নিজস্ব সংবাদদাতা , পুরুলিয়া
১০ আগস্ট , ২০২০
গেঙ্গাড়া গ্রামের পঞ্চাশোর্ধ বাসিন্দা হারাধন দে এসেছিলেন তাঁর “ডাগর” মেয়েকে নিয়ে গেঙ্গাড়া উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। মেয়ের পিঠে ফোঁড়ার মত কিছু উপসর্গের চিকিৎসার কারনে। ফ্রক পরা ডাগর মেয়ের কথা শুনেই এই উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এ এন এমকে চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান করতে হল। উপসর্গটির পর্যবেক্ষণের উপায় নেই। কারন চলতি বছরের ৭ ই মে থেকে এই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি চলছে কমিউনিটি হলে। এখানের খোলা পরিবেশে মহিলাদের চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান করার ক্ষেত্রে চরম সমস্যায় পড়েছেন চিকিৎসা কর্মীরা। এপ্রিলের শেষে উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ছাদের বড় চাঁই ভেঙে পড়েছে দুটি ঘরের। ফার্স্ট এ এন এম রম্ভাবতী মাহাতর কথা, “একেবারে ভাগ্যের জোরে আমরা বেঁচে গেছি সেদিন”। এরপরই কুস্তাউর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বি এম ও এইচ এবং পুরুলিয়া ২ ব্লকের বিডিওর তত্ত্বাবধানে ৭ মে রাস্তার উল্টোদিকের কমিউনিটি হলে সাময়িকভাবে উঠে আসে কেন্দ্রটি।

প্রসঙ্গত পুরুলিয়া ২ ব্লকের অন্তর্গত রাঘবপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের গেঙ্গাড়া উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি বিগত ৮০-র দশকের শুরুতে আই পি পি প্রকল্পের অধীন নির্মিত হয়। জানা যায় নির্মাণ পরবর্তী সময় থেকেই কিছু ত্রুটির কারনে উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ছাদ চুঁয়ে জল পড়ত। পরবর্তীকালে ২০১৪-১৫ সালে পরিস্থিতি সামাল দিতে তৎকালীন কুস্তাউর বি এম ও এইচ-এর প্রচেষ্টায় পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে মেরামতির কাজ করানো হলেও সে সমস্যার সমাধান হয় না।
কেন্দ্রের সেকেন্ড এ এন এম ডলি মাহাত বলেন, “বিষয়টি বারবারই জেলা স্বাস্থ্য দফতর, গ্রাম পঞ্চায়েত সহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে জানানো হয়েছিল। এমনকি পঞ্চায়েতের প্রত্যেক চতুর্থ শনিবারের উন্নয়ন বৈঠকের এজেন্ডা কপিতেও প্রত্যেক বার বলা হয়েছিল”।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, এরপর ২০১৫-১৬ বর্ষে জেলা স্বাস্থ্য দফতর ও ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেন্দ্রটির পরদর্শনও করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারি বাস্তুকাররা আসেন, উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জমির উপর মাপ-জরিপ করেন, আশ্বাস পাওয়া যায় পুরনো কাঠামো ভেঙে নতুন করে পুরো সেন্টারটি গড়ে তোলা হবে। তবে ওই পর্যন্তই। ওই অবস্থাতেই দিনের পর দিন চরম ঝুঁকি নিয়ে এই কাঠামোতেই চলতে থাকে উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসা পরিষেবার কাজ। কর্মীরা মাঝে মাঝেই প্রধান সহ প্রশাসনিক দফতরে বিষয়টির সমাধানের আর্জি জানান, তবে ফল হয় না।
এদিকে দফতরের এই গড়িমসির কারনে নির্মাণ ত্রুটিপূর্ণ উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির দুটো ঘরের ছাদের বড় বড় চাঁই চলতি বছরের এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি ধ্বসে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে ব্লক প্রশাসনকে জানানো হয় ঘটনা। বিডিও কেন্দ্রটি দেখে রাস্তার উল্টো দিকের কমিউনিটি হলে সাময়িকভাবে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কাজ চালু রাখার ব্যবস্থা করেন। গত ৭ মে থেকে বর্তমানে এই উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একজন প্রশিক্ষিত ধাই মা সহ মোট চারজন কর্মী। ফার্স্ট এ এন এম রম্ভাবতী মাহাত জানান, “মাসে গড়ে তিন থেকে চারশ রুগী এখানে চিকিৎসা পরিষেবার জন্য আসেন। চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যা গর্ভবতী ও প্রসূতি মা ও শিশুদের চিকিৎসা পরিষেবার বিষয়টিতে। প্রত্যেক সপ্তাহে গড়ে প্রায় ১৫০-র মত এই ধরনে মহিলা ও শিশুদের টিকা করণ সহ অন্যান্য চিকিৎসা পরিষেবা করা হয়। এই কমিউনিটি হলে গোপনীয়তার বন্দোবস্ত না থাকায় মহিলাদের চিকিৎসায় চরম অসুবিধা হচ্ছে। এমনকি সরকারি পরিবার পরিকল্পনার পরিষেবা প্রায় হচ্ছেই না”।
কেন্দ্রের সেকেন্ড এ এন এম ডলি মাহাত ও সদ্য জুলাই মাস থেকে যোগ দেওয়া কমিউনিটি হেল্থ অফিসার করবী দাস বলেন, ছাতের চাঁই ভেঙে ব্লাড প্রেসার পরিমাপ যন্ত্র সহ আরো বেশ কিছু চিকিৎসা সরঞ্জাম ভেঙে গেছে। ফলে অসুবিধেয় পডেছি আমরা। তাদের আরো দাবি, এখানে কমিউনিটি হলে টয়লেট না থাকায় কেন্দ্রের মহিলা কর্মীদের এবং চিকিৎসা করাতে আসা গর্ভবতী মহিলাদের ভীষণ সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
রম্ভাবতী মাহাতর বক্তব্য তাঁরা পঞ্চায়েত, বি এম ও এইচ ও ল্লক প্রশাসনের সঙ্গে ক্রমাগত যোগাযোগ রেখেছেন এব্যাপারে। আশ্বাস পাওয়া গেছে ফান্ড এসে গেছে, পুরনো কাঠামো ভেঙে খুব শীঘ্রই নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে যাবে। তবে কবে, তার সঠিক কোন দিনক্ষণ জানা য়ায়নি। এদিকে এলাকার মানুষ প্রশাসনিক গড়িমসির বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ।
