নিজস্ব সংবাদদাতা, পুরুলিয়া, ২২ মার্চ ২০২২ঃ

পুরুলিয়া দেবেন মাহাত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে গ্রুপ ডিতে কর্মী নিয়োগের প্রতারণা চক্র ফের সক্রিয় হয়ে পড়েছে জেলা জুড়ে। ইতিমধ্যে রীতিমতো মেডিক্যাল কলেজের ভুয়ো নোটিফিকেশন বের করে প্রতারকরা বেকার যুবক যুবতীদের নিজেদের প্রতারণার জালে জড়ানোর চেষ্টা শুরু করেছে। এমনকী ইন্টারভিউ থেকে নিয়োগপত্র সবই ভুয়ো দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। বিষয়টি জানাজানি হতেই হৈচৈ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে মেডিক্যাল কলেজকে কেন্দ্র করেই বারবার এধরনের প্রতারণা চক্র কেন সক্রিয় হয়ে পড়ছে তানিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে।

স্থানীয় ও মেডিক্যাল কলেজ সূত্রে জানাগিয়েছে, সম্প্রতি মেডিক্যাল কলেজের একাধিক পদে কর্মী ও আধিকারিক নিয়োগের একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। তার পরেই চতুর্থ ৫৬ জন কর্মী নিয়োগের একটি ভুয়ো বিজ্ঞপ্তি ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভুয়ো বিজ্ঞপ্তিতে রাজ্য সরকারের লোগোও ব্যবহার করা হয়েছে। ওই ভুয়ো বিজ্ঞপ্তিতে কর্মী নিয়োগে শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনও মানদন্ড রাখা হয়নি। মার্চ মাসের ৩০ তারিখ সকাল এগারোটার সময় মেডিক্যাল কলেজই ইন্টারভিউ নেওয়া হবে বলে লেখা রয়েছে ওই ভুয়ো নিয়োগপত্রে। মেডিক্যাল কলেজ সূত্রে জানাগিয়েছে, ৫৬ জন চতুর্থ শ্রেণির কর্মী নিয়োগের যে বিজ্ঞপ্তি বাজারে ছড়িয়ে পড়েছে তা ভুয়ো। কর্মী নিয়োগের আসল বিজ্ঞপ্তি মেডিক্যাল কলেজ এবং পুরুলিয়া জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইটে আপলোড করা রয়েছে বলে মেডিক্যাল কলেজ সূত্রে জানাগিয়েছে।

প্রসঙ্গত, মেডিক্যাল কলেজে কর্মী নিয়োগকে কেন্দ্র করে বারবার প্রতারণা চক্র সক্রিয় হয়েছে জেলা জুড়ে। ইতিমধ্যে মোটা টাকার বিনিময়ে ভুয়ো নিয়োগপত্র দিয়ে কর্মীদের মাসের পর মাস মেডিক্যাল কলেজের হাতুয়াড়াতে ঘুরে বেড়ানোর কাজ দিয়েছিল প্রতারকরা। এমনকী তাদের কলেজ চত্বরেই আলাদা হাজিরার ব্যবস্থাও করেছিল। মাসের পর মাস এভাবে চলার পর বেতন না পেতেই বুঝতে পেরেছিলেন প্রতারিত যুবক যুবতীরা। এমনকী নিয়োগপত্রে মেডিকাল কলেজের অধ্যক্ষের স্বাক্ষরও জাল করা হয়েছিল। সেসময় কলেজের পক্ষ থেকে পুলিস সুপারের কাছে এবিষয়ে লিখিত অভিযোগও করা হয়েছিল বলে জানাগিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানাগিয়েছে, মোটা টাকার বিনিময়ে কর্মী নিয়োগের এই প্রতারণা চক্র পুরুলিয়া শহর সহ জেলার প্রত্যন্ত এলাকাগুলিতেও নিজেদের জাল বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে। একাধিক থানাতে কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করেছে পুলিস। তবে এই চক্রের আসল মাথারা এখনও অধরা। নামমাত্র দুএকজনকে গ্রেপ্তার করেই পুলিস তদন্ত কার্যত গুটিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ। অন্যদিকে ওই প্রতারণা চক্রে মেডিক্যাল কলেজেরও একাংশের জড়িত থাকার সম্ভাবনা প্রবল বলে পুলিস সূত্রে জানাগিয়েছে। কলেজের কেউ জড়িত না থাকলে এতটা নিপুণ দক্ষতায় দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা চক্র চালানো সম্ভব নয় বলে মনে করছে পুলিস। এবিষয়ে পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিষয়টি শুনেছি। বারবার কেন মেডিক্যাল কলেজকে কেন্দ্র করেই প্রতারণা চক্র সক্রিয় হয়ে পড়ছে তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, অনেকেই চাকুরির লোভে মোটা টাকাও দিয়ে দিচ্ছেন প্রতারকদের। পরে প্রতরণার বিষয়টি বুঝতে পেরে আমাদের কাছে আসছেন। এবিষয়ে মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে।

এবিষয়ে মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ পীতবরণ চক্রবর্তী বলেন, ভুয়ো নিয়োগের নোটিফিকেশনের বিষয়টি নজরে আসার পরই পুলিসকে জানানো হয়েছে। এফআ‌ইআরও করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমার স্বাক্ষর এবং সরকারি লোগো নকল করা হয়েছে। এর আগেও এধরনের ঘটনা ঘটেছিল। তারপর পুলিসের তৎপরতায় কিছুদিন বন্ধ থাকলেও ফের প্রতারকরা সক্রিয় হয়ে পড়েছে। কর্মী কেউ যুক্ত আছে কি না তা আর আমি খুঁজে বের করতে পারবো না। কেউ জড়িত থাকলে পুলিসকেই খুঁজে বের করতে হবে। এধরণের প্রতারণার ফাঁদে যাতে কেউ না পড়েন সেবিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতনও করা হবে।

শেয়ার করুন

You cannot copy content of this page