নিজস্ব সংবাদদাতা , পুরুলিয়া
৮ অক্টোবর , ২০২০

পুরুলিয়ায় এই মূহুর্তে সর্বাপেক্ষা জরুরি হল, “মাস্ক মুভমেন্টকে মাস মুভমেন্টে নিয়ে যাওয়া” প্রস্তাব পুরুলিয়ার জেলা শাসক রাহুল মজুমদারের। বৃহস্পতিবার জেলা শাসক দপ্তরের সভাগৃহে এবছর পুজোর দিনগুলোতে করোনা সংক্রমণ কিভাবে এড়ানো সম্ভব, এ বিষয়ে জেলার জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়ের বৈঠক ডেকেছিলেন জেলা শাসক। এদিন জেলা শাসকের দাবি, পুরুলিয়ার মানুষের মধ্যে মাস্ক ব্যবহার না করার প্রবণতায় সংক্রমণ বেশি ছড়াচ্ছে। তিনি বলেন, পুলিশ প্রশাসন যথেষ্টভাবে মানুষকে সচেতন করছে। কিন্তু বাজার-হাট এমনকি জেলার হাসপাতালগুলিতেও মাস্ক বিহীন মানুষ ঘুরে বেড়াচ্ছেন। জেলা প্রশাসনের একগুচ্ছ পদস্থ আধিকারিক, জেলা স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিক, পুরুলিয়া জেলা পরিষদের স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ প্রমুখদের উপস্থিততে জেলা শাসক রাহুল মজুমদার এদিন সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, সমাজের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে তাঁরাও যেন মাস্ক ব্যবহার বিষয়ে সচেতনতার বিষয়টি জেলার মানুষের মধ্যে তুলে ধরেন।

এদিন বৈঠকে জেলা শাসকের দাবি, পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে পুরুলিয়া জেলায় করোনায় মৃত্যু হার সর্বাপেক্ষা কম, মাত্র ০.৫৩ শতাংশ। কিন্ত সংক্রমণের ক্রমবর্ধমান হারের কথা স্বীকার করে রাহুল মজুমদারের বক্তব্য, সংক্রমণের উর্ধমুখী গতি রুখতে সমাজের সকল স্তরের মানুষকে সচেতন ভাবে “মাস্ক মুভমেন্টকে মাস মুভমেন্টে” নিয়ে যেতে হবে। জেলাতে সংক্রমণের উর্ধমুখী গ্রাফ নিয়ে প্রশাসনও যে উদ্বেগে রয়েছে, তা একপ্রকার এদিন স্বীকার করে নিয়েছেন জেলা শাসক। যে কারনে সর্বস্তরের মানুষকে মাস্ক ব্যবহারের সচেতনতা গড়ে তুলতে আহ্বানও করেন তিনি।

দুর্গা পুজো এবং উৎসবের দিনগুলোতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নির্দিষ্ট গাইডলাইন মেনে পুজোর আয়োজন করার বিষয়ে পুজো কমিটিগুলিকে ইতিমধ্যেই জানানো হয়েছে, একথা জানিয়ে জেলা শাসক আরো বলেন, সংক্রমণ এড়াতে প্রাক্ পুজো বেশ কিছু সদর্থক পদক্ষেপও নিতে চলেছে জেলা প্রশাসন। তিনি বলেন, পুজোর আগে জেলার কাপড় দোকান, জুতোর দোকান, সপিং মল ইত্যাদি যে সমস্ত জায়গায় পুজোর কেনাকাটায় বহু জনসমাগম হয়, সেখানকার কর্মীদের অনেক বেশি পরিমাণে কোভিড পরীক্ষা করা হচ্ছে। এমনকি জেলার পর্যটন ক্ষেত্রগুলির লজ, হোটেল সহ থাকার জায়গাগুলির কর্মীদেরও নিয়মিত কোভিড পরীক্ষার প্রক্রিয়া শুরু করছে জেলা প্রশাসন। তিনি আরো বলেন, পর্যটন ক্ষেত্রগুলিতে বাইরের যাঁরা পর্যটক আসবেন উ‌ৎসবের মরশুমে, তাঁদেরও নির্দিষ্ট কোভিড পরীক্ষার মধ্য দিয়েই যেতে হবে বলেও জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত।

জেলা শাসকের বক্তব্য, এবছর রাজ্য সরকারের নির্দেশে পুজোর দিনগুলি উৎসবের দিন নয়। এগুলিকে কাজের দিন হিসেবেই পালন করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। ভরা উৎসবের মরশুমেও কোভিড পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্যাম্পেল কালেকশন, কোভিড টেষ্ট সহ অন্যান্য যাবতীয় স্বাস্থ্যবিধি সাধারণ দিনের মতই একইভাবে চালিয়ে যাওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার বলে জানান জেলা শাসক। তিনি বলেন, বর্তমানে দেবেন মাহাত সদর হাসপাতালে করোনা চিকিৎসার জন্য ৬০ টি বেড এবং রোটারি হাসপাতালে ৪০ টি বেড আছে করোনা চিকিৎসার জন্য। পুরুলিয়ার এই দুটি চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসা পরিষেবাও অনেক উন্নত মানের, একথা উল্লেখ করে জেলা শাসকের দাবি, কিন্তু উৎসবের দিনগুলিতে মানুষ অসচেতন থাকলে সংক্রমণ অধিক মাত্রায় ছড়াবে। ফলে হাসপাতালে বেড খালি পাওয়ার ক্ষেত্রে অসুবিধে।

যে কারনে প্রতিটি পৌর এলাকা এবং ব্লকের বড় পুজোগুলিতে যেখানে জনসমাগম অনেক বেশি হয়, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলিকে দর্শনার্থীদের মাস্ক এবং স্যানিটাইজার বিতরণ করা বাধ্যতামূলক বলে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে জানান রাহুল মজুমদার। এমনকি বড় পুজোগুলিতে ভিড়ের কারনে সংক্রমণের সম্ভবনা কমাতে ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি চালানো হবে বলেও এবছর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। জেলা শাসক বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি পৌর এলাকার পুজো কমিটিগুলিকে ৫০ হাজার মাস্ক এবং ১ লক্ষ স্যানিটাইজার দর্শনার্থীদের বিতরণের জন্য দেওয়া হবে।

পুজোর সময় জনবহুল এলাকাগুলিতে এবছর অনেক বেশি পরিমাণে স্বাস্থ্য ক্যাম্প থাকবে বলেও জানান জেলা শাসক। পুজোর আগেই জেলার স্বাস্থ্য কর্মী ও অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভারদের সঙ্গে বৈঠকও করবে প্রশাসন। জেলা শাসকের বক্তব্য, পুজোর সময় যাতে অ্যাম্বুলেন্সের কৃত্রিম ক্রাইসিস সৃষ্টি না হয়, তারজন্য কড়া নির্দেশ দেওয়া হবে। এদিন বৈঠকে আগাগোড়াই জেলা শাসক তাঁর বিভিন্ন বক্তব্যের মধ্যে সংক্রমণ এড়ানোর বিষয়ে সর্বাপেক্ষা অধিক ফলদায়ী পদ্ধতি মাস্ক ব্যবহারের ওপরই জোর দিয়েছেন। মূলত উৎসবের মরশুমে সচেতনভাবে জেলাতে মাস্ক আন্দোলনকে গণ আন্দোলনের রূপ দিতে হবে বলেই এদিনের বৈঠকে জেলা শাসকের আহ্বান।

শেয়ার করুন

You cannot copy content of this page