটার রাখতে পারেন। আপনার শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা ৯৪ এর নীচে এলে সত্বর স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের হেল্পলাইন নম্বরে যােগাযােগ করুন।
১২। বাড়ীতে থাকার ক্ষেত্রে বাকিদের জন্য কি সাবধানতা অবলম্বন করবাে?
উঃ-বাড়ীতে আপনার থাকার জায়গা এবং বাথরুম অবশ্যই আলাদা হওয়া চাই। যদি তা থাকে তাহলেই আপনি বাড়িতে থাকতে পারবেন। সেক্ষেত্রে আপনি বাকিদের থেকে অন্তত ৬ ফুট দূরত্ব বজায় রেখে চলুন। যদি আপনার বাড়িতে আলাদা থাকার ঘর বা বাথরুম না থাকে তাহলে আপনি সরকার নির্ধারিত নিকটবর্তী সেফ হােম-এ থাকতে পারেন। যা বর্তমানে প্রায় প্রতিটি ব্লকেই আছে।
১৩। আপনার বাড়ির কারুর সংক্রমণ আপনার থেকে হয়নি?
উঃ-না। নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলায় তাদের কারুর সংক্রমণ ধরা পড়েনি।
১৪। র্যাপিড টেস্ট কখন করাতে হবে?
উঃ- যদি আপনি দীর্ঘ ১০ দিন উপসর্গহীন থাকেন অথবা মৃদু উপসর্গ ছিল কিন্তু এই ১০ দিনের মধ্যে আপনার শেষ তিনদিন কোনাে উপসর্গ দেখা দেয়নি তাহলে টেস্ট করানাের দরকার নেই। কিন্তু হাসপাতালে ভর্তির ক্ষেত্রে আপনার ডাক্তারবাবুই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
১৫। কিন্তু বর্তমানে যে ভয়ের বাতাবরণ আছে সে বিষয়ে কি বলবেন?
উঃ- অযথা আতঙ্কিত হবেন না। করােনার মৃত্যুহার দুই শতাংশেরও কম। কিন্তু যেহেতু সংক্রমণ বড়াে সংখ্যায় ছড়াচ্ছে তাই এই মৃত্যুহারও কম নয়। আপনি সাবধানতা অবলম্বন করুন এবং সরকার নির্ধারিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।
১৬। আপনাদের ক্ষেত্রে এই সংক্রমণের ব্যাপারে যদি কিছু বলেন ?
উঃ-স্বাস্থ্যকর্মীদের মৃত্যুহার কিছুটা বেশী। তার কারণ যেহেতু তাঁরা সর্বদাই সংক্রমিত ব্যক্তির পাশাপাশি থাকছেন তাই সংক্রমণের সম্ভাবনা কিছুটা বেশী এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে মানসিকভাবেও কিছুটা বিপর্যস্ত থাকছেন।
সেক্ষেত্রে আমার পরামর্শ হলাে ডাক্তারবাবুরাও পরিবারের সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সময় কাটান। রােটেশন ভিত্তিক ডিউটি করতে পারেন, প্রয়ােজনে মাঝে মাঝে মানসিক কাউন্সিলিংও করাতে পারেন।
১৭। বাকিদের জন্য কি বলবেন?
উঃ- কিছু মানুষ এখনাে আক্রান্তকে বা তাঁর পরিবারকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করছেন, একঘরে করছেন, সেটা করবেন না, রােগীর সঙ্গে লড়াই না করে রােগের সাথে লড়াই করুন। আক্রান্তকে সর্বতােভাবে সাহায্য করুন।
১৮। বাঁচার বর্তমান উপায় কি?
উঃ- ভ্যাকসিন আবিস্কার বা প্রয়ােগ না হওয়া পর্যন্ত সংক্রমণ এড়িয়ে চলুন। এক্ষেত্রে আপনি –
ক) অপ্রয়ােজনে বাড়ির বাইরে যাবেন না।
খ) ভীড়ের মধ্যে বা বাইরে মাস্ক ব্যবহার করুন।
গ) নিয়মিত হাত পরিস্কার রাখুন, সাবান দিয়ে হাত
ধুতে পারেন বা স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন।
ঘ) অন্তত ৬ ফুট দূরত্ব বজায় রাখুন।
ঙ) বাইরে থেকে বাড়িতে এলে অবশ্যই আগে পরিস্কার হয়ে বাড়িতে ঢুকুন।
১৯।কত ধরনের টেস্ট হচ্ছে?
উঃ-ক) র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট যার রিপাের্ট আপনি ১৫-২০ মিনিটের মধ্যে পেয়ে যাবেন।
খ) আরটিপিসিআর।
