নিজস্ব সংবাদদাতা , পুরুলিয়া
২২ সেপ্টেম্বর , ২০২০
গত ১৫ বছর ধরে অসমাপ্ত গেঙ্গাড়া কমিউনিটি হল।গ্রামের মানুষেরশত আবেদনেও সাড়া পাওয়া যায়নি প্রশাসনের। তাই রীতিমতাে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন গ্রামের বাসিন্দারা।
২০০৫ সালের মাঝামাঝি তৎকালীন তৃণমূল পরিচালিত পুরুলিয়া-২ পঞ্চায়েত সমিতির উদ্যোগে রাঘবপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত গেঙ্গাড়া গ্রামে একটি কমিউনিটি হল গড়ে তােলার জন্য তহবিল অনুমােদন করা হয়। পঞ্চায়েত সমিতির পক্ষে টেন্ডার করে কাজও শুরু হয় যথারীতি। গ্রামেরই বাসিন্দা ঠিকাদার ও সুপারভাইজারের তত্ত্বাবধানে ভিত খোঁড়ার কাজও হয়ে যায় বছরের শেষ নাগাদ। সে সময় পুরুলিয়া-২ তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ছিলেন তপন মুদি। কিন্তু এরই মধ্যে সমিতির বাের্ড পরিবর্তন হয়ে যায়। ক্ষমতার দখল যায় সিপিআইএম-এর হাতে। সমিতির সভাপতি হন সদানন্দ দাস। তখন গ্রাম পঞ্চায়েতে গ্রামের সদস্য ছিলেন সিপিআইএম-এর সুফল বাউরী। নির্মাণ কাজের ঠিকাদারও পরিবর্তন হয়। এরপর পরবর্তী ছ’মাসে নির্মাণ কাজ জানালা দরজার লিন্টেনের ঢালাইয়ের ওপর ইটের গাঁথনি পর্যন্ত করা হয়ে যায়। তবে ছাদ ঢালাই হয় না। বর্তমানে গত ১৫ বছর ধরে পলেস্তরাহীন, দরজা-জানালাহীন, ছাদবিহীন অর্ধসমাপ্ত নির্মাণের দেওয়ালগুলি থেকে ইট ধ্বসে পড়ছে, অসমাপ্ত নির্মাণের ভেতরেই গজিয়েছে আগাছার জঙ্গল। গ্রামের মানুষেরা নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ করার আবেদন করেছেন বহুবার। কিন্তু প্রশাসনের টনক নড়েনি।
গ্রামের বাসিন্দা প্রশান্ত কুমার দে, জয়দীপ চৌধুরী, মােহন দে-রা বলছেন, সে সময় অত্যন্ত নিম্নমানের সিমেন্ট, ছড় সহ ঢালাই সামগ্রী দিয়ে ছাদ ঢালাই করতে উদ্যত হয়েছিলেন ঠিকাদার। গ্রামবাসীরা উন্নতমানের সামগ্রী দেওয়ার দাবি নিয়ে নিম্নমানের সামগ্রী দিতে বাধা দেন। তখন থেকেই বন্ধ হয়ে যায় নির্মাণ কাজ। গ্রামের বাসিন্দা তথা তৎকালীন অঞ্চল সদস্য সুফল বাউরীও অবশ্য গ্রামবাসীদের এই দাবি মেনে নিয়েছেন।
বাসিন্দা কালীপদ বাউরী, মনােরঞ্জন বাউরী, সতীশ মাহাতরা বলছেন, গ্রামে ভীষণভাবে জায়গার অভাব। এই কমিউনিটি হল নির্মাণ সম্পূর্ণ হলে গ্রামবাসীদের পারিবারিক ছােটখাটো অনুষ্ঠানে বিশেষ সুবিধা হত। প্রশান্ত কুমার দে, সুফল বাউরীরা বলছেন, বহুবার নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ করার আবেদন জানিয়ে গ্রামবাসীদের পক্ষ থেকে লিখিত আবেদনও করা হয়েছে ব্লকে। কিন্তু কোনাে সুরাহা হয়নি।
যােগাযােগ করা হয়েছিল তপন মুদির সঙ্গে। ১৫ বছর আগে ঠিক কত টাকা অনুমােদন করা হয়েছিল কাজটির জন্য তা তিনি সঠিক মনে করতে পারেননি। তবে বলেন, ‘আনুমানিক পাঁচ লক্ষের মত হতে পারে। তিনি আরাে বলেন, যেহেতু সমিতির বাের্ড পরিবর্তন হয়ে যায় তাই কাজ বন্ধ হওয়ার সঠিক কারণ তাঁর অজানা। তবে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযােগের বিষয়টি তিনি লােকমুখে শুনেছিলেন।
শেয়ার করুন