নিজস্ব সংবাদদাতা , পুরুলিয়া
২৯ সেপ্টেম্বর , ২০২০
এ বছর কোন রাজেটই নেই পুজো কমিটিগুলির। আর তাই কোন অডারও এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। খুবই সঙ্গীণ পরিস্থিতি ব্যবসার এ বছর’, বলছিলেন পুরুলিয়ার ব্যানার্জী ইলেকট্রিকের কর্ণধার চন্দন ব্যানার্জী। জেলার আলােক শিল্পীরা দুর্গা পুজোর সময় বড় অডারের অপেক্ষায় বসে থাকেন সারাবছর। এবছর বাধ সেধেছে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি।চন্দন ব্যানার্জী জানান, প্রতিবছর চার-পাঁচটা পুজো কমিটির আলােক সজ্জার অর্ডার ধরি। তিন-সাড়ে তিন লক্ষ টাকার কাজ হয়। এ বছর এখনাে হাতে কোন অর্ডার নেই।পাওয়ার সম্ভবনাও অত্যন্ত ক্ষীণ। কেননা অধিকাংশ পুজো কমিটি নাকি জানিয়েই দিয়েছে, তাদের কোন বাজেটই নেই এবছর।
তাই আলােক সজ্জার কাজ যে এবার মাঠে মারা পড়ছে তা মােটামুটি অনুমান করে নিয়েছেন আলােক শিল্পীরা। একই পরিস্থিতি জেলার ডেকোরেটার্সদেরও। এখনাে অর্ডার নেই পুজো প্যান্ডেলের। অডার পাওয়ার আশাও যে নেই, তেমনই ধরে নিয়েছেন।
ফলে প্রত্যেকেরই মাথায় হাত পড়েছে। ডেকোরেটর্সদের সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রচুর শ্রমিক। তাদেরই বা কিভাবে বেতন দেবেন, সেই চিন্তায় কপালে ভাঁজ পড়েছে প্যান্ডেল ব্যবসায়ীদেরও। ব্যানাজী ইলেকট্রিকের কর্ণধার চন্দন ব্যানার্জী বলেন, ফেব্রুয়ারি মাসে চন্দননগরে নতুন থিমের অর্ডার দিয়ে রেখেছিলাম।কথা ছিল পুজোর একমাস আগেই অডারের সময় পার্টির দেওয়া অ্যাডভান্স পেলেই আনিয়ে নেব। কিন্তু সমস্তই ভেস্তে গেল এ বছর। এখনাে কোন পুজোর অর্ডারই পাইনি।
সরকার ইলেকট্রিকের চন্দন সরকার কিংবা পাপ্পু ইলেকট্রিকের পাপ্পু ভট্টাচাৰ্য্যরও একই কথা। চন্দন সরকার বলেন, গত বছর গ্রাম-শহর মিলিয়ে গােটা পাঁচেক পুজোর আলােক সজ্জার কাজ করেছিলাম। এবার এখনাে অর্ডার নেই। বিগত বেশ কয়েকবছর ধরে গ্রাম-শহর মিলিয়ে পাঁচ-ছটি পুজোর আলােকসজ্জার কাজ করেন পাপ্পু ভট্টাচার্য। মােট প্রায় সাড়ে চার থেকে পাঁচ লক্ষ টাকার কাজ হয়। কিন্তু এ বছর কুড়ি হাজার টাকার কাজও হবে কি না সন্দেহ, বলছেন পাপ্প ইলেকট্রিকের কর্ণধার।
একেবারে একই অবস্থা জেলার ডেকোরেটর্সদেরও | আভা ডেকোরেটর্সের কর্ণধার শুভ্রকান্তি দাসের কথায়, চরম দুর্বিসহ পরিস্থিতি। বিগত কয়েক বছর ধরে দুর্গা পুজোর প্যান্ডেলের যে কাজ করি, তার ১০ শতাংশও এবার হবে না, বলছেন শুভ্রকান্তি বাবু। অন্ততঃ প্রাথমিক আলােচনায় নাকি জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ওনার ধরাবাঁধা পুজো কমিটিগুলির কোনােটাই নাকি এবার প্যান্ডেলের দিকে যাচ্ছে না। কারণ বাজেট নেই। একই অবস্থার কথা বলছেন সেনগুপ্ত ডেকোরেটর্সের কর্ণধার স্বপন সেনগুপ্ত। উনি বলেন, এখন যদি একহাজার টাকার অর্ডারও পাই, তাও অনেক পেলাম বলে মনে করবাে। সাধারণত, পুজোর সময় ডেকোরেটর্স ব্যবসায়ীরা ব্যবসায় বিভিন্ন সামগ্রীতে(কাপড়, ত্রিপল, বাঁশ ইত্যাদি) বিনিয়ােগ করেন। সারা বছর সেই সমস্ত দিয়ে প্যান্ডেলের কাজ করে থাকেন।
সাঁওতালডির বাসিন্দা তথা পুরুলিয়া জেলা ডেকোরেটর্সসমন্বয় সমিতির সম্পাদক অলক সরকার জানিয়েছেন, শুধু এবার পুজোয় নয়। বিগত সাত মাসে ডেকোরেটর্স ব্যবসায়ীদের চরমতম কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়েছে। বিগত বহু সরকারি প্যান্ডেলের পেমেন্ট অনেকেরই এখনও বাকি পড়ে রয়েছে, যেগুলির পেমেন্ট সংশ্লিষ্ট ডেকোরেটর্স ব্যবসায়ীরা পাননি। তাছাড়া গত সাত মাস ধরে ডেকোরেটর্স ব্যবসায়ীরা পুঁজি ভেঙ্গে নিজেদের লেবার পেমেন্ট চালিয়ে যাচ্ছেন। এর ওপর এ বছর পুজোতে কারােরই কেনাে অর্ডার নেই। সব মিলিয়ে চরম দুর্বিষহ অবস্থা। অলকবাবুর বক্তব্য, ডেকোরেটর্স ব্যবসার সঙ্গে বড় সংখ্যায় শ্রমিক জড়িয়ে। পুজোর সময় এ বছর তাদের বােনাস দেওয়া তাে দূর অস্ত এমনকি জেলার অধিকাংশ ডেকোরেটর্স। ব্যবসায়ী লেবার পেমেন্টই করতে পারছেন বলে জানিয়েছেন অলক সরকার। ফলে শুধু প্যান্ডেল ব্যবসায়ীরাই নন, এই ব্যবসার সাথে জড়িয়ে জেলার গ্রামাঞ্চলের বহু শ্রমিকও এ বছর পুজোয় চরম আর্থিক দুর্গতিতে পড়তে চলেছেন।
শেয়ার করুন